1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

দরূদ শরীফ ঈমানী শক্তি বৃদ্ধি করে

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৫
  • ৫১ দেখা হয়েছে

ফিরোজ আহাম্মদ :
পবিত্র কোরআনের সূরা তীনের ৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেন, আমি মানুষকে সুন্দর আকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছি। আঠার হাজার মাখলুকাতের মধ্যে পবিত্র কোরআনের ঘোষণা মতে মানুষ সবচেয়ে বেশি সুন্দর। তার চেয়ে বেশি বেশি গুণ সুন্দর হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর দৈহিক গঠন, জীবন ও চরিত্র। তিনি নবী ও রাসূলদের সর্বশ্রেষ্ট। ১০৪ খানা আসমানি কিতাবের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট মহাগ্রন্থ আল কোরআন হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর উপর নাজিল হয়েছে। উম্মত হিসেবে ইহা আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। হযরত মুহাম্মদ (স.)কে সম্মান প্রদর্শনের জন্য আল্লাহ কোরআনে আমাদের নির্দেশ করেছেন। সুরা ফাতাহ এর ৮ ও ৯ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে ‘আমি তোমাকে (নবী) প্রেরণ করিয়াছি সাক্ষীরূপে, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে। যাহাতে তোমরা আল্লাহ ও তাহার রাসূলের প্রতি ঈমান আন এবং তোমরা রাসূলকে শক্তি যোগাও তাহাকে সম্মান কর’। সূরা আহযাবের ৫৬ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে, “আল্লাহর নবীর প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তাঁহার ফেরেশতাগণও নবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করে। হে মুমিনগণ! তোমরাও নবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা কর ও তাহাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও”। খাবার, পানি, বাতাস, মাটি, বৃষ্টি, আগুন, পাহাড় ও সমুদ্রকে আল্লাহ আমাদের জন্য রহমত স্বরূপ দিয়েছেন। সূর্য্যরে আলোকে আমাদের অধীন করে দিয়েছেন দিনের বেলায় খাবার সংগ্রহের জন্য, রাতকে বিশ্রামের জন্য দিয়েছেন, সমুদ্র থেকে মৎস্য আহরণের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এইভাবে আরো অনেক নেয়ামত আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনের ঘোষণা মোতাবেক হযরত মুহাম্মদ (স.) আমাদের জন্য রহমত স্বরূপ। সূরা আম্বিয়ার ১০৭ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে, আমি তো তোমাকে বিশ্ব জগতের প্রতি কেবল রহমত রূপেই প্রেরণ করিয়াছি। হযরত মুহাম্মদ (স.) সকল সৃষ্টির জন্য রহমাতুল্লিল আলামিন হিসেবে আল্লাহ সুবহানুতায়ালা দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। হযরত মুহাম্মদ (স.) উপর অবতীর্ণ মহাগ্রন্থ আল কোরআনে আল্লাহ মাছ গাছ নদ নদী পাহাড় সমুদ্র ফল ফলাদি বিয়েশাদি সন্তান গর্ভধারণ লালন পালন থেকে শুরু করে এমন কোন বিষয় নেই যার বর্ণনা কোরআনে নেই। সূরা কামার ১৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি তোমাদের মধ্যে উপদেশ নেয়ার মত কেউ কি আছে?