1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

দক্ষিন রুমালিয়ারছড়ার মুক্তিযোদ্ধা বীর প্রতিক নুরুল হুদার পরিবারের খবর কেউ রাখেনা

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৫
  • ৫৮ দেখা হয়েছে

ছৈয়দ আলম, কক্সবাজার আলো :
কক্সবাজার শহরের দক্ষিন রুমালিয়ারছড়ার মুক্তিযোদ্ধা (মরহুম) বীর প্রতিক নুরুল হুদার পরিবারের সন্তানদের দিন খাটছে অভাব অনটন অনাহারে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ও বিডিআর এর সুবেদার বীর প্রতিক হিসেবে কক্সবাজারে পরিচিত মরহুম নায়েক সুবেদার নুরুল হুদা কক্সবাজার পৌরসভার দক্ষিন রুমালিয়ারছড়ার স্থায়ী বাসিন্দা। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অসামান্য কৃতি প্রদর্শনের জন্য তকে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বীর প্রতিকও ভুষিত করা হয়। পরে তিনি ২০০৮ সালে মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবারের খবর কেউ রাখছেন না। যার ফলে এ বীর প্রতিক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে চলছে অর্ধ অনাহারে কঠিন দিনাতিপাত। অনুসন্ধানে জানা যায়, নুরুল হুদা ১৯৫১ সালের ৯ জানুয়ারী ইপিআর বাহিনীতে যোগদান করেন। ঢাকার পিলখানায় ৭ মাস প্রশিক্ষন শেষে ১৯৫১ সালের ৩১ জুলাই নব্য সৈনিক হিসেবে শপথ গ্রহন করেন। প্রশিক্ষন শেষে তাকে দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরে ২ নম্বর উইংয়ের ১১ নম্বর কোম্পানীতে বদলী করা হয়। তিনি ১৯৬০ সালের অক্টোবর মাসে হাবিলদার পদে উন্নীত হন এবং সাতক্ষীরা কোম্পানীর দায়িত্ব পান। তিনি ঢাকায় ১ মাস ফ্রি ইনটেলিজেন্স কোর্স সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে রাওয়ালপিন্ডিতে তিন মাসের ইনটেলিজেন্স কোর্স সমাপ্ত করে দেশে ফিরে এসে ৫ উইংয়ের ইনটেলিজেন্স এর দায়িত্বে নিযোজিত থাকেন। ১৯৬৮ সালে পুনরায় তিনি রাওয়ালপিন্ডিতে ৬ সপ্তাহের সিকিউরিটি কোর্স সম্পন্ন করেন। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পাকিস্তানের জম্মুরিযা ইসলামিয়া দিবসে নুরুল হুদা, নায়েক সুবেদার আবদুল মালেক, হাবিলদার তোফাজ্জল, হাবিলদার আবদুর রহমান ও হাবিলদার মাহবুব যশোর সেক্টর হেডকোয়াটারে যথাযত সম্মান প্রদর্শন পূর্বক বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। ২৭ মার্চ তারা বিদ্রোহ ঘোষনা করে রাত ১২ টার দিকে যমোর ইপিআর হেডকোয়ার্টারের অস্ত্রাগার ভেংগে সমস্ত অস্ত্র নিজেদের দখলে নিয়ে অবাঙালি সৈনিকদের নিরস্ত্র করে নড়াইল জেলাখানায় বন্দি করেন। পরবর্তীতে হানাদার বাহিনী যশোর দখল করলে এপ্রিল মাসে যমোর ত্যাগ করে তারা ঝিকরগাছায় প্রতিরক্ষা ব্যুহ স্থাপন করেন। এবং যুদ্ধ করতে করতে নাভারন হয়ে বেনাপোল যান। এপ্রিল এর শেষের দিকে তারা ভারতের পেট্রাপোল নামক স্থানে অবস্থান নেন এবং শিকারপুর, মহানন্দপুর, বনগাঁও, বসিরহাট, বয়রা ইত্যাদি এলাকায় ক্যাম্প স্থাপন করেন। পেট্রাপোল হতে পরবর্তীতে কল্যানী চলে যান। সেখানে তারা রিয়ার হেডকোয়ার্টার এবং কৃষœনগরে হেডকোয়ার্টার গঠন করেন। সেখান থেকে তারা সুশৃঙ্খলভাবে দেশ স্বাধীন হওয়ার পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত শত্রুবাহিনীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। ৩/৪ডিসেম্বর তারা হেড কোয়ার্টার নিয়ে বেনাপোল হয়ে যশোর প্রবেশ করেন। চুরামনকাটি, ফুলতলা ও নোয়াপাড়া প্রভৃতি স্থানে মিত্রবাহিনীর সাথে মিলিতভাবে পাক সেনাদের বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ কক্সবাজারের এই মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হুদাকে ‘বীর প্রতিক’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্ব সূচক পুরস্কার প্রাপ্তদের পদক অনুষ্ঠান ১৯৯২ সাল সূত্রে তৎকালীন মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোহাম্মদ আইয়ুবুর রহমান সম্পাদিত বইটিতে প্রাক্তন ইপিআর নায়েক সুবেদার নুরুল হুদাকে ১৮৮ নং র‌্যাংক তদানিন্তন হিসেবে তাকে বীর প্রতিক ভূষিত করে পুরস্কৃত করা হয়। বীরত্ব ভূষণ সনদপত্র অনুযায়ী তাকে বাংলাদেশ গেজেট নোটিফিকেশন নং- ৮/২৫/ডি-১/৭২-১৩৭৮, ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালের প্রাধিকার অনুযায়ী নোট হিসাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙ্গালী জাতির গৌরবজ্জল মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করিয়া দেশের স্বাথীনতা অর্জনে বলিষ্ট ভূমিকা রাখায় জাতি বাংলা মায়ের এই মহান বীর সন্তানকে বীরোচিত সম্মান বীর প্রতিক ভূষনে সম্মানিত করেন। যার সনদ পত্র নং- ১৮৮। অপরদিকে বীর প্রতিক নুরুল হুদাকে কক্সবাজার অঞ্চলের বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে ১০ পদাতিক ডিভিশন কক্সবাজার এরিয়া এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটি কক্সবাজারের সকল সদস্যের পক্ষ থেকে সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০১৫ উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা নিদর্শন স্বরূপ একটি ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। তাকে জনতা ব্যাংক কর্তৃক মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযুদ্ধা সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। তার মেঝ ছেলে নজমুল হুদা বলেন, বাস্তবে ইতিহাস ক্ষেত্রে দেখা যায় বর্তমানে অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা না হয়ে মুক্তিযোদ্ধা সেজে গেছে। যার ফলে বর্তমান আওয়ামী সরকারে বিভিন্ন সরকারী সুযোগ সুবিধা গ্রহন করলেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার অনেক পরিবারের খোঁজ খবর কেউ রাখেনা। এর মধ্যে (মরহুম) মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হুদা ১ জন। তার স্ত্রী, ৩ ছেলে রয়েছে। এর মধ্যে ৩ ছেলেই বর্তমানে বেকারত্ব রয়েছে। বক্তি জিবনে ৩ ছেলে বিবাহ সম্পন্ন করে কঠিন চাপে জিবন ধারন করে চলছেন। তিনি আক্ষেপ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শে সারা বাংলাদেশে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরি এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসনসহ তার সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করে আসলেও কিন্তু কালে বিবর্তনে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে শহরের দক্ষিন রুমালিয়ারছড়া এলাকার মরহুম নুরুল হুদার মুক্তিযোদ্ধের সময় কালের জীবন বৃত্তান্ত। সরকারী উচ্চ মহল বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক ইতিহাস। মুক্তিযোদ্ধা (মরহুম) নুরুল হুদার পুত্র নজমুল হুদা এ প্রতিবেদকের সাথে কথা বলার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় তাদের হাতে ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ একসাথে তাদের পিতার ছবি। এবং প্রকাশিত নুরুল হুদার বিভিন্ন বই ও প্রদানমন্ত্রী কর্তৃক দেয়া সম্মাননাও। ঐ বইটির প্রতি লাইনে মুক্তিযোদ্ধের সময় কয়েক শত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন বৃত্তান্ত তুলে ধরা হয়েছে। তার পিতার নামটি দেখিয়ে দিয়ে পুত্র বলেন, এ জন্যই কী আমার পিতা নুরুল হুদাসহ ৩০ লক্ষ শহীদের ১০ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। আমাদের কোথাও মাথা গুজার ঠাই নেই, অভাব অনটনে দিন কাটছে। দেশে অনেক ভূয়া মুক্তিযোদ্ধারা সরকারের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পেলেও আমরা কোনদিন কিছুই পায়নি। এমনি মুক্তিযোদ্ধোর কোঠাই শিক্ষা চাকুরিসহ অনেক সুযোগ সুবিধা করে দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির সংগঠন আওয়ামীলীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমার মরহুম পিতা নুরুল হুদা একজন কাঠি দেশ প্রেমিক ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আমরা চাই এর সরকারের আমলে তার পরিবারের ভরনপোষন ও সবসময় খবরদারি। ঐ সময় তার ছেলে প্রতিবেদককে উদ্দেশ্য করে বলেন, সাংবাদিক ভাই আপনি আমার পিতার সম্পর্কে একটু লিখুন। দেশের মানুষ জানুক আমার মরহুম পিতা নুরুল হুদা কী অবদান রেখেছিল। আজ আমরা পথ হারা পথিক। এলোমেলোভাবে কাটছে আমাদের জীবন জীবিকা। এ বিষয়ে সরকারী উচ্চ পর্যায়ে তদন্ত করে আমাদের জন্য একটি ব্যবস্থা গ্রহন করিলে বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরতœ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট চির কৃতজ্ঞ থাকিব।

মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নুরুল হুদা পরিচিতি
নাম ঃ মরহুম নায়েক সুবেদার নুরুল হুদা
খেতাব ঃ বীর প্রতিক
বাহিনী ঃ বিডিআর
মাতা ঃ মরহুমা চেমন খাতুন
পিতা ঃ মরহুম সোলাইমান
ঠিকানা ঃ দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া, কক্সবাজার সদর, কক্সবাজার।
যোগাযোগ ঃ ০১৮২৪৮৭৮৬৪৮, ০১৮১১১১২৬৮৬
জন্ম ঃ ১৯/১১/১৯২৯ ইং
মৃত্যু ঃ ০৬/০৩/২০০৮
স্ত্রী ঃ দিলদার বেগম
সন্তান ঃ তিন পুত্র
গেজেট ঃ ৪৩৮

এই বিভাগের আরও খবর

  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com