এক্সক্লুসিভকক্সবাজারলীড

টেকনাফে ২৬ জনপ্রতিনিধি মাদকের আসামি, নেই কর্মস্থলে

34views

পদ শূন্য ঘোষণার তাগিদ
সমকাল :
টেকনাফ উপজেলার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের ২৬ জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ গ্রেফতার হয়ে কারাগারে এবং অন্যরা দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে রয়েছেন। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম। বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ জনগণ। সম্প্রতি এসব জনপ্রতিনিধির তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার। একই সঙ্গে পদ শূন্য ঘোষণারও তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
পুলিশ সুত্র জানিয়েছে, অনুপস্থিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে টেকনাফ পৌরসভার পাঁচজন, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ পাঁচজন, সাবরাং ইউনিয়নের ছয়জন, হ্নীলা ইউনিয়নের পাঁচজন, হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তিনজন ও সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের দু’জন জনপ্রতিনিধি আছেন। তাদের মধ্যে ১৩ জন মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়ে বা আত্মসমর্পণ করে কারাগারে আছেন। আত্মগোপনে আছেন ১২ জন। সম্প্রতি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন একজন। সূত্র জানায়, টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহা আলম, ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল করিম মানিক ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল বসর মাদক মামলায় কারাগারে আছেন। সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির ভাই ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মৌলভি মুজিবুর রহমান এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে পলাতক।
টেকনাফ সদর ইউপি চেয়ারম্যান শাহাজাহান মিয়াসহ ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ওমর ফারুক ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল্লাহ আত্মগোপনে আছেন। কারাগারে আছেন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আজিম উল্লাহ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এনামুল হক। সম্প্রতি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল হামিদ। উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন দানু, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জাফর আলম, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শামসু আলম, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রেজাউল করিম রেজু অস্ত্র ও মাদক মামলায় কারাগারে আছেন। পলাতক আছেন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাহামুদুর রহমান।
হ্নীলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শামসুল আলম বাবুল সম্প্রতি কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জামাল উদ্দিন গ্রেফতার হয়ে এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জামাল হোসেন ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুল হুদা আত্মসমর্পণ করে কারাগারে আছেন। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক আছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোহাম্মদ আলী।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ রাকিব আহমদ ও প্যানেল চেয়ারম্যান-২ সিরাজুল মোস্তফা চৌধুরী লালু দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। আত্মসমর্পণ করেছেন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহ আলম। এ ছাড়া সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবু বক্কর ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুর রউফ অস্ত্র ও মাদক মামলায় কারাগারে রয়েছেন।
টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, টেকনাফে পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত অনেক জনপ্রতিনিধি ইয়াবাসহ আটক হয়ে কারাগারে রয়েছেন। মাদক মামলার আসামি হয়ে অনেকে আত্মগোপনে আছেন। দীর্ঘদিন থেকে তাদের এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। পলাতক ইয়াবা কারবারিদের ধরতে পুলিশের জোরালো অভিযান চলছে।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ২৬ জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে ভেঙে পড়েছে উপজেলার স্থানীয় সরকারের কার্যক্রম। গত শুক্রবার কক্সবাজার সার্কিট হাউসে মাদক বিষয়ে এক সভায় এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান পলাতক ও কারাগারে থাকা জনপ্রতিনিধিদের তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে এসব জনপ্রতিনিধির আসন শূন্য ঘোষণা করারও তাগিদ দেন তিনি।
কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আয়াছুর রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার পরিষদের নীতিমালা অনুযায়ী পরিষদের টানা তিনটি বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলে জনপ্রতিনিধিদের পদ শূন্য হয়ে যাবে। এ ছাড়া কোনো জনপ্রতিনিধি মাদক কারবারে জড়িত বা ফৌজদারি মামলায় আসামি হয়ে কারাগারে থাকলেও তার আসন শূন্য করার বিধান আছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হাসান বলেন, মাদক কারবারে জড়িত ও দীর্ঘদিন থেকে কার্যালয়ে অনুপস্থিত জনপ্রতিনিধিদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। এ সপ্তাহের মধ্যেই তালিকাটি বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে পাঠানো হবে। এ ছাড়া এসব আসন শূন্য ঘোষণা করার সুপারিশও করা হবে।

Leave a Response