টেকনাফ-উখিয়া তথাপি কক্সবাজার, যেখানে জম্মই যেন আজন্ম পাপ!

বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমারেখার সর্বশেষ দক্ষিনের জেলা, কক্সবাজার। ৭ম শতাপ্দীতেও এই এলাকায় মানুষের বসবাসের প্রমান ইতিহাসে বিদ্যমান। আর এই জেলাটি বাংলাদেশের একমাত্র ভারত সীমান্ত বিহীন দ্বিতীয় সীমান্ত দেশের সাতে আমাদের দেশকে সংযুক্ত করেছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ সমুহ সহ আন্তর্জাতিক কানেক্টিভিটির সাতে। এর ভৌগলিক অবস্থানের জন্য এলাকা সমুহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যার মধ্যে রয়েছে অনাবিষ্কৃত হাজারও প্রাকৃতিক সম্পদ। রয়েছে সামুদ্রিক সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবালদ্বীপ।

কক্সবাজার জেলার সবচেয়ে আলোচিত ও সমালোচিত দুটি উপজেলা/থানা হইল টেকনাফ ও উখিয়া। যার আয়তন প্রায় ৬৫০ বর্গকিলোমিটার। বাংলাদেশ ও বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা (১৫০কি মি) সমুদ্র সৈকত এই দুটি থানায় মুলত বিদ্যমান বেশিরভাগ। এই দুটি থানা উপর দিয়ে বাংলাদেশ সারা বিশ্বের সাতে যোগাযোগ বা কানেকটিভিটি করার মহা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে চলছে। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের একমাত্র স্তল বন্দরটি এই এলাকায় অবস্থিত। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এই এলাকা সমুহের অবদান কোন অংশে কম নয়।

বর্তমানে এই দুটি থানায় বাংলাদেশী জনসংখ্যা প্রায় ৫ লক্ষর কাছাকাছি। দুই উপজেলায় শিক্ষার হারের গড় ৩৬% প্রায়। জনসংখ্যার মধ্যে মুল পেশা কৃষি ও মৎসজীবি আর সামান্য সংখ্যক চাকুরীজীবি। বর্তমানে দুটি থানার জনগনের মধ্যে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে-বিদেশে এসব এলাকার কৃতি সন্তানরা নিজেদের সাফল্যের মাধ্যমে নিজ এলাকার সম্মান বয়ে আনছে।
এক কালে এই এলাকা উপর দিয়েই বাংলাদেশর অন্য এলাকার লোকজন বার্মায় ব্যবসা বানিজ্য করতে যেত। যার দরুন টেকনাফ ও উখিয়াতে অত্র অলাকা ব্যথিত বাইরের জনসংখ্যাও কম নয়। টেকনাফ ও উখিয়ার মানুষ অধিকাংশ গরীব ও নিরহ প্রকৃতির, তারা সহজ ও সরল ভাবে জীবন যাপন করত।

কিন্তু বর্তমানে তাদের সুখি জীবনে নেমে এসেছে দুটি অশনিসংকেত!
১। রোহিঙ্গা সমস্যা
২। ইয়াবা ( এক প্রকার মাদক দ্রব্য)

এলাকায় কিছু অসৎ প্রকৃতির লোকদের কারনে আজ প্রতিটি মানুষ হয়রানি স্বীকার। তাদের জীবনজীবিকা আজ হুমকির সম্মুখিন। সাগরে মাছ ধরতে পারে না জেলেরা, মানব পাচার ও ইয়াবা পাচারের কারনে। রাস্তায় চলাচল করতে পারেনা, তাও ইয়াবা ও রোহিঙ্গাদের সমস্যায়। নিজেদের জমিতে চাষ করতে পারেনা রোহিঙ্গাদের কারনে৷ রাতে ঘরে নিঃসন্দেহে ঘুমাতে পারছেনা রোহিঙ্গা ডাকাতদের কারনে। এলাকার ছাত্ররা মাঠে গিয়ে খেলতে পারছে না এনজিও গুলোর মাঠ দখলের কারনে। আরো নানান সমস্যা আর সমস্যায় জর্জরিত আজ টেকনাফ উখিয়ার জনগণ। একজন শিক্ষিত ও সমাজে প্রতিষ্টিত লোকও আজকাল হাতে আইডিকার্ড সাতে নিয়ে চলতে হয়। যারা সাধারন কেটে খাওয়া মানুষে তাদের অবস্থা চরম নাজুক!

এলাকায় অনেক শিক্ষিত বেকার নিরব কান্নায় জর্জরিত। বাইরে গিয়ে চাকরী পায় না, টেকনাফ বা উখিয়া এলাকার সন্তান হওয়াতে। প্রতিষ্টানের কর্তারা ভয়ে থাকেন যদি চাকরি প্রার্থী ছেলেটিও ইয়াবা কারবারি হয়, তাহলে ওনার নিজেরও সমস্যা হয়ে যেতে পারে। এই ভয়ে কর্তারা চাকরি দেয় না টেকনাফ উখিয়ার ছেলেদের। আর এনজিও গুলোতো আপনারা জানেনই বাইরে থেকে ছেলে মেয়েদের এনে চাকরী দেয়। নিজেদের সেইফ জোনের জন্য ও তাদের কুরুচিপূর্ণ লীভটুগেদার করতে পারার জন্য ( এইটা এখন ওপেন সেক্রেট)।

সমস্যা আরো জটিল আকার ধারন করেছে ঐ এলাকার বিবাহ উপযুক্ত ছেলে-মেয়েদের জন্য।শিক্ষিত ও ভদ্র ছেলেরা আজ বাইরে কোথাও বিয়ে আবদ্ধ হতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, কারন বাইরের গার্ডিয়ানরা টেকনাফ উখিয়ায় মেয়ে বিয়ে দিতে নারাজ ! কারন ওখানকার পরিবেশ নষ্ট ও সবাই ইয়াবা কারবারি ( এইটা তাদের অভিমত)।
আবার যাদের ঘরে বিবাহের উপযুক্ত ২/৩ বা তারও অধিক মেয়ে রয়েছে তারা তো রয়েছেন মহা বিপদে!
স্তানীয় ভাল ছেলেরাও আজকাল এলাকায় বিয়ে করতে নারাজ তারা বাইরের এলাকায় বিবাহে আবদ্ধ হতে মরিয়া। যার দরুন এলাকার মেয়ে গুলোর বিবাহ আটকানো অবস্থায়! তাদের মা বাবাদের নিরব কান্নায় আল্লাহর আরশ কাপে।

প্রায় ১২ লক্ষ বা তারও অধিক রোহিঙ্গা আর সেই সাতে প্রতিনিয়ত লক্ষ লক্ষ নতুন নতুন পর্যটকের ভিড়ে স্তানীয় জনগন আজ নিজ দেশে পরবাসী
এলাকার অধিকাংশ মানুষ আজ টেকনাফ উখিয়ার পরিচয় দিতে লজ্জা বোধ করেন। কখন জানি পকেটে ইয়াবা ডুকিয়ে ফাসানো হবে এই ভয়ে তারা আজ উৎকন্ঠিত।
রাতে কখন জানি দরজায় কড়া নাড়ানো হবে, আমরা প্রশাসনের লোক দরজা খুলেন! যুবতী মহিলারা আজ নিজেদের সম্ভ্রম নিয়ে চিন্তিত । মা বাবারা প্রতিনিয়ত উৎকন্ঠায় থাকেন কখন জানি তাদের যুবক ছেলেটির বুক বুলেটে জর্জরিত হয়! সন্তানরা চিন্তায় থাকেন কখন জানি বাবা কল দিয়ে বলবে * আব্বু আম্মু আমায় ক্ষমা করে দিও,প্রিয় স্ত্রী তুমি আমার সন্তানদের যত্ন নিও, দেখা হবে পরপারে অবুঝ সন্তানও বাবার ওপারের কান্না দেখে বলবে ” বাবা তুমি কান্না করতেছ যে,
এইভাবেই কাটছে এই এলাকার সাধারণ জনগণের দিনগুলো।

কতিপয় লোভী ও খারাপ প্রকৃতির লোক যারা ইয়াবা ব্যবসা করে আজ সমাজে বড় বড় কর্তা সেজেছে, এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইসচেয়াম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, দলীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, নতুন মসজিদ প্রতিষ্টাতা,নতুন নতুন স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা বানিয়ে নিজেদের অপকর্মে অর্জিত টাকা সমুহ দিয়ে পুনরায় সবাই ভদ্রলোক সাজার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তাদের এই অপকর্মের ফলাফল আজ সমগ্র এলাকার অন্যান্য সাধারণ জনগণের জন্য জ্যন্ত মৃত্যুর বোঝা বইছে প্রতিনিয়ত।