সূরা আন নিসার ৮০ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে, যে হযরত রাসূল (স.)-এর আনুগত্য করিল সে আল্লাহর আনুগত্য করিল। হাদিছ শরীফে তাগিদ দেয়া হয়েছে, যে ব্যক্তি জান্নাতে এবং হাশরের মাঠে হযরত রাসূল (স.) সাথে থাকতে ইচ্ছা পোষণ করে সে যেন বেশি বেশি দরূদ পাঠ করে। সুনানে তিরমিযির কায়রো সংস্করণের ৩৯৫৭ নং হাদিছে বলা হয়েছে, “আগুন সেই মুসলিমকে স্পর্শ করবে না যে আমাকে দেখেছে”। অন্য হাদিছে এসেছে, যে বেশি বেশি দরূদ পাঠ করবে হযরত রাসূল (স.)এর সুপারিশ তাঁর জন্য ওয়াজিব হয়ে যাবে। স্বপ্নযোগে হযরত রাসূল (স.)-এর দিদার নসীব হবে। আর যে নবী মোহাম্মদ (স.)-এর নাম উচ্চারণের সাথে সাথে দরূদ পাঠ করে না সে হযরত রাসূল (স.) এর প্রতি বখিলতা বা কৃপণতা প্রদর্শন করল।মেশকাত ও বায়হাকী শরীফে উল্লেখ করা হয়েছে, হুজুর আকরাম (স.) এরশাদ করেন, যে বক্তি আমার কবরের নিকট দাঁড়াইয়া আমার উপর দরূদ পাঠ করে আমি তাহা শুনিয়া থাকি আর যে ব্যক্তি দূর হইতে আমার উপর দরূদ পড়িয়া থাকে তাহা আমার নিকট পৌঁছানো হয়। হযরত রাসূল (স.) আরো এরশাদ করেন, আল্লাহ তায়ালা আমার কবরের উপর এমন একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করে রেখেছেন যে সমস্ত মাখলুকের কথা শুনিবার ক্ষমতা রাখে। যে ব্যক্তি আমার উপর দরূদ শরীফ পাঠ করবে সেই ফেরেশতা দরূদ পাঠকারী এবং তাহার পিতার নাম উল্লেখ করে বলেন, হে রাসূল (স.)! অমুক ব্যক্তির সন্তান আপনার উপর দরূদ শরীফ পাঠ করিয়াছেন।পবিত্র কোরআনের সূরা নূর-এর ৬৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, রাসূলের আহ্বানকে তোমরা তোমাদের একে অপরের প্রতি আহ্বানের মত মনে করিও না। আমরা যেন রাসূল (স.)কে সম্মান প্রদর্শনের ব্যাপারে উদাসীন না হই সেজন্যে সূরা নূরে আল্লাহ সুবহানুতায়ালা আমাদের সতর্ক করেছেন। উম্মত হিসেবে রাসূল (স.)-এর উপর দরূদ পড়া একান্ত অপরিহার্য। আমাদের কেউ যদি রাসূল (স.) উপর না পড়েন এতে হযরত রাসূল (স.)-এর সম্মান ও মর্যাদার বিন্দুমাত্র ঘাটতি হবে না। পবিত্র কোরআনের ঘোষণা মোতাবেক হযরত রাসূল (স.) বিশ্ব নবী, সুসংবাদদাতা, নবীদের সরদার হিসেবেই থাকবেন। আমাদের কর্তৃক সম্মান প্রদর্শনের পূর্বে আল্লাহ সুবহানুতায়ালা নিজেই তাঁর হাবীব (স.)কে সম্মান জানিয়ে হযরত রাসূল (স.)-এর সুমহান মর্যাদা নিশ্চিত করে রেখেছেন। আমরা যেন রাসূল (স.) এর উপর দরূদ পড়ার ক্ষেত্রে গাফেল না হই সেজন্য আল্লাহ সুবহানুতায়ালা আজান, ইকামত, পাঞ্জেখানা নামাজ, জানাজার নামাজ সবক্ষেত্রে দুরূদকে বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে এসেছে “যে নামাজ পড়ল আর যে নামাজ পড়ল না সে কি একই রকম”? কখনও না । তদ্রুপ যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাসূল (স.)-এর সম্মানার্থে দরূদ পড়ল, মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করল এবং রাসূল (স.) এর শানমান আলোচনার ব্যবস্থা করল আর যে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী মিলাদ মাহফিল আয়োজন করা থেকে বিরত থাকল কিম্বা মিলাদ মাহফিল আয়োজনের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করল সে কি একই রকম? কখনও না। পবিত্র কোরআনের সূরা নিসার ৮৫ নম্বর আয়াতে ঘোষণা করা হয়েছে, কেহ কোন ভালো কাজের সুপারিশ করলে উহাতে তাহার অংশ থাকিবে এবং কেহ মন্দ কাজের সুপারিশ করলে উহাতে তাহার অংশ থাকবে। দরূদ পাঠের মাধ্যমে মুমিনের ঈমানের দৃঢ়তা বৃদ্ধি পায়। দরূদ পাঠের মাধ্যমে রাসূল (স.) উপর আনুগত্য প্রকাশ করা হয়। যে কোন দোয়া পাঠের পূর্বে এবং দোয়া পাঠ শেষে দরূদ পাঠ করলে আল্লাহ খুশি হয়ে বান্দার প্রার্থনা কবুল করেন। দুনিয়াতে কেউ কোন সাহায্য করলে আমরা ধন্যবাদ জানানোর জন্য অস্থির হয়ে যাই। সাহায্যের বিনিময় হিসেবে বাসাবাড়িতে ফলফলাদি নিয়ে দেখা করতে যাই। অথচ যে রাসূল (স.) এর মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানুতালা রহমত হিসেবে আমাদেরকে মহাগ্রন্থ আল কোরআন দান করলেন তাঁর উপর দরূদ পাঠ করবনা উম্মত হিসেবে ইহা কিভাবে সম্ভব। হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতি যার ভালোবাসার পরিমাণ বেশি তাঁর ঈমানের দৃঢ়তা তত বেশি। দরূদ পাঠ করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। কলেমা তইয়্যাবা পাঠের সময় রাসূল (স.) নাম উচ্চারণ যেমন বাধ্যতামূলক। তেমনি মুসলমানের ঈমানী শক্তি বৃদ্ধি করতে হলে দরূদ পাঠ করা অপরিহার্য। আল্লাহ আমাদের বেশি বেশি দরূদ পাঠের তৌফিক দান করুন। আমিন।সত্যালোকের সন্ধ্যানেমুসলিম জীবনে হজের গুরুত্ব ও তাৎপর্যআসাদুজ্জামান আসাদমুসলিম জাতির জন্য, হজ একটি মহা সম্মেলন। প্রতি বছর হজের মাধ্যমে সারা বিশ্বের মুসলিম জাতি একত্রিত হবার সৌভাগ্য অর্জন করে থাকেন। জিলহজ্জ মাসে আরাফার ময়দানে লক্ষ লক্ষ মানুষ পরস্পর পরস্পরের প্রতি মায়া-মমতা, ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করেন। একে অপরের খোঁজ-খবর নেয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন। বিশ্ব নবী (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক মুসলমান পরস্পর পরস্পর ভাই ভাই’। প্রত্যেক মোমিন মুসলমানগণ হজের যাবতীয় বিধি-বিধান যথাযথভাবে পালন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি আদায় করার চেষ্টা করেন। নিষিদ্ধ কার্যাবলী থেকে নিজেকে বিরত রাখেন। এই আর্থিক ইবাদতটি নেসাব পূর্ণব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ আদায় করতে পারেন না। আল্লাহ তাআলার দেয়া বিধি-বিধান অনুযায়ী হজ আদায় করতে পারলে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রে, ভ্রাতৃত্ববোধ, সহমর্মিতার সেতু বন্ধন রচনা করা সম্ভব। হজ একটি গুরুত্ব পূর্ণ ইবাদত। হজ ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম। যা পালনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব। ‘যে ব্যক্তি হজ্জ সম্পাদন করল, সেই ব্যক্তি বড়ই ভাগ্যবান। হজের মাধ্যমে সে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করল, যে ব্যক্তি সুভাগ্যবান। সেই ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ তাআলা হজ পালন করার তৌফিক দান করেন’। তাছাড়া হজ প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরজ নয়। সম্পদশালী ব্যক্তির নিকট যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর পূর্ণ থাকে, তাহলে জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ। বিশ্ব নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হজ সম্পাদন করল এবং কোনো প্রকার অন্যায় ও গুনাহের কাজ করল না, সে বাড়ি প্রত্যাবর্তন কালে এমন নিষ্পাপ হয়ে ফিরল, যেন সে এইমাত্র তার মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ট হলো।’ আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী হজ পালন করা ফরজ। এরশাদ হচ্ছে- ‘মানুষের মধ্যে থেকে যে ব্যক্তি কাবা শরীফ গমন করার সার্মথ্য রাখে, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তার ওপর হজ করা একান্ত কর্তব্য’ (সুরা ইমরান)। অন্য জায়গায় বলা হচ্ছে- ‘মানুষের মাঝে আপনি হজের ঘোষণা করুন। তারা আপনার কাছে দূর-দূরান্ত থেকে কেউবা হেঁটে, কেউবা উটের পিঠে সওয়ার হয়ে আসবে’ (সুরা : আল হজ)। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিমিত্তে আল্লাহর নির্দেশে হজ সম্পাদন করা ফরজ, তাতে কোন সন্দেহ নেই। এ ব্যাপারে বিশ্ব নবী (সা.) বলেছেন- ‘যে হজ মানুষকে গুনাহ এবং অন্যান্য খারাবি কাজ থেকে পবিত্র করে, তার পুরস্কার বেহেস্ত ছাড়া অন্য কিছুই নয়’। বিশ্ব নবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মক্কা শরীফে গিয়ে হজ কর। পানি যেমন ময়লাকে ধৌত করে, হজ তেমনি পাপকে ধৌত করে। আল্লাহপাক বায়তুল্লাহকে এতই মর্যাদা দিয়েছেন, যে ব্যক্তি তথায় একটি পয়সা দান করবে, সে লক্ষ পয়সার সওয়াব পাবে। আর যদি তথায় একটি রোজা রাখে তবে সে লক্ষ রোজার সওয়াব পাবে’। হজ সম্পাদনের মাধ্যমে প্রচুর সওয়াব অর্জন করা সম্ভব। প্রিয নবী রাসূল (সা.) বলেছেন, আরাফার দিন মহান আল্লাহ ফেরেস্তাদের ডেকে বলবে, হে ফেরেস্তাগণ! তোমরা দেখ আমার বান্দাগণ বহু দূর দেশ থেকে কষ্ট করে এসে আরাফার ময়দানে ধুলা-মাটির সাথে মিলিত হয়েছে। তোমরা সাক্ষী থাক, আমি তাদেরকে ক্ষমাহ করে দিলাম। শয়তান মালাউন নিজের হাত কপালে মেরে শত শত আফসোস করতে থাকবে’। এভাবে বিশ্ব নবী (সা.) হজে গুরুত্ব ও তাৎপর্যের উপর অনেক কথা বলেছেন। সারা বিশ্বের মোমিন মুসলমানগণ তা যথাযথভাবে পালন করার প্রচেষ্টা করে যাচ্ছেন। হজ একটি আর্থিক ইবাদত। এ ইবাদত দ্বারা শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিক এ তিন প্রকার শুকুর গোজারি আদায় হয়ে যায়। হজ শব্দের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে- ইচ্ছা করা, সংকল্প করা। আর শরীয়তের পরিভাষায়- ‘নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট স্থান সমূহের জিয়ারত ও প্রদক্ষিণ করাকে হজ বলে। এখন আমাদেরকে জানতে হবে, হজ কখন ফরজ হয়েছে? হজ কখন ফরজ হয়েছে তা নিয়ে মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিকদের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে। একদল আলেম মনে করেন হজ মক্কায় হিজরতের পূর্বে ফরজ হয়েছে। তবে পরিবেশ প্রতিকূলতার কারণে হজ আদায় করা রাসূল (সা.) ও তার সাথীদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক ওয়াকেদীর মতে ৫ হিজরী, আল্লামা রাফেয়ী বলেন, ৬ষ্ট হিজরী এবং কেউ কেউ বলেছেন ৭ম হিজরীতে হজ ফরজ হয়েছে। তবে ইমামূল হারামাইন ইবনুল জুযীর মতে, হজ নবম হিজরীতে ফরজ হয়েছে। তিনি দলিল হিসেবে কোরআনের আয়াত পেশ করেন। এরশাদ হচ্ছে- ‘মানুষের মধ্যে থেকে যে কাবা শরীফ গমন করার সার্মথ্য রাখে, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তার ওপর হজ করা একান্ত কর্তব্য’। কোরআনের বাণী সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, এ আয়াতটি নবম হিজরিতে নাজিল হয়েছে। সে বছর রাসূল (সা.) হযরত আবু বক্কর ছিদ্দিক (রা.)-কে আমীরে হুজ্জাজ করে মক্কায় পাঠান এবং পরের বছর তথা ১০ম হিজরিতে বিশ্ব নবী (সা.) হজ আদায় করেন। কোরআন ও হাদীসের আলোকে প্রতীয়মান হয় যে শুধু সম্পদ থাকলেই মানুষের উপর হজ ফরজ হয় না। হজ ফরজ হওয়ার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে। যেমন- বুদ্ধিমান, স্বাধীন, সুস্থ, মুসলমান হওয়া, হজের সময় হওয়া, সম্পদশালী এবং যাতায়াতের পথ নিরাপদ হওয়া, বালেগ বা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া এবং মহিলাদের সাথে স্বামী অথবা মহরেম ব্যক্তি সাথে থাকা বাঞ্ছনীয়। হজ সম্পাদনকারী যখন হজ সম্পাদন করবেন তখন হজের ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত এবং মুস্তাহাবগুলো সুস্পষ্টভাবে পালন করতে হবে। আবার যেসব কার্যাবলী নিষিদ্ধ তা বর্জন করতে হবে। মোট কথা হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম হিসেবে মূল্যায়ন করার বিধি-বিধান পালন করা আবশ্যক। এভাবে সারা মুসলিম জাহান থেকে মোমিন মুসলমানগণ যখন কাবা শরীফে হজ আদায় করার জন্য আসে, তখন হজ বা ওমরা আদায়ের জন্য ইহরাম বাঁধতে হয়। ইহরাম বাঁধার পর নীতিমালা অনুযায়ী সেলাই বিহীন তহবন্দ ও চাঁদর পরিধান করার বিধান রয়েছে। ইহরামের জন্য হজ অথবা ওমরার নিয়তে দুই রাকাত নামাজ শেষে তালবিয়াতের দোয়াটি-‘লাব্বাইয়কা আল্লাহুমা লাব্বাইয়ক, লাব্বাইয়কা লা শারিকা লাকা, লাব্বাইয়কা ইন্নাল হামদওয়ান নিয়ামাতা লাকা ওয়াল মূলকা লা শারিকা লাকা’ পাঠ করতে হবে। মোট কথা ইহরাম ছাড়া মীকাত অতিক্রম করা নিষিদ্ধ। প্রত্যেক হাজী ব্যক্তিকে বাইতুল্লাহর সম্মানার্থে নিজ নিজ মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে। বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবার জন্য নির্ধারিত ৭টি মিকাত রয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন পথে আসা হাজীদের জন্য মিকাত ভাগ করা রয়েছে। মিকাতসমূহ হলো। যথা- যুল হুলায়ফা, যাতে ইরাক, জুহফা, কারণুল মানাযিল, ইয়ালামলাম, হিল্ল এবং হারাম। তবে হজের বিধি-বিধান যথাযথভাবে পালন না করলে হজ আদায় হবে না।মানব জীবনে হজ হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ইহা পালন করার জন্য ইহরাম বাঁধা, কাবা শরীফ প্রদক্ষিণ ও আরাফার ময়দানে অবস্থান করতে হয়। হজ সম্পাদনের কারনে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দার অতীত জীবনের সব গুনাহ মাফ করে দেন। নিজের জীবনের সমস্ত গুনাহ মাফের জন্য রাজাধিরাজ মহান আল্লাহ দরবারে দোয়া করতে হবে। দোয়ার অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! এই হলো আপনার এবং আপনার রাসূল (সা.)