1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

দেশে মহামারী আকারে পর্নোগ্রাফি ,শিথিল হচ্ছে লজ্জা ও নৈতিকতার বাঁধন

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ৭ দেখা হয়েছে

পর্নোগ্রাফির বিস্তারে শিথিল হয়ে যাচ্ছে লজ্জা ও নৈতিকতার বাঁধন। ক্রমে বাড়ছে খোলামেলা সংস্কৃতি, লজ্জাহীনতা এবং তরুণ-তরুণী ও নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশার পরিবেশ। ফেসবুকসহ নানা কারণে বিপরীত লিঙ্গের মধ্যে সহজে গড়ে উঠছে বন্ধুত্ব। দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে গার্লফ্রেন্ড, বয়ফ্রেন্ড ও দোস্ত কালচার। পর্নোগ্রাফি মানুষের মধ্যেও উসকে দিচ্ছে নিষিদ্ধ আকাক্সক্ষাÑ ফলে সমাজে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বিয়েপূর্ব এবং বিয়েবহির্ভূত অনৈতিক মেলামেশা। সমাজকে গ্রাস করছে যৌনতাকেন্দ্রিক নানা অপরাধ।

ইউনিসেফের শিশু বিশেষজ্ঞ শাবনাজ জাহেরিণ বিভাগীয় পর্যায়ের ১৫০ জনের ওপর একটি সমীক্ষা পরিচালনা করেন যাদের বয়স ১৬ থেকে ২১ বছর। সমীক্ষায় দেখা গেছে তাদের মধ্যে শতকরা ৬০ জনের যৌনবিষয়ক অভিজ্ঞতা হয়েছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রচারিত সাক্ষাৎকারে তিনি এ উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেন।

এক সময় মা-বাবার উদ্বেগ ছিল ছেলেমেয়েদের মোবাইলে কথা বলা এবং এসএমএস বিনিময়ে সময় নষ্ট করা নিয়ে; কিন্তু এখন ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্কাইপ, ওয়েবক্যামের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক সৃষ্টি এবং কাছাকাছি হওয়ার সুযোগ অনেক বেশি অবারিত হয়েছে, যার পরিণতি অনেক ভয়াবহ। পর্নোগ্রাফি প্রসারের ফলে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অবাধ মেলামেশার পরিবেশ চালু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্বেগজনক চিত্রের কথা জানিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষকেরা। নিজেদের মধ্যে অবাধ মেলামেশা ছাড়াও শিক্ষার্থীদের নিষিদ্ধ পল্লøীতে যাতায়াতের খবরও বের হচ্ছে সম্প্রতি। গত বছর সাত সেপ্টেম্বর দৌলতদিয়া নিষিদ্ধ পল্লøীতে খুন হয়েছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছরের এক শিক্ষার্থী। রাজধানীর পুরান ঢাকায় পর্নো ভিডিওতে অভিনয়ের সময় ধরা পড়ে দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ ছাড়া পুরান ঢাকায় বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের এক ছাত্রী খুন হওয়ার পর জানা যায়, নিহত ওই শিক্ষার্থী এক বয়ফ্রেন্ডের সাথে বাসা ভাড়া নিয়ে লিভটুগেদার করত। অথচ নিহত ছাত্রীর মা-বাবা জানতেন তাদের মেয়ে কলেজের হোস্টেলে থাকে।

এ ছাড়া সম্প্রতি রাজধানীতে এক ব্লগার হত্যার পর তার বাসায় স্ত্রী পরিচয়ে যাকে পাওয়া যায় সে আদৌ তার স্ত্রী নয় বলে দাবি করেছেন নিহত ব্লগারের পরিবারের সদস্যরা। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও দৃশ্যে দেখা গেছে নিহত ব্লগারের স্ত্রী দাবিদার মেয়েটি কয়েকজন তরুণী এবং পুরুষ নিয়ে বাসায় মদের আসর বসিয়ে নানা কাণ্ডকীর্তি করছে, যা প্রকাশযোগ্য নয়।

পর্নো আগ্রাসনের ফলে তরুণসমাজ জড়িয়ে পড়ছে প্রেম-ধর্ষণ-পরকীয়ার মতো অনেক ঘটনায়। কেউ কেউ জড়িয়ে পড়ছেন ত্রিমুখী, চতুর্মুখী সম্পর্কে। এ নিয়ে বন্ধুবান্ধবের মধ্যেও অনেক সময় ঘটছে সঙ্ঘাত হানাহানির ঘটনা। এমনকি ছাত্রছাত্রীরা বিয়ের আগেই জড়িয়ে পড়ছে একাধিক সম্পর্কে। কখনো স্বামী বা স্ত্রী আবার অনেক সময় দেখা যায় স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই একসাথে একাধিক সম্পর্ক রক্ষা করে যাচ্ছে। এসবের রেশ ধরে ঘটছে নানা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা। ঘটছে আত্মহত্যা ও খুনের মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এসব ঘটনার খবরে প্রায়ই বিস্ময়ে হতবাক হচ্ছেন দেশবাসী। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে দুই সন্তানের এক জননীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে কলেজের একাদশ শ্রেণীর এক ছাত্র। পরে ওই ছাত্র দুই সন্তানের জননীকে বিয়ে করার জন্য তার অপর দুই বন্ধু নিয়ে খুন করে মহিলার স্বামীকে।