আজকাল প্রশাসনও কেমন জানি রোহিঙ্গা প্রীতি দেখায় বেশী। স্তানীয় কোন লোকজনের সাতে রোহিঙ্গাদের সমস্যা হলে, আগে ভাগেই স্থানীয়দের দোষী বানানো হয়।
স্থানীয়দের মেরে গেলেও রোহিঙ্গারা পার পেয়ে যাচ্ছে কতিপয় এনজিও ও কতিপয় অতি রোহিঙ্গা প্রেমী প্রশাসনের লোকদের জন্যই। আজ টেকনাফ উখিয়ার সাধারণ লোকজন পরাধীন জীবন যাপন করছে। অদূর ভবিষ্যতে টেকনাফ উখিয়া হয়ত পৃথিবীর মানচিত্রে নতুন ফিলিস্তিন হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে এলাকার লোকজন বলে বেড়ায়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রতিনিয়ত অজস্র শিশুর জম্ম হচ্ছে, রোহিঙ্গাদের অনেকেই এইডস নামক ভয়ানক রোগে আক্রান্ত। তাদের জন্য পরিকল্পিত ভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিগুলোর প্রয়োগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। যাদের একটি সন্তান সেই সন্তানের মা ও বাবা দুজনকেই স্তায়ী জম্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা বাধ্যতা মুলক করা হউক। কিংবা যাদের সন্তান আছে তাদেরকে স্হায়ীভাবে বন্ধ্যত্ব করার পদ্ধতি চালু করা হউক। এইসব পদ্ধতি সমুহ এনজিও কিংবা সরকারের সংস্থা গুলোকে দিয়ে করা যেতে পারে। প্রয়োজনে গোপনে হলেও এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা খুব জরুরী হয়ে পড়েছে।

আর সরকারের উচিত তাদের গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনে ১০০ বার যাচাই করে হলেও টেকনাফ উখিয়ার ইয়াবা কারবারিদের প্রকৃত লিস্ট তৈরি করা। আর ঐ লিষ্টে জড়িত সকলকে ওপেন ফায়ার করে জনগণের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করা যে, ইয়াবা কারবারির শাস্তি এমনই হয়। সেই সাতে রোহিঙ্গাদের মাঝেও যেসব কারবারি রয়েছে তাদের বের করে ফায়ার করা। শুধু তাই নয় আইন ও প্রশাসনের যে সব লোকজন ইয়াবা কারবারি তাদের লিষ্ট তৈরি করেও তাদের একই শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, প্রয়োজনে মিয়ানমারের সাতে সীমান্ত সীল করা হউক। তবেই ইয়াবা নামক ভয়ংকর নেশা জাতীয় দ্রব্য এই দেশে প্রবেশ বন্ধ হবে বলে আমার বিশ্বাস।

আজ টেকনাফ উখিয়ার মানুষ চরম অসহায় ও ভুক্তভোগী। দৈনন্দিন জীবনে চরম টেনশন ও উৎকন্ঠা নিয়ে দিনযাপন করেন। তাদের জীবনমান আজ চরম হুমকির সম্মুখিন। ঈশ্বরও আজ তাদের দিকে মুখ তুলে তাকায় না! তাদের ভাগ্যকাশে কোন ত্রাতার আভির্ভাব লক্ষ করা যায় না। তাই তরা শুধু এই দেশ ও জনগনের একমাত্র আশার ও আশ্রয়ের স্তল প্রধানমন্ত্রীর চুড়ান্ত ও শক্ত হস্তক্ষেপ কামনা করে। তিনি চাইলেই কেবল এই মহা সংকট থেকে এইসব এলাকার সাধারণ ও নিরুপায় জনগণ মুক্তি পাবে বলে সকলের বিশ্বাস।

এসব এলাকার সাধারণত জনগণ আজ নাগরিক সুবিধা ও সেবা সমুহ পেতেও নানান হয়রানির স্বীকার। যেমন – পাসপোর্ট পেতে হয়রানি ও ঘুষ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স পেতে হয়রানি, জমি সংক্রান্ত সেবা পেতে ঝামেলা, জম্ম নিবন্ধন পেতে হয়রানি, এনআইডি বা স্মার্ট কার্ড না পাওয়া, ভোটার হতে ঝামেলা।দেশে ভাল ও বৈধ ব্যবসা করে আয় করে এমন কিংবা বিদেশে গিয়ে আয় করেছে এখন দেশে এসে সামান্য সুখের জীবনের জন্য দেশে আছেন তারাও কতিপয় প্রশাসনের খারাপ লোক কিংবা সাংবাদিক পরিচয়ের অমানুষ আবার দালাল চক্রদের মাধ্যমে ইয়াবার ভয় দেখিয়ে হয়রানির স্বীকার হচ্ছে প্রায় সময়। কিংবা দৈনন্দিন জীবনে চলা ফেরার পথে নানানভাবে হয়রানি হওয়া সহ হাজারও সমস্যায় তারা আজ জর্জরিত ।

তাই আজ টেকনাফ উখিয়ায় জম্ম নেওয়া ছেলে মেয়েরা মনে করে, এখানে জম্মই যেন তাদের আজন্ম পাপ।

 

লেখক:

শাহজাহান
স্বেচ্ছাসেবী ও মানবাধিকার কর্মী
mdshajahan.09@gmail.com

উপদেষ্টা সম্পাদক : হাসানুর রশীদ
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ শাহজাহান

নির্বাহী সম্পাদক : ছৈয়দ আলম

যোগাযোগ : ইয়াছির ভিলা, ২য় তলা শহিদ সরণী, কক্সবাজার। মোবাইল নং : ০১৮১৯-০৩৬৪৬০

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Email:coxsbazaralo@gmail.com