-এর হারাম শরীফ। অতএব আপনি আমার গোশত, আমার রক্ত এবং আমার চামড়া জাহান্নামের জন্য হারাম করে দিন। হে আল্লাহ! যে দিন আপনি আপনার বান্দাগণকে আবার উঠাবেন, সে দিন আপনার শাস্তি থেকে আমাকে রক্ষা করুন’। হজ সম্পাদনকারী ব্যক্তি বিশ্ব নবী (সা.)-এর স্মৃতিময় জীবনের অন্যতম স্থান সমূহ দর্শন লাভের সুযোগ পান। নবী (সা.)-এর স্মৃতি ময় জীবনে হাজারে আসওয়া, কাবা শরীফ, মাকামে ইব্রাহীম, মুলতাজাম, মাতাফ, হাতিম, মিজাবে রহমত, জমজম, রুকনে ইয়ামেনি, রুকনে ইরাকী, রুকনে শামি এবং হেরা পর্Ÿত হাজীগণ স্বচোখে দেখার সৌভাগ্য। তখন প্রত্যেক হাজির হৃদয় জুড়ে মহা তৃপ্তির ঢেউ দোলে উঠে। দু’জাহানের বাদশাহ স্যাইয়েদুল মুরসালিন বিশ্ব নবী (সা.)-এর শান্তিময় বাগ ইহ জগতের ঠিকানা পবিত্র রওজা মোবারক স্পর্শ এবং হযরত রাসূল (সা.)-এর অনুসরণ, অনুকরণকারী সাহাবীদের ঠিকানা জান্নাতুল বাকী জিয়ারত করার সৌভাগ্য লাভ করা সম্ভব হয়। আমরা মানুষ। উঁচু-নিচুর পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু হজ সম্মেলনে উঁচু-নিচুর ভেদাভেদ ভুলে ভ্রাতৃত্ব বোধ, সহমর্মিতা, সহানুভূতি ও সাম্যের সেতু বন্ধন তৈরি করা সম্ভব হয়। তাছাড়া এ ইবাদত পালনের সময় প্রত্যেক ব্যক্তির হৃদয় মাঝে প্রচ- তাকওয়া খোদা ভীতি অর্জন হয়। যা অন্য কোন সময়ে এমন খোদা ভীতি অর্জন করা সম্ভব হয় না। ধূলি মাখা পৃথিবীর সব প্রকার লোভ-লালসা ভুলে পরকালের প্রতিচ্ছবি হৃদয় জুড়ে বিরাজ করে। কাবা শরীফে স্ব-চোখে মহানবীর রওজা মোবারক, হাজারে আসওয়াদ, জান্নাতুল বাকী, জমজম কূপ প্রত্যক্ষ করা এবং আরাফাত ময়দানে অবস্থান করার সুভাগ্য লাভ করা যায়। আসলে হজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বিষয়ে আলোচনা করার ভাষা বা জ্ঞান কোনটাই আমার নেই। তবু চেষ্টা করেছি। হজের মাধ্যমে মানব জীবনে, ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সমরনীতি এবং সামাজিক জীবনে ঐক্য ও শান্তি ভরে উঠুক। জাগ্রত হোক সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ। সারা বিশ্বের মুসলমানগণ হিংসা বিদ্বেষ, খুন খারাবি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চুরি ডাকাতি ভুলে সত্য দ্বীনের পথে সঠিকভাবে পরিচালিত হোক। এমনিভাবে যখন মোমিন বান্দাগণ যাবতীয় বিধি-বিধান মেনে হজ সম্পাদন করবে তখন আল্লাহ তাআলা তার জীবনের সমস্ত গুনাহ খাতা মাফ করে দিবেন। সর্বশেষে বলা যায় যে, ইসলাম ধর্ম সত্যের ধর্ম, ঐক্য এবং শান্তির ধর্ম। হজের মত আর্থিক ইবাদত সম্পাদনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব। সুতরাং বলা যায় যে, এ ইবাদতের প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে হজ কবুল হওয়ার গ্যারান্টি আশা করা যায় না। বরং হজ কবুল হতে হলে তাকওয়া এবং আন্তরিকতার প্রয়োজন। তাই তাকওয়া ও আন্তরিকতার সহিত হজের শিক্ষা সবার জীবনে ভরে উঠুক এই কামনা করি। আমিন।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com