গত ২৫ জুন রাজধানীর উত্তরা চার নম্বর সেক্টরের একটি নর্দমা থেকে ২৫ বছরের এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কোনো পরিচয় পাওয়া না যাওয়ায় পুলিশ ঢাকা মেডিক্যালের মর্গে পাঠায় লাশ। সেখানে দু’জন লোক এসে অজ্ঞাত তরুণীকে তাদের স্ত্রী দাবি করেন। প্রথম দাবিদার ব্যক্তি জানান তরুণীর নাম সাবিনা এবং সে তার স্ত্রী। পরে আবু সাঈদ নামে আরেক লোক এসে নিহত তরুণীকে তার স্ত্রী দাবি করে জানান লাশের নাম জুয়েনা। তিনি জুয়েনাকে এক মাস আগে যে জামা কিনে দেন লাশের পরনে সে জামা রয়েছে। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় স্বামী দাবিদার দ্বিতীয় ব্যক্তি অবু সাঈদই হলো নিহত তরুণীর স্বামী। আর তরুণীর নাম জুয়েনা। পরে পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে নিহত হওয়ার মাস তিনেক আগে জুয়েনার সাথে পরিচয় হয় উত্তরার একটি আবাসিক হোটেলের গাড়িচালক রাজ্জাকের সাথে। ২৫ জুন জুয়েনা দণিখানের বাবার বাসা থেকে টঙ্গীর চেরাগ আলীতে স্বামীর বাসায় যাচ্ছিলেন। তখন ছিল খুব বৃষ্টি। পথে উত্তরা চার নম্বর সেক্টরের পার্কের কাছ থেকে জুয়েনাকে গাড়িতে তোলে রাজ্জাক। গ্রেফতারকৃত রাজ্জাক জানিয়েছে গাড়িতে বসে সে জুয়েনাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় এবং তাতে জুয়েনা বাধা দিয়ে চিৎকার শুরু করে। তখন সে গাড়ির মধ্যে থাকা একটি বিশেষ ধরনের সরঞ্জাম দিয়ে জুয়েনাকে হত্যা করে। হত্যার পর সে জুয়েনার লাশ আগাখান স্কুলের সামনে নর্দমার মধ্যে ফেলে দেয়। রাজ্জাক জানিয়েছে গাড়িতে তখন তার আরেক বন্ধু ছিল।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাজ্জাককে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর রাজ্জাক জানায় সে অবিবাহিত। কিন্তু থানায় এক তরুণী হাজির হয়ে দাবি করেন রাজ্জাক তার স্বামী। পরে রাজ্জাক স্বীকার সে ওই তরুণীকে বিয়ে না করলেও তারা একসাথে বসবাস করছিল।

রাজ্জাক এক তরুণীর সাথে লিভটুগেদার করা অবস্থায় জুয়েনার সাথে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করে এবং তাকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করে। এরপর সে আরো এক মহিলার সাথে মোবাইল প্রেমে জড়িয়ে পড়ে এবং তার সাথেও সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে। তবে রাজ্জাক জানত না যে, এ মহিলা আর কেউ নয় এক মহিলা পুলিশ সদস্য। রাজ্জাককে গ্রেফতারের জন্যই ওই মহিলা পুলিশ তার সাথে ফোনে প্রেমের অভিনয় করে এবং তাকে ফাঁদে ফেলে গ্রেফতার করে।

সম্প্রতি ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যাসহ নানাবিধ সামাজিক বিকৃতি অনাচারের পেছনে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া পর্নোগ্রাফি বিস্তারের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করেন সমাজবিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদরা।

রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের কয়েকজন শিক্ষকের সাথে আলাপকালে তারা জানান, অনেক সময় কাস ফাঁকি দিয়ে ছাত্রছাত্রীরা রেস্টুরেন্টে বা অন্য কোথাও গিয়ে আড্ডা দিচ্ছে। কোনো কোনো এলাকার রেস্টুরেন্টে রয়েছে খুবই খারাপ পরিবেশ। অবাধ মেলামেশার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে অনেক স্থানে। তা ছাড়া রাজধানীর কোনো কোনো স্কুল-কলেজের সামনের রাস্তা, চত্বর ও আশপাশের রেস্টুরেন্টে ঘুরলে যে চিত্র এখন দেখা যায়, তা কয়েক বছর আগে চিন্তা করতে পারতেন না অভিভাