1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

তাবলীগ প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৫
  • ৭১ দেখা হয়েছে

মুহাম্মদ শামসুল হক শারেক :
তাবলীগ বা দ্বীন ইসলামের দাওয়াতী কাজ করা প্রত্যেক মুসলামানের দায়িত্ব ও কর্তব্য। বিশ্বনবী সঃ দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার পর তাঁর আদর্শস্নাত সাহাবী, তাবেয়ী ও তাবে-তাবেয়ীগণের মাধ্যমে ইসলামী জীবন বিধান প্রচার ও প্রসারের কার্যক্রম আরো বিস্তৃতি লাভ করে। কিন্তু কালক্রমে মুসলিম শাসকদের ক্ষমতা বিলুপ্তির পর ইসলামের প্রচার কার্যক্রমে ভাটা পড়তে থাকে। মুসলমানরা নানাভাবে নির্যাতিত ও নিগৃহীত হতে থাকে। পর্যায় ক্রমে তারা ঈমান আমল হারাতে বসে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য বিভিন্নভাবে মুসলিম মনীষীদের প্রচেষ্টাও অব্যাহত ছিল। এমনই এক পরিস্থিতিতে মাওলানা মুহাম্মাদ ইলিয়াছ রহঃ ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের দিল্লীতে ইসলামী দাওয়াহ কার্যক্রম তাবলীগ জামায়াতের সূচনা করেন। তাঁর খুলুসিয়াত ও নিরলস প্রচেষ্টার ফলে তাবলীগ জামায়াত আজ একটি বহুল প্রচারিত ইসলামী দাওয়াহ আন্দোলনে রূপ নেয়। সারা বিশ্বে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার একক ইসলামী সংগঠন তাবলীগ জামায়াত। এক আল্লাহর বান্দাহ ফার্সি কবিতায় বলছেন-‘আগর গিতী সারাসর বাদ গীরদ, চেরাগে মুক্ববিলাঁ হারগিজ নমিরদ’ আল্লাহর কোন মক্ববুল বান্দাহ এখলাছের সাথে কোন আলো জ্বালালে বা কোন ভাল কাজ শুরু করলে যত ঝড় তুফান আসুক তা নিবে না বা বন্ধ হয়না। বলা য়ায় মাওলানা ইলিয়াছ রাঃ এর সূচনা করা ‘তাবলীগ জামায়তের ব্যাপারেও তাই হয়েছে। তাবলীগ জামায়াত বিশ্বব্যাপী একটি ইসলামী দাওয়া কার্যক্রমের নাম। ২০০৮ সালের এক সমীক্ষা থেকে জানাগেছে, বিশ্বের ২১৩ টি দেশে তাবলীগ জামায়াতের কাজ চলছে এবং ১০০ থেকে ১৫০ মিলিয়ন মুসলমান তাবলীগী কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত।
তাবলীগ জামায়াত ইসলাম ধর্মভিত্তিক কিছু কাজ হলেও এটি এখন বিশ্বব্যাপী একটি ইসলামী জাগরণ বা সংগঠন। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকা। সাধারণত মানুষকে ঈমান, আমল ও আখিরাত এর কথা বলে আল্লাহর রাস্তায় দাওয়াতী কাজে সময় দেয়ার জন্য প্রথমে তিনদিনের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়। এর পর যথাক্রমে সাতদিন ও চল্লিশদিন বা এক চিল্লার জন্য আল্লাহর রাস্তায় দাওয়াতের-এর কাজে সময় দিতে উদ্বুদ্ধ করা হয়ে থাকে। তাবলীগ জামায়াত-এর মুল ভিত্তি হিসেবে ধরা হয ৬টি উসুল বা মূলনীতিকে। এগুলো হলো ঃ কালিমা, নামায, ঈল্ম, যিকির, একরামুল মুসলিমিন বা মুসলমানদের সহায়তা করা, সহিহ নিয়াত বা বিশুদ্ধ মনোবাঞ্ছা, এবং তাবলীগ বা ইসলামের দাওয়াত।
ইসলাম মহান আল্লাহ তায়ালার মনোনীত এবং একমাত্র পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে ইসলামের বাণী পৌঁছে দেয়ার জন্য আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে অসংখ্য নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছিলেন। যেহেতু বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর শেষ নবী বা বাণীবাহক। তাঁর পরে আর কোনো নবী বা রাসূল আসবেন না। তাই মুহাম্মদ (সাঃ) বিদায় হজ্বের ভাষণে মুসলমানদেরকে বিশ্বব্যাপী ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব অর্পণ করেন। নবীজি বিদায় হজ্বের ভাষণে উপস্থিত লাখো সাহাবায়ে কেরামদের জিজ্ঞেস করেন ‘আমি কি তোমাদের কাছে আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে পেরেছি? তখন সমস্বরে সবাই বলেন অবশ্যই ইয়া রাসুলাল্লাহ। তখন নবীজি বলেন আল্লাহ তুমি এর সাক্ষী থাক। এর পর নবীজি এরশাদ করেন ‘ফাল ইউবাল্লিগুশ শাহিদাল গাইবা’ অতপর আজ তোমরা যারা এখানে (অরাফায়) উপস্থিত তারা কিয়ামত পর্যন্ত অনাগত মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে থাক’।
আল্লাহ তায়ালা বলেন ‘তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানুষের(কল্যাণের) জন্য তোমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে। তোমরা মানুষকে সৎ কাজের আদেশ করবে এবং অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে’। (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১১০)।‘তার কথার চেয়ে ভাল কথা আর কি হতে পারে! যে মানুযকে আল্লহর দিকে ডাকে, নিজে নেক আমল করে আর বলে যে, আমি মুসলমানদের মধ্য হতে একজন। (সূরা হা মীম সিজদা, আয়াত-৩৩)। এতে করে বুঝা যায় ইসলামের দওয়াত ও তাবলীগের প্রতি কুরআন-হাদিসের সমর্থন শুধু নয় বরং এই কাজ মিল্লাতে ইসলামিয়ার সকলের উপর কর্তব্য।
তাবলীগ জামায়াতের এই দাওয়াতী কাজের প্রতি ভারতের যুগশ্রেষ্ঠ ইসলামী মনীষীরা সমর্থন দিয়েছেন এবং এই দাওয়াতী কাজে উৎসাহিত করেছেন। আল্লামা আবুল হাসান আলী নদভী, আলামা আশারাফ আলী থানবী, দারুল উলুম দেওবন্দের ওলামায়ে কেরামসহ শ্রেষ্ঠ ওলামায়ে কেরাম তাবলীগ জামায়াতের ইসলাম প্রচারকে ইসলাম সম্মত কাজ বলে সমর্থন করেছেন। তবে একথাও ঠিক যেহেতু ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান সেহেতু তাবলীগের ৬ উসুল ছাড়াও ইসলামের আরো অনেক কাজ আছে। যেমন তাবলীগ জামায়াত যেরকম ইসলামের দাওয়াতী কাজের মাধ্যমে ঈমান আমল আখলাক বিশুদ্ধ করণের কাজ করে যাচ্ছে, তেমনি দ্বীনি মাদ্রাসা গুলো সমাজে ব্যাপকভোবে ইসলামের জ্ঞান বিতরণ ও সমাজকে ইসলামী করণের কাজ করে যাচ্ছে। খানাকা গুলোতে (ছহি) পীর সাহেবরা ইসলামের তালকীন দিয়ে ইসলামী সমাজের পরিপূর্ণতার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। একইভাবে ইসলামী রাজনৈতিক দলগুলো (বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে) পূর্ণাঙ্গ ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার কাজ করে যাচ্ছেন-এতে কোন সন্দেহ নেই। তাই ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী প্রতিষ্ঠান গুলোর সব সেবা এবং তৎপরতা গুলো মিলেই হলো পূর্ণাঙ্গ ইসলামের কাজ। আরো খুলাশা করে বললে হয়-বক্তারা বক্তৃতার মাধ্যমে, লেখকরা লেখার মাধ্যমে, ব্যবসায়ীরা ব্যবসার মাধ্যমে, রাজনীতিবিদরা রাজনীতির মাধ্যমে, ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতার মাধ্যমে এবং দায়ীরা দাওয়াতের মাধ্যমে স্বস্ব অবস্থান থেকে যেসব ইসলামী তৎপরতা চালিয়ে থাকেন ওসব গুলো মিলেই পূর্ণাঙ্গ ইসলাম। এদের কেউ যদি মনে করেন শুধু তিনি যা করেন তাই ইসলাম। এর বাইরে আর কোন ইসলামী কাজ নেই। তা কিন্তু ঠিক নয়, এটা ভুল। কোন সঙ্গত কারণে কেউ প্রচলিত কোন দ্বীনি জামায়াতের সাথে দাওয়াতী কাজ করতে না পারলে তিনি নিজেই দাওয়াতী কাজ করবেন। এতেও দাওয়াত ও তাবলীগের ফরজ আদায় হবে। কারণ এখন আল্লাহর নবী নেই, সাহাবায়ে কেরামরা নেই। তাই আর কারো পক্ষে পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলামের কাজ করা সম্ভব নয় বা দাবি করা ঠিক হবে না।
তবে দেখতে হবে যেসব ইসলামী সেন্টার গুলো ইসলামের কাজ করে যাচ্ছেন তা কুরআন এবং সুন্নাহর আদলে হচ্ছে কিনা। সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামের দুশমনরা বিভিন্ন ইসলাম বিরোধী কার্যক্রমকে ইসলামের নামে চালিয়ে দিয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের মারাত্মক ক্ষতি করছে। ইসলামের লেবাস পরে কিছু লোক ইসলামের ক্ষতি করছে। এতে বিভ্রান্ত হচ্ছে মুসলমানরা, নষ্ট হচ্ছে ইসলামের মহাত্ম। ইসলাম কোন ধরণের সন্ত্রাস, খুনাখুনি, চাঁদাবাজী, ধোকাবাজি, জুলম-নির্যাতন, মিথ্যা ও ঠকবাজির অনুমতি দেয় না। এসব যারা করে তাদের চরিত্র ইসলামের সুমহান আদর্শের সাথে মিলে না। কোন ব্যাপার ইসলাম সম্মত কিনা দেখার জন্য তা কুরআন ও রসুল সঃ এর সুন্নাহর সাথে মিলে কিনা দেখতে হবে। রসুল সঃ দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়ার সময় সাহাবায়ে কেরামদের জিজ্ঞাসার উত্তরে বলে ছিলেন ‘তোমরা কুরআন এবং আমার সুন্নাহকে যতদিন আকড়ে ধরে থাকবে ততদিন কক্ষনো পথ ভ্রষ্ট হবে না’।
প্রতি বছর ঢাকার টঙ্গীতে তাবলীগ জামায়াতের বিশ্ব ইজতেমা হয়ে থাকে। এতে লাখ লাখ মানুষের সমাগম হয়ে থাকে। তখন প্রচন্ড কষ্ট হয় মানুষের। মাসুষের কষ্ট লাঘবে তাবলীগের মুরুব্বিরা এখন জেলায় জেলায় মিনি ইজতেমা শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানাগেছে। তাই তাবলীগ জামায়াতের আয়োজনে গতবছরের মত আবারও কক্সবাজারে তিনদিনের ‘মিনি ইজতেমা’ শুারু হচ্ছে। জেলাভিত্তিক এই ইজতেমা ১৭ ডিসেম্বর থেকে তিনদিন চলবে। এবার কক্সবাজার শহরের জেলে পার্ক সংলগ্ন বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের পাশে এই আয়োজন চলছে। আয়োজকদের আশা, এবারের ইজতেমায় দুই লক্ষাধিক মানুষ উপস্থিত হতে পারেন। তবে দেড় লাখ মানুষের বসার আয়োজন নিয়ে সম্পন্ন হয়েছে প্রস্তুতি।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনদিনের ইজতেমায় কক্সবাজার জেলার আট উপজেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে তাবলীগে থাকা বিভিন্ন দেশের মানুষ উপস্থিত থাকবেন।
তাদের মতে, এবার কক্সবাজার জেলা ইজতেমায় মানুষের খেদমত করার জন্য ৯টি জামাতে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেক জামায়াতে প্রায় ৫০ জন করে কাজ করবেন। আয়োজকরা বলেন, ‘ইজতেমার মূল উদ্দেশ্য হলো তাবলীগে যাওয়ার জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা।’এবারের ইজতেমার পর প্রায় ৩০ হাজার মানুষ তাবলীগের চিল্লায় যাবেন বলেও তাদের ধারণা। তারা জানান, ইজতেমায় ২০০ টয়লেট, ৪০০ পশ্রাব করার জায়গা, ১২টি মোটর, ৩০টি টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। এছাড়া একটি পুকুরও ব্যবহার করা হবে। এবারও ইজতেমায় মুসল্লিদের বয়ান দেবেন কাকরাইলের তাবলীগ জামায়াতের হুজুররা। ইজতেমার কর্মসূচী অনুযায়ী ১৬ ডিসেম্বর মাগরিবের নামাজের পর থেকে ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। প্রত্যেক নামাজের পর বয়ান চলবে এবং তৃতীয় দিন মোনাজাতের মাধ্যমে ইজতেমার সমাপ্তি হবে।
ইজতেমা আয়োজনের সাথে জড়িতরা দাবি করেন, প্রত্যেক বছর দেশের ৬৪ জেলার মানুষ বিশ্ব ইজতেমা পালন করতে ঢাকায় যান। বর্তমানে বিশ্ব ইজতেমাকে দুই ভাগে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিশ্ব ইজতেমায় ৩২ জেলার মানুষ ২ পর্বে অংশগ্রহন করবেন এবং বাকি ৩২ জেলার মানুষ নিজ নিজ জেলায় ইজতেমা করার অনুমতি দিয়েছেন মুরব্বিরা। তারই অংশ হিসেবে কক্সবাজার জেলায় ইজতেমা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com