1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

টেকনাফ সাবরেজিস্ট্রার অফিসে জমি রেজিষ্টেশনে সরকারী ফি: শতকরা ১০%, উৎকোচের হার ১২ %

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৫
  • ১৫৩ দেখা হয়েছে

নুর হাকিম আনোয়ার :
টেকনাফ সাবরেজিস্ট্রার অফিসে জমি রেজিষ্টেশনে সরকারী ফি: শতকরা ১০% ও ১২ % হারে উৎকোচ নেওয়া হচ্ছে। এ কারণে অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে টেকনাফ সাব-রেজিষ্ট্রার অফিস। এ অফিসে উৎকোচ ছাড়া কোন কাজ হয় না বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দলিল লিখক। এতে করে জমির ক্রেতা -বিক্রেতা এবং দলিল লিখকরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে দলিল লিখকের কাছ থেকে সাব-রেজিষ্ট্রারের নির্দেশমতে শতকরা ১২ %হারে উৎকোচ আদায় করেন। এ উৎকোচ প্রদান না করলে জমি রেজিষ্ট্রি হয় না। অন্যদিকে যেসব জমি হস্তান্তর করা হয়েছে তার উপর মফস্বল এলাকায় প্রতি লাখে ৯ হাজার টাকা ও পৌরসভা এলাকায় ১১ হাজার টাকা করে জমির রেজিষ্ট্রেশন খরচ বহন করতে হয় বলে জানা গেছে। এছাড়া দলিল লিখকদেরকে সাব-রেজিষ্ট্রারের বিভিন্ন হুমকি ও এমনকি তার লেখা দলিল রেজিষ্ট্রি করতে গেলে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। জৈনক এক দলিল লিখক জানান, ভয়ে অনেকেই প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না। সাব কবলা, হেবার ঘোষণা পত্র, বায়না পত্র, অংশনামা, এওয়াজনামা, আম মোক্তার নামাসহ যেকোন ধরনের দলিল রেজিষ্ট্রি করতে জমির মূল্যর উপর শতকরা ১২% টাকা হারে উৎকোচ আদায় করছেন নকল নবিশগণ। এক নকলনবিশের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ করলে সে  জানায়, আমাদের কিছু করার নাই। স্যারের নির্দেশ মোতাবেক আমরা দলিল লিখকদের কাছ থেকে উৎকোচ নিতে বাধ্য। সাব কবলা দলিলে শতকরা ১০ টাকা ব্যাংকে প্রে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়। কোন প্রকার সই স্বাক্ষর ও সীল বিহীন একটি তালিকার মাধ্যমে শতকরা ১২ টাকা পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছ থেকে দলিল লিখকরা আদায় করতে বাধ্য সাব-রেজিষ্ট্রারের হুকুম পালন করতে। কোন দলিল লিখক যদি সই স্বাক্ষর সীল বিহীন তালিকা থেকে কম টাকা গ্রহণ করেন তার কাছ থেকে দ্বিগুণ পরিমাণ টাকা আদায় করে নেন নকলনবিশগণ। এ পর্যন্ত সকল দলিল লিখককেই  উৎকোচ দিতে বাধ্য করেছেন সাব-রেজিস্ট্রার অফিস। এ উৎকোচের টাকা সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে সাব-রেজিষ্ট্রারের পকেটে পর্যন্ত ঢুকে বলে জানা যায়।
সাব রেজিষ্ট্রারকে সাব রেজিষ্ট্রার অফিসে দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও নকল নবীশদের সমন্বয়ে গঠিত সিন্ডিকেট চক্র  দলিল লিখকদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের কোন বিধান বা নিয়ম নীতি না থাকলেও সাব রেজিষ্টার অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দলিলের প্রতি লাখে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে। তাই লোভনীয় কমিশনের ভিত্তিতে ওই অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোন হোটেলে বা বাড়ীতে গিয়ে আসামীর কাছ থেকে জমি রেজিষ্ট্রি নেয় বলে অভিযোগে জানা যায়। এর ফলে  এ অঞ্চলে জমির দাম বৃদ্ধি, মৌজা রেইটের চেয়ে অধিক দামে জমি বিক্রি হয়।
জানা গেছে, টেকনাফ উপজেলার ১১টি মৌজার মধ্যে শীলখালী, বড় ডেইল, লেগুরবিল, টেকনাফ পৌরসভা, শাহপরীরদ্বীপ, সাবরাং, উত্তর হ্নীলা, জিঞ্জিরা দ্বীপ সহ ৮টি মৌজার উপর জমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য জেলা প্রশাসক কার্যালয় হতে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হয়।
এ মালিকানা হস্তান্তরে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে অনুমতি গ্রহণ বাবদ ৫ হাজার টাকা গ্রহণ, ভূমি অফিস হতে নামজারী খতিয়ান প্রদানে সময় সাপেক্ষ ও রেজিষ্ট্রেশন খরচ বৃদ্ধির ফলে ধস নেমেছে জমি হস্তান্তরে। যার কারণে জমি হস্তান্তরে বন্ধের উপক্রম হয়েছে ও জমি হস্তান্তরে ধস নেমেছে। এদিকে সংশ্লিষ্ট রেজিষ্ট্রী অফিসে সংসদীয় উপ-কমিটি পরিদর্শনে আসায় এসব জটিলতা নিরসনে আশা আলো দেখছেন সচেতন মহল।
রেজিষ্ট্রী অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে পৌরসভার কবলা দলিল সম্পাদনে খরচ হিসেবে স্ট্যাম্প ফি-৩% আয়কর-৩%, স্থানীয় কর-৩%, রেজিঃ ফি-২%, নগদ স্ট্যাম্প, দলিল রাইটিং খরচসহ যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করতে হচ্ছে প্রায় ১২% হারে অর্থাৎ প্রতি লাখে প্রায় ১২ হাজার টাকা কওে নেয়। অন্যদিকে মফস্বল এলাকায় (পৌরসভার বাইরে) ভূমি সম্পাদনে খরচ হিসেবে স্ট্যাম্প ফি-৩% আয়কর-১%, স্থানীয় কর-৩%, রেজিঃ ফি-২%, নগদ স্ট্যাম্প, দলিল রাইটিং খরচসহ যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করতে হচ্ছে প্রায় ১০% হারে অর্থাৎ প্রতি লাখে প্রায় ১০ হাজার টাকা। আবার স্থিত ভূমিতে দালান বা দোকান থাকলে তার জন্যও গুণতে হচ্ছে ভ্যাট ও উৎসের আয়কর। সাধারণ আম-মোক্তার রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রেও খরচ হচ্ছে বিভিন্ন খরচাদি সহ প্রতি লাখে প্রায় ৬% হারে। এসব খরচ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দিয়েই ভূমি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হয়। এসব খরচের পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে জেলা প্রশাসক কর্তৃক অনুমতি সংগ্রহের ব্যয়, পৌর এলাকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে টিন সার্টিফিকেটের ব্যয় ও জটিলতসহ শতকরা ১২ % উৎকোচ দিতে হয়।
আরও জানা যায়, সপ্তাহে ৫দিন কর্ম দিবস হলেও সাব রেজিষ্টার খন্দকার ফজলুর রহমান ৩ দিন কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন। যতক্ষন তিনি অফিসে থাকেন ততক্ষন ভিতর থেকে দরজাটি বন্ধ করে রাখা হয়। তারপর রুমের ভিতরে দলিলের কাজ সম্পাদন করে থাকে বলে জানা যায়।
সিন্ডিকেটের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণ করেন যেসব কর্মকর্তা কর্মচারীরা তারা হলেন,
সাব রেজিষ্টার খন্দকার ফজলুর রহমান,সন্তোষ কুমার দে, লিটন কান্তিপাল, মন্টু বড়–য়া, জুলু বিকাশ রুদ্র, নুরুল কাদের, নুরুল কবির,তোফায়েলও বহিরাগত হিসেবে কাজ করেন পিয়ন মোঃ শফিক। ওরাই গোপন তালিকা মতে কাকে কত টাকা দিতে হয় তা যথাযথ ভাবে ভাগ বন্টন করে থাকে বলে জানা যায়।
এই হল টেকনাফ সাব রেজিষ্টার অফিসের প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে স্বীয় উদ্ভাবনীয় দূর্নীতির চিত্র।
সাব-রেজিষ্ট্রী অফিসে ভুয়া দলিল লিখকের ছড়াছড়ি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা দলিল লিখছেন বীর দর্পে। অভিযোগে জানা জায়, অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন কিছু লোক কিছুদিন দলিল লিখকদের সহকারী হিসেবে কাজ করে। পরে নিজেই ভুয়া কাগজ পত্র দিয়ে জেলা রেজিষ্ট্রীর অফিস থেকে সনদ বের করে নিজে দলিল লিখক বনে যান। তার পরে দলিল দাতা-গ্রহীতার কাছ থেকে আদায় করেন গলা কাটা টাকা। দলিল লিখকের সনদ নিতে হলে অভিজ্ঞতা এবং এস এস সি পাশ সাটিফিকেট থাকার নিয়ম থাকলেও টেকনাফ অফিসে সেই নিয়ম নেই। শুধু কাগজের ফটো কপি আর টাকার হলেই চলে। ওই কাগজ আসল না নকল তা কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখছেন না। যারা জাল সাটিফিকেট তৈরী করে দলিল লিখকের সনদ নিয়েছেন টেকনাফের ৫ জন।  এরা জাল সাটিফিকেট দিয়ে দলিল লিখনের সনদ নিয়ে ৭-৮ বছর যাবৎ দলিল লিখে দাতা ও গ্রহীতাদের সাথে প্রতারনা করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে একাধিকবার বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও তারা বীর দর্পে দলিল লিখে চলেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূমি রেজিস্ট্রেশন করতে আসা অনেকে জানিয়েছেন, ভূমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে জটিলতাগুলো বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প। একদিকে সরকার নির্ধারিত খরচ নির্বাহ করে ভূমি রেজিস্ট্রেশন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অন্যদিকে ভূমি রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে জেলা প্রশাসকের অনুমতি সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে টিন সার্টিফিকেট সংগ্রহসহ বিভিন্ন জটিলতা সহ বিভিন্ন কারণে জমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে ধস নেমেছে।
এই প্রতিবেদকের কাছে নকল নবিশ মন্টু বড়–য়া নামে ঘুষ আদায়ের কথা স্বীকার করে সাব রেজিষ্টারের নির্দেশ পালন করছেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে সাব-রেজিষ্ট্রারের খন্দকার ফজলুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্থতার কথা বলে মোবাইল ফোন কেটে দেন এবং বলেন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার ওনার সময় নেই। দলিল লিখকরা জানান, বর্তমান সাব-রেজিষ্ট্রার খন্দাকার ফজলুর রহমান যোগদানের পর থেকেই নতুন নিয়মে অফিস পরিচালিত হচ্ছে। এ থেকে দলিল লিখকরা মুক্তি চান।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com