অপরাধকক্সবাজারলীড

টেকপাড়ায় চাঁদা না দেয়ায় সরকারী কর্মকর্তার বসতবাড়িতে হামলা, আহত ৫

19views

বিশেষ প্রতিনিধি :
কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ায় চাঁদা না পেয়ে কৃষিবিদ মোহাম্মদ এমরান কবির নামের এক সরকারী কর্মকর্তার বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত হয়েছে ৫ জন। শনিবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া রবি কাস্টমার কেয়ারের পিছনে এই ঘটনা ঘটে। হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় বসতবাড়ির মালিক থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
সুত্র জানায়, কৃষিবিদ (উদ্যানতত্ত্ববিদ) মোহাম্মদ এমরান কবির কক্সবাজার শহরে তার নিজ বাড়ির বসতঘরে কিছু সংস্কার কাজ শুরু করেন। এতে করে পূর্বশত্রুতা ও জমির ওয়ারিশ দাবী করে বইল্যাপাড়ার মৃত গোরা মিয়া সিকদারের ছেলে সজল, টেকপাড়ার আবুল হোছেন মিস্ত্রির ছেলে জিয়াবুল হক, সিটি কলেজ এলাকার মাহবুব আলমের স্ত্রী মাহবুবা আলম সোলতানা, চাউলবাজার এলাকার এবাইদুল হক এর স্ত্রী কফিলাতুল মোস্তফাসহ অজ্ঞাত ১৯/২০ জন মিলে সশস্ত্র সজ্জিত হয়ে এমরান কবিরের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেন। এ দাবিকৃত টাকা তারা না পেয়ে সন্ধ্যায় এমরান কবিরের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। এ সময় তাদের বাধা দিলে শ্রমিক আবছার, শামসু, অলি আহমদ ও রশিদ আহমদকে পিটিয়ে আহত করা হয়। পাশের্^াক্ত লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরন করে। বর্তমানে তারা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।
বসতবাড়ির মালিক এমরান কবির জানান, আমি (পিতার) আমল থেকে দীর্ঘ ৩৫ বছরের ক্রয়কৃত বসতবাড়িতে বসবাস করে আসছি। দীর্ঘ সময় পর উক্ত জমির কিছু ওয়ারিশ নামধারী মিলে ভাড়াটে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ আমার কাছ থেকে বিপুল অংকের টাকা দাবী করে আসছে। আমি তাদেরকে চাঁদা দিতে অনিহা প্রকাশ করলে তারা আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে।
এ ঘটনায় আমি জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও কক্সবাজার সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। এরআগেও ২০১৪ সালে ২ ডিসেম্বর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করি। যার নাম্বার-৯৯/২০১৪। এরপরেও তাদের হুমকি-ধমকি থেমে ছিল না। পরবর্তিতে এখন আমার পুরাতন বাড়ি সংস্কার করতে গেলে উক্ত সন্ত্রাসীরা হয়রানীমূলকভাবে এমআর মামলা নং-১৯৫/২০১৭ ইং ফৌজদারী কার্যবিধি ১৪৪ ধারা দাখিল করে। দীর্ঘ তিন বছর শুনানীসহ সহকারী কমিশনার ভূমি কক্সবাজার সদর উক্ত জমির দলিলাদী ও সকল কাগজপত্র যাচাই বাচাই করে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক জমিটি চারিদিকে বাউন্ডারীসহ বসতবাড়ি নিয়ে বহুবছর ধরে আমার দখলে আছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত আদেশ ক্রমিক নং-১৮ তারিখ ৫/৮/১৯ ইং আমার পক্ষে রায় দেন। তারপরেও আমার পক্ষে রায় থাকা সত্ত্বেও উক্ত সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন সময় জমি দখল ও প্রাননাশের হুমকিসহ মহড়া দেয়। যার প্রেক্ষিতে আমি গত ৮/৮/১৯ ইং কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারের কাছে জানমালের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করলে তা দ্রুত পুলিশ সুপার কক্সবাজার সদর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্তকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। এরপরেও কিভাবে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে তা সকলকে ভাবিয়ে তুলেছে। ঘটনার সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীরা হামলার সময় সদর থানার এক অফিসারসহ একটি টিম ঘটনাস্থলে ছিল। তারা আরো জানান, দখলবাজ ও সন্ত্রাসীদের পক্ষে কেন পুলিশ ভূমিকা রাখলো। তা জনমনে এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, শহরের টেকপাড়া রবি কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের পিছনে ১৯৮৩ সালে ভিন্ন ভিন্ন দলিলে ৬ শতক জমি ক্রয় করেন সরকারী কর্মকর্তা এমরান কবিরের পিতা। পরে সেই জমিটি পাকা বাউন্ডারী দিয়ে বসবাস উপযোগী করে বাড়ি নির্মান করে বসবাস করে আসছে।
ভূক্তভোগী এমরান কবির অভিযোগ করে বলেন, চাঁদাবাজ হামলাকারীরা কোন কারণ ছাড়া আমার কাছে চাঁদা দাবী করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। তারা বিভিন্ন সময়ে চাঁদার জন্য বাড়িতে ও মোবাইলে হুমকি দিত। সবশেষ চাঁদা না পেয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে জানে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়ে অস্ত্রের মুখে জীম্মি করে শনিবার মাগরিব নামাজের সময় বাড়িতে এসে চাঁদা দাবী করে। এসময় বাড়ির সীমানা ও দেয়াল ভাংচুর করে। বাঁধা দিলে আমার ৫ শ্রমিককে মারধর করে। এসময় আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

Leave a Response