1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

টিআইবি’র গবেষণা প্রতিবেদনে তথ্য- চার বছরে পাবলিক পরীক্ষায় ৬৩টি প্রশ্ন ফাঁস

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০১৫
  • ২৭ দেখা হয়েছে
  • ড. ইফতেখারুজ্জামান ।
  • প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সরকারি লোকজন জড়িত
  • সবচেয়ে বেশি ফাঁস ২০১৩-’১৪ সালে
  • প্রশ্ন প্রতি ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন
  • জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ সাত দফা সুপারিশ
  • শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবার মতামত দেয়নি –
  •  : গত চার বছরে সকল ধরনের পাবলিক পরীক্ষায় মোট ৬৩টি প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে ২০১৩ ও ’১৪ সালে এ সময় জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার (পিইসিই) সব প্রশ্ন ফাঁস হয়। প্রশ্ন প্রণয়ন ও বিতরণের সঙ্গে যে সকল সরকারি লোকজন জড়িত তাদের একাংশ কোনো না কোনো পর্যায়ে প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গেও জড়িত। আর একেকটি প্রশ্ন ফাঁসে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়ে থাকে।

গতকাল বুধবার সকালে নগরীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে নিজস্ব সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত‘পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস : প্রক্রিয়া, কারণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন উদ্বেগজনক তথ্য ওঠে এসেছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সংস্থার গবেষণা ও পলিসি বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার রুমানা শারমিন এবং নিহার রঞ্জন রায়। উক্ত গবেষণায় আরো সংযুক্ত ছিলেন একই বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার নীনা শামসুন নাহার। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, উপ-নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের, রিসার্চ এন্ড পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান প্রমুখ।
প্রশ্ন প্রণয়ন, মুদ্রণ ও বিতরণের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের একাংশের সম্পৃক্ততা, প্রশ্ন ফাঁসের ব্যাপারে উচ্চ পর্যায় থেকে অস্বীকারের প্রবণতা, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া এবং এ সংক্রান্ত অভিযোগের ব্যাপারে যথাযথ প্রশাসনিক পদক্ষেপের ঘাটতির প্রেক্ষাপটে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রশ্ন ফাঁস রোধে সংশ্লিষ্ট আইন পুনরায় কঠোরতর করে কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
প্রশ্ন ফাঁসের প্রক্রিয়া ও কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি এর থেকে উত্তরণের জন্য সুপারিশ প্রণয়ন করার লক্ষ্যে গবেষণাটি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তথ্যের বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই সময়কালের মধ্যে পরিচালিত হয়। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে (২০১২-’১৫) বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় মোট ৬৩টি প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০১৩ ও ’১৪ সালে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় জেএসসি ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সকল প্রশ্ন ফাঁস হয়। প্রশ্ন ফাঁস প্রতিরোধে গৃহীত সরকারি পদক্ষেপসমূহের মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালে পিইসি ও ২০১৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িতদের মধ্যে চার জনকে গ্রেফতার, থানায় অভিযোগ ও মামলা দায়ের, পরীক্ষা কেন্দ্র স্থগিত, ২০১৪ সালে এইচএসসি পরীক্ষার ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা স্থগিত করাসহ নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া প্রশ্ন ফাঁস রোধে বিজি প্রেসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে প্রশ্ন শাখায় মেটাল ডিটেক্টর, পেপার ডিটেক্টর, ভল্ট ডোর, নতুন গোপন ক্যামেরা, সিসিটিভি বসানো হয়েছে এবং মুদ্রিত প্রশ্ন সিলগালা করতে স্ট্রংরুম তৈরি করা ইত্যাদি। তবে এসকল পদক্ষেপ সত্ত্বেও নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে অস্বীকারের প্রবণতা, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব, তদন্ত কমিটির ফলাফল জনসম্মুখে প্রকাশ না করা এবং প্রশ্ন প্রণয়নে দীর্ঘ সময় সাপেক্ষ, ম্যানুয়েল প্রক্রিয়া ও সরকারি সকল অংশীজনের সংশ্লিষ্টতার কারণে প্রশ্নফাঁস অব্যাহত রয়েছে।
গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, প্রশ্ন প্রণয়ন, ছাপানো ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন ফাঁসের সম্ভাব্য বিভিন্ন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে – একই শিক্ষকের প্রতিবছরই প্রশ্ন প্রণেতা ও মডারেশনকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া, প্রশ্ন প্রণয়নকারী ও মডারেশনকারীর একাংশ প্রশ্নপত্র প্রণয়নকে পুঁজি করে নিজ নিজ স্কুল ও কোচিং সেন্টারে অর্থের বিনিময়ে সাজেশন বিতরণ, ম্যানুয়ালি গণনা ও প্যাকেট করা, কম্পোজ ও সংরক্ষণের সময়, প্রশ্ন এন্ট্রি করার সময়, ভুলত্রুটি পরিমার্জনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মডারেটর মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে যান যে তার প্রশ্নগুলো নির্বাচিত, কম্পোজের পর প্রুফ দেখার সময় এবং ছাপানোর কাজে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের এককভাবে বা দলগতভাবে প্রশ্ন মুখস্থ করা এবং বোর্ডের একাংশের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস করার অভিযোগ পাওয়া যায়। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের পূর্বে প্যাকেট খুলে শিক্ষকের একাংশ কর্তৃক প্রশ্নের ছবি তুলে মোবাইল ফোন, ইমেইল, ফেইসবুক, ভাইবারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠানো এবং নির্ধারিত সময়ের ভারপ্রাপ্তদের মাধ্যমে পূর্বে প্যাকেট খুলে প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষার পূর্বেই উত্তর তৈরি করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা ইত্যাদি।
গবেষণায় প্রশ্ন ফাঁস ও ফাঁসকৃত প্রশ্ন ছড়ানোর এবং বাজারজাতকরণে সম্ভাব্য অংশীজনের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রশ্ন ফাঁসের প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের একাংশের একই সাথে সরকারি নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন কোচিং সেন্টার, গাইড বই ব্যবসায়ী, ফটোকপিয়ার, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজন এবং মোবাইল, ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রশ্ন ফাঁস হয়ে থাকে। প্রশ্ন হাতে পাওয়ার পূর্বে, প্রশ্ন হাতে পাওয়ার পর এবং পরীক্ষায় প্রশ্ন মিলে যাওয়ার পর এককভাবে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা এবং দলগতভাবে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা লেনদেনের হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়।
গবেষণার সার্বিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, প্রশ্ন ফাঁসের সাথে সরকারি ও বেসরকারি উভয় অংশীজন জড়িত। প্রশ্ন প্রণয়ন, ছাপানো ও বিতরণে এবং তদারকি সাথে সম্পৃক্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ কোনো না কোনো পর্যায়ে প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত। প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, প্রশ্ন প্রণয়নের দীর্ঘ প্রক্রিয়া, ম্যানুয়াল পদ্ধতির সাথে অনেকের সম্পৃক্ততাও প্রশ্ন ফাঁসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। গবেষণায় প্রশ্ন ফাঁসের তিনটি পর্যায়ের মোট ১৯টি ঝুঁকি চিহ্নিত করা রয়েছে।
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রশ্নফাঁসের সাথে সরকারি ও বেসরকারি এই দু’ধরনের ভাগিদার রয়েছে। তবে সরকারি পর্যায়ের ভাগিদারদের যোগসাজশ ছাড়া কোন মতেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন পর্যায়ের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের বিভিন্ন ধাপে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকেন তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে এধরনের অনৈতিক কাজের সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে এই সিন্ডিকেটের সাথে যারা জড়িত তাদেরকেও বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
সংসদে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, ‘গত পাঁচ বছরে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি’। এর প্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, উট পাখির মতো এড়িয়ে যাওয়া সমাধান নয়। আমাদের সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। দায় এড়িয়ে সমাধান হবে না। তিনি বলেন, এই প্রতিবেদনটি নিয়ে আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছি। এর আগেও বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বা বিভাগে আমরা আমাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি। তারা মতামত দিয়েছেন। কিন্তু এবার সেটি হয়নি।
টিআইবি গবেষণার উত্থাপিত সাত দফা সুপারিশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ‘পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) (সংশোধন) আইন, ১৯৯২’ এর ৪ নং ধারা পুনরায় সংশোধন করে শাস্তির মাত্রা ৪ বছরের পরিবর্তে পূর্বের ন্যায় ১০ বছর নির্ধারণ এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার প্রয়োগ; কোচিং সেন্টার নিষিদ্ধকরণে সরকারের ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’ এর অস্পষ্টতা দূর করা এবং কোচিং বাণিজ্য বন্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন প্রণোদনাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্রশ্ন ফাঁস রোধ ও সৃজনশীল পদ্ধতির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে গাইড বইয়ের আদলে প্রকাশিত সহায়ক গ্রন্থাবলী বন্ধে প্রচলিত আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা; তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর তদারকি বৃদ্ধি ও বিদ্যমান আইনের অধীনে শাস্তি নিশ্চিত করা; ঝুঁকি কমাতে প্রশ্ন প্রণয়ন, ছাপানো ও বিতরণের কাজটি পরীক্ষামূলকভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ; প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে গঠিত যেকোন তদন্ত প্রতিবেদনের ফল জনসম্মুখে প্রকাশ এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশ্ন ফাঁস রোধে বহুনির্বাচনী প্রশ্নব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে রহিতকরণ ছিল অন্যান্য সুপারিশের অন্তর্ভুক্ত।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com