1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

টেকনাফের মেধাবী ছাত্র ইব্রাহীম আল হায়দার ‘ইয়াং বাটারফ্লাই এনথুজিয়াস্ট’ পুরস্কারে ভূষিত

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৫
  • ৪৫ দেখা হয়েছে

কক্সবাজার আলো ডেস্ক :
টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের ডেগিল্লার বিল এলাকার মোহাম্মদ কাশেমের মেধাবী ছেলে ইব্রাহীম খলিল আল হায়দার চট্টগ্রাম বিশ^ বিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে পড়া শোনার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী নিয়ে গবেষণা করে আসছেন। সম্প্রতি জাহাঙ্গীর নগর বিশ^বিদ্যালয় আয়োজিত প্রজাপতি মেলা ২০১৫ এ ইয়াং বাটারফ্লাই এনথুজিয়াস্ট’
পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়নের ডেগিল্লার বিল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ইব্রাহীম খলিল আল হায়দার ৫ম শ্রেণীতে বৃত্তি, দাখিল,আলিমে জিপিএ-৫। ২০০৯ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হয়ে বিভিন্ন বিষয়ে সফলতার স্বাক্ষর রেখে আসছেন। বিশ^ পরিযায়ী পাখি দিবস-২০১৫ উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত আন্তবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তাঁর দল চ্যাম্পিয়ন হয়।

টেকনাফের ইব্রাহীম খলিল আল হায়দার সারা দিন বনবাদাড়ে ঘুরে বেড়াতেন। সেই থেকে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তির পর থেকে গবেষক হতে চেয়েছেন। সাপ নিয়ে গবেষণা করতে লাগলেন। তবে মজা পাচ্ছিলেন না। তারপর পাখি নিয়ে পড়লেন। ক্যাম্পাসের বার্ড ক্লাবেও যোগ দিলেন। একদিন সবাই মিলে পাখি দেখতে বেরোলেন। অন্যরা যখন পাখি দেখতে ব্যস্ত, কেন যেন প্রজাপতি দেখে তিনি সেগুলোর পেছনে ছুটলেন। তখন একজন বলেও ফেললেন, ‘ইব্রাহীম ভাই, পাখি নিয়ে কাজ করতে এসে প্রজাপতি দেখা চলবে না।’ তবে ক্লাবেরই আরেকজন মিজানুর রহমান বলে বসলেন, ‘তোমার যেটা ভালো লাগে করো।’

গবেষণার শুরু কিভাবে হবে, ভাবতে ভাবতে একদিন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক শফিক হায়দার চৌধুরী ও জাহাঙ্গীরনগরের প্রাণিবিদ্যার অধ্যাপক মনোয়ার হোসেনের যৌথভাবে লেখা ‘বাটারফ্লাইস অব বাংলাদেশ’ বইটি হাতে এলো। পড়তে লাগলেন। সে বই দেখে প্রজাপতি চেনেন, সেসব গল্প আড্ডায় বলেন। এভাবেই চলছিল। একসময় মনোয়ার স্যারের সঙ্গে পরিচয় হলো। তিনিও উত্সাহ দিলেন। ধীরে ধীরে বাটারফ্লাই বাংলাদেশ সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সখ্য হলো। তাঁদের সঙ্গে এবং আলাদাভাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, বারৈয়াডালা ন্যাশনাল পার্ক, ইনানী সংরক্ষিত বনাঞ্চল, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যান, টেকনাফ বন্য প্রাণী অভয়ারণ্য, সিলেটের টিলাগড় ইকো পার্কসহ নানা জায়গায় প্রজাপতি দেখেছেন। ওদের বর্ণিল জীবনচক্র জেনেছেন। এ পর্যন্ত ইব্রাহিম খলিল আল হায়দার প্রজাপতির ৯টি প্রজাতি শনাক্ত করেছেন এবং ২০টি প্রজাতি চেনার ক্ষেত্রে পরোক্ষ অবদান রেখেছেন। এখন তিনি তাদের বাসাবাড়ি ও অনুকূল পরিবেশ রক্ষার জন্য গবেষণা করে যাচ্ছেন। কিভাবে প্রজাপতি সংরক্ষণ করা যাবে জানতে চাইলে বললেন, ‘আমরা সবাই প্রজাপতি ভালোবাসলেও তাদের সন্তানদের (বিছা/ বিছু হিসাবে পরিচিত) বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করি না। পরিবেশ না থাকায় এবং শিশু প্রজাপতি মেরে ফেলায় দিন দিন কমে যাচ্ছে ওদের সংখ্যা।’ পরিবেশ বাঁচাতে ওদের ভূমিকা সম্পর্কেও বললেন, ‘প্রজাপতি পরাগায়ণের মাধ্যমে আমাদের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে। মানুষের অস্তিত্বের জন্যই জীববৈচিত্র্য প্রয়োজন।’ এসব কার্যক্রমের ফল হিসেবে ষষ্ঠ প্রজাপতি মেলায় তাঁকে ‘বাটারফ্লাই এনথুজিয়াস্ট’ পুরস্কার দেওয়া হয়। ২৫ বছরের কম বয়সের যেসব তরুণ-তরুণী প্রজাপতি গবেষণা ও সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকা রাখেন, তাঁদের একজনকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। সম্মাননা তো পেলেন—এবার কী করবেন জানতে চাইলে হেসে ফেললেন, ‘প্রজাপতি ভালোবাসেন না এমন মানুষ হয়তো নেই, তবে এদের সংরক্ষণে তাঁরা সচেতন নন। তাই বাংলাদেশকে প্রজাপতিবান্ধব করতে কাজ করব।## প্রয়োজনে:: ইব্রাহীম খলিল আল হায়দার, সাবরাং,টেকনাফ,ককসবাজার। মোবাইল: ০১৭২৩২৩০৬৩১

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com