1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

টেকনাফের শীর্ষ সন্ত্রাসী র‌্যাব এর উপর গুলিবর্ষনকারী ইয়াবা ব্যবসায়ী শাহাবুইয়া অবশেষে কারাগারে

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৫
  • ৪১ দেখা হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক :
টেকনাফের শীর্ষ সন্ত্রাসী র‌্যাব এর উপর গুলিবর্ষনকারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী ডজন মামলার আসামী শাহাবুইয়াকে অবশেষে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার একটি মানবপাচার ও চাঁদাবাজি মামলায় আদালত এই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে কারাগারে পাঠায়। আদালত সূত্র এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নাজির পাড়া এলাকার মৃত মোজাহের মিয়ার পুত্র শীর্ষ সন্ত্রাসী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী, দেড় ডজন মামলার পলাতক আসামী ও র‌্যাবের উপর গুলিবর্ষনকারী এনাম বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড শাহাব উদ্দিন প্রকাশ শাহাবুইয়া দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মানবপাচার, ইয়াবা ব্যবসা, অন্যের জমি দখলসহ নানা অপরাধ সংঘঠিত করে এলাকার ত্রাস হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। অবৈধ নানা ব্যবসা করে সে অল্পদিনে আঙ্গুল ফোলে কলাগাছে পরিনত হয়। তার বিরুদ্ধে দেড় ডজন মামলা থাকলেও সে প্রকাশ্যে অস্ত্রশস্ত্র ও দলবল নিয়ে ঘুরে বেড়াত। ফলে ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। অবশেষে ১৭ ডিসেম্বর টেকনাফ থানার মানব পাচার ও চাঁদাবাজি মামলায় (নং-জিআর ৭৭১/১৪-বি)আদালতে হাজির হলে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দেওয়ায় জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরন করেন। বিজিবির দায়ের করা মামলাটি পুলিশ ও সিআইডি পৃথকভাবে তদন্ত করে অপরাধের সত্যতা পেয়ে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করলে বিজ্ঞ চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এই শীর্ষ মানব পাচারকারী ও শীর্ষ সন্ত্রাসীকে কারাগারে প্রেরন করেন।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবর মাসের দিকে সাবুসহ অন্য আসামীরা জহির আহমদ নামে এক ব্যক্তিকে প্রলোভন দিয়ে মালয়েশিয়া পাচার করে দেয় ও পরে মুক্তিপন দাবী করে। এ ঘটনায় একই বছরের ২৫ ডিসেম্বর জহির আহমদের মা মাফিয়া খাতুন সাবরাং বিজিবি ক্যাম্পে হাজির হয়ে অভিযোগ দিলে বিজিবি সদস্যরা টেকনাফ ডেইল পাড়া এলাকার মঞ্জুর আলম ও মোঃ জিয়াবুলকে আটক করে বিজিবি বাদী হয়ে থানায় সোপর্দ্য করে মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে পুলিশ ও সিআইডি তদন্ত করে মামলার চার্জশীট প্রদান করে। উক্ত মামলায় সাবুইয়াকে অন্যতম আসামী হয়ে অবশেষে কারাগারে যেতে হলো।
শুধু তাই নই এই শীর্ষ সন্ত্রাসী ক্ষমতাসীন দলের এক জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় এতই বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল যে, কক্সবাজার র‌্যাব-৭ সদস্যদের সাথে প্রকাশ্যে দিনদুপুরে বন্দুক যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার দুঃসাহস দেখায়। সেদিন ২০১৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারী সকালে কক্সবাজার র‌্যাব-৭ এর একটি টীম টেকনাফ নাজির পাড়া এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারের জন্য অভিযান চালালে সাবু তার আপন ভাই এনাম বাহিনীর প্রধান এনামের নেতৃত্বে র‌্যাব সদস্যদের সাথে প্রকাশ্যে বন্দুক যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং একপর্যায়ে র‌্যাব সদস্যদের উপর বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষন করতে করতে সটকে পড়ে। ঐ ঘটনায় র‌্যাব ৭ এর ডিএডি বিএম চাঁদ মিয়া বাদী হয়ে র‌্যাবের উপর হামলা ও অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করেন। যার নং ৩৭/৮০। উক্ত মামলায় সাবু অন্যতম আসামী। এনাম বাহিনীর এনাম অস্ত্র ও ইয়াবাসহ বিজিবির হাতে আটক হলে উক্ত বাহিনীর হাল ধরে তার আপন ভাই বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড শাহাবউদ্দিন প্রকাশ সাবুইয়া।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, এই সাবুইয়া এক সময় ছিল এলাকার বেকার যুবক। ইয়াবা ও মানব পাচারের কল্যাণে অল্প দিনে তারা আঙ্গুল ফোলে কলাগাছে পরিণত হয়। অঢেল সম্পদ অর্জনের পর স্বশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে থাকে। একপর্যায়ে এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। ইয়াবা ও মানব পাচারের অবৈধ টাকায় নামে-বেনামে নাজির পাড়া সহ টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে কোটি টাকার ভূসম্পত্তি ক্রয় করে। এছাড়া নিজস্ব মালিকানাধীন ৩টি নোহা মাইক্রো ও একটি প্রাইভেট কারে ইয়াবা পরিবহন করতে থাকে। তার ইয়াবা পরিবহন কাজের প্রধান সহযোগী হিসাবে কাজ করে যাচ্ছে সদর ইউনিয়নের গোদার বিল এলাকার মৃত সৈয়দের ছেলে কাসেম। এই কাসেমের তত্বাবধানে পরিচালিত হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী সাবুইয়ার নোহা-কার যোগে ইয়াবা পাচার নেটওয়ার্ক।
এছাড়া কিছুদিন আগে এই শীর্ষ সন্ত্রাসীর আপন ভাইকে থানা পুলিশ ১০ হাজার ইয়াবা নিয়ে আটক করে। সে সময় এই ইয়াবা ব্যবসায়ীর পক্ষাবলম্বন করে সংবাদ করার জন্য টেকনাফের এক সিনিয়র সাংবাদিককে অনুরোধ করে সাবু। তার সেই অনুরোধ না রাখায় পরবর্তীতে সাবু তার পৃষ্টপোষক ও সহযোগীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে উক্ত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কুৎসা রটায় বলে অভিযোগ করেন।
তাছাড়া টাকার বিনিময়ে সরকার দলীয় কিছু চুনোপুটি নেতা বিভিন্ন অফিস আদালতে এই বাহিনীর পক্ষে তদবিরকারীর ভূমিকায় দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। শুধু তাই নই শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী, মানব পাচারকারী ও সন্ত্রাসী নিজেকে নিরাপদ রাখার জন্য সুকৌশলে মোটা অংক খরচ করে উপজেলা যুবলীগের সদস্য পদ বাগিয়ে নেয়। অথচ অতীতে আওয়ামী কোন সংগঠনের সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা ছিল না বলে জানায় উক্ত সংগঠনের নেতাকর্মীরা। যার ফলে যুবলীগের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা হতবাক ও ক্ষুদ্ধ হয়ে পড়ে। সে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী ও দেড় ডজন মামলার আসামী হলেও এই দলীয় পদবী ব্যবহার করে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতো। এই সন্ত্রাসী কারাগারে যাওয়ায় এলাকায় স্বস্থি ফিরে আসলেও পুনরায় জামিনে বেরিয়ে এসে কবে না আবার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে সে ভয়ে আতংক কাটেনি।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com