1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

টাঙ্গাইলের ঘটনা পুলিশকে দায়মুক্তি দেয়ার সাংবাদিকতা

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ১৫ দেখা হয়েছে

টাঙ্গাইলের কালিহাতি একটি ঘটনা ঘটেছে গত মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর। অভিযোগ, ছেলের সামনে মায়ের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। ‘শ্লীলতাহানির’ মাত্রা নিয়ে এলাকাবাসী ও পুলিশের মধ্যে বিরোধী বক্তব্য আছে। স্থানীয় অনেকে বলছেন, ধর্ষণ করা হয়েছে। আর পুলিশ বলছে, বিবস্ত্র করা হয়েছে শুধু।

যেই অভিযোগই সঠিক হোক, ঘটনাটি জানাজানির পর শুক্রবার বিকালে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ শেষে পার্শ্ববর্তী থানা ঘেরাও করতে রওয়ানা হয়। এসময় পুলিশ তাদের বাঁধা দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশের গুলিতে বহু আহত হন। তাদের মধ্যে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসী দুইজন মারা গেছেন (সংখ্যা আরো বাড়তে পারে)।

এই হচ্ছে সংবাদ।

এখন দেখা যাক এই সংবাদ বিভিন্ন পত্রিকার অনলাইনে কিভাবে আসছে?

বাংলানিউজের শিরোনাম- “টাঙ্গাইলে সংঘর্ষে নিহত ২”। দুই পক্ষের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। যেন খুবই সাদামাঠা ব্যাপার! কিন্তু প্রকৃতবাস্তবে বিষয়টা মোটেও সাদামাঠা নয়। এখানে মানবাধিকারের গুরুতর প্রশ্ন জড়িত। কারণ, গুলিকারী পক্ষ একটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা। আর মারা যাওয়া লোকজন প্রতিবাদরত নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ। জাতিসংঘের মানবাধিকার কনভেনশনের দৃষ্টিতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিরস্ত্র মানুষের নিহত হওয়া মানবাধিকারের সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্তরের লংঘনগুলোর মধ্যে একটি।

বাংলানিউজের শিরোনামে পক্ষগুলোর মধ্যে ‘নিরাপত্তা বাহিনীর’ সংশ্লিষ্টতা লুকানো হয়েছে। একই অবস্থা সংবাদের ভেতরেও। পুরো সংবাদটি এই লিংকে আছে- http://www.banglanews24.com/fullnews/bn/426584.html ।

এখানে দেখা যাচ্ছে সংবাদটি শুরু করা হয়েছে এভাবে–

“টাঙ্গাইলে পুলিশ- এলাকাবাসী সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। ‘গুলিবিদ্ধ’ বাকি ৬ জনের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ১৫ সেপ্টেম্বর কালিহাতীতে ছেলের সামনে মাকে ধর্ষণের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে ঘাটাইল-কালিহাতী এলাকাবাসী মিছিল বের করে। এ মিছিলে বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ঘাটাইল উপজেলার সাতুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফারুক (৩২) ও কালিয়া গ্রামের আলহাজের ছেলে শামীম (৩৫)।”

অর্থাৎ, সংবাদের ইন্ট্রোতে এবং পরবর্তীতে প্যারাগুলোতে নিহত হওয়ার কারণ হিসেবে ‘সংঘর্ষ’র কথা বলা হয়েছে। সংঘর্ষের মধ্যে কার হাতে এরা নিহত হলেন? প্রতিপক্ষে থাকা পুলিশের হাতে, নাকি নিজেদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝির কারণে? এর কিছুই পরিস্কার নয়। আবার পিটুনী/কোপ খেয়ে নাকি দৌড়াতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে মারা গেলেন, তাও বুঝা যাচ্ছে না। নাকি পুলিশের লাঠিচার্জে অথবা গুলিতে মারা গেছেন? কিছুই বলা নেই ইন্ট্রোতে! অথচ, এটা ইন্ট্রোতে পাঠককে জানানো প্রতিবেদকের কর্তৃব্য।

এই সংবাদের ইন্ট্রোতে আরেকটি লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হল, ‘গুলিবিদ্ধ’ শব্দটিতে উদ্ধরণ কমার ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া। অর্থাৎ, বাংলানিউজের প্রতিবেদক আহতদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত নন, অথবা তিনি দায়িত্ব নিয়ে (পুলিশের) গুলির তা বলতে চান না।

ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিতে গিয়ে সংবাদের শেষের দিকে বাংলানিউজ অবশ্য জানাচ্ছে যে, নিহতরা আসলে পুলিশের গুলিতেই আহত হয়ে মারা যান।

সংবাদ থেকে উদ্ধৃত–

“পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড শটগানের গুলি ছুড়লে সাতজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের কালিহাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে ফারুককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। গুরুতর আহত শামীমকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে পথেই তার মৃত্যু হয়।”

ঘটনা বর্ণনার সময় গুরুত্বপূর্ণ (ষড়-ক এর অন্তর্ভূক্ত) যে তথ্যটি বাংলানিউজ পাঠককে জানাচ্ছে সেটি কেন শিরোনাম, ইন্ট্রোতে এড়িয়ে যাওয়া হল? তথ্যটিকে অগুরুত্বপূর্ণ করা ছাড়া আর কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে? অগুরুত্বপূর্ণ করে তুলে ধরার সুবিধাটা কী? পুলিশের গুরুতর মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগটি হালকা হয়ে যাওয়া।

শুধু বাংলানিউজ নয়, আরো কয়েকটি পত্রিকার অলনাইনে সংবাদটির উপস্থাপনা পরখ করা যাক–

বিডিনিউজ– “টাঙ্গাইলে ‘ধর্ষণের ঘটনায়’ সংঘর্ষ, নিহত ২ ”

সমকালের শিরোনাম– “টাঙ্গাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ২” (http://www.samakal.net/2015/09/18/162883)

যুগান্তরের শিরোনাম– “পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে নিহত ২ [ভিডিওসহ]” (http://www.jugantor.com/current-news/2015/09/18/325722)

বাংলাদেশ প্রতিদিন– “টাঙ্গাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ৩৫” (http://www.bd-pratidin.com/high-lits/2015/09/18/107304)

ব্যতিক্রম পাওয়া গেছে প্রথম আলো এবং মানবজমিন পত্রিকার অনলাইনকে। মানবজমিনের শিরোনাম- “টাঙ্গাইলে পুলিশের গুলিতে নিহত ২”। আর প্রথম আলো শিরোনাম করেছে- “প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের গুলি, নিহত ২”। অর্থাৎ এই শিরোনামগুলোতে পুলিশের দায়টি পরিস্কার।

……………..

লেখাটি কদরুদ্দীন শিশিরের ব্লগ- bdmediawatch.wordpress.com থেকে নেয়া।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com