1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. joaopinto@carloscostasilva.com : randaldymock :
  3. makaylabeaurepaire@1secmail.com : scotty7124 :
  4. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  5. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  6. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

টেন্ডারে ১০ ভাগ কমিশন নেন ছাত্রলীগ নেতা জাকির

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ১৯ দেখা হয়েছে

প্রতি টেন্ডারে শতকরা ১০ ভাগ টাকা কমিশন দিতে হয় তাকে। কমিশন না দিলে টেন্ডার জমা দিতে বাধা দেন তিনি। তেজগাঁওয়ের বিজি প্রেসে এমন নিয়ম করেছেন তিনি। তার রয়েছে নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী। ভয়ে তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে পারে না। আলোচিত এই ছাত্রলীগ নেতার নাম জাকির হোসেন সাগর। তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। বর্তমানে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। সরকারের বিশেষ একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এই ছাত্রলীগ নেতার কমিশন-বাণিজ্যের বিষয়টি উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদন পুলিশ সদর দফতর, ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয় হয়ে তেজগাঁওয়ের উপ-পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। ডিসি তেজগাঁও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে নির্দেশনাও দিয়েছেন। তবে গতকাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাকির হোসেন সাগর তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সভাপতি থাকা অবস্থায়ই এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। গড়ে তোলেন নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার বিভিন্ন ফুটপাত থেকে শুরু করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ওই এলাকার সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানেই তিনি নিজের প্রভাব খাটান। বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠানে টেন্ডার-সংক্রান্ত সবকিছুতেই তাকে নির্দিষ্ট অঙ্কের কমিশন দিতে হয়। জাকিরের সঙ্গে আলোচনা না করে কেউ টেন্ডার জমা দিতে পারেন না। প্রতি টেন্ডারে শতকরা ১০ ভাগ কমিশন নেন তিনি।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জাকিরের ক্যাডার বাহিনীতে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সাবেক সহ-সভাপতি মাজলুল রহমান ফজলু, সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, ছাত্রলীগ কর্মী সেলিম, রনি, শুভ, মমিন, বাদল, চশমা মমিনসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন। তারা সবাই জাকিরের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেন। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় ছিনতাই-চাঁদাবাজিতেও তারা জড়িত। এলাকার দোকানপাট, রিকশার গ্যারেজ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করেন তারা। ভয়ে এলাকার লোকজন জাকির ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারে না। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জাকির গ্রুপের টেন্ডার-বাণিজ্যের মূল জায়গা হলো বিজি প্রেস। সরকারি এই ছাপাখানায় প্রতি মাসেই কোটি কোটি টাকার টেন্ডারের কাজ হয়ে থাকে বলে জানা গেছে। এ কারণে জাকির গ্রুপ বিজি প্রেসে সাধারণ ঠিকাদারদের কাজ করতে দেয় না।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার একটি সূত্র জানায়, জাকিরের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। ১৩ এপ্রিল জাকিরের টেন্ডারবাজি নিয়ে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার এএসআই রেজাউল করিম থানার সাধারণ ডায়েরি বইতে একটি নোট লেখেন। ওই নোটে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন তিনি দুই কনস্টেবল আরিফুর রহমান ও আমিনুল ইসলামকে নিয়ে বিজি প্রেসে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেদিন বিজি প্রেসের একটি শাখায় টেন্ডার জমাদানের শেষ তারিখ ছিল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কাজল নামে এক ঠিকাদার টেন্ডার জমা দিতে গেলে জাকির ও তার সহযোগীরা বাধা দেন। পরে তিনি তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে জাকির ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যান। বিষয়টি ঊধর্্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে তিনি থানায় ডায়েরিতে নোট লিখে রাখেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাকির ও তার সহযোগীদের অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ে সরকারের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। ওই প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ সদর দফতরে পাঠানো হয়। পুলিশ সদর দফতর থেকে ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয় হয়ে তা পাঠানো হয় পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনারের কার্যালয়ে। ১২ আগস্ট তেজগাঁওয়ের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে জাকির হোসেন সাগর বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আমি এ ধরনের কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত নই।

উৎসঃ   বাংলাদেশ প্রতিদিন

এই বিভাগের আরও খবর

  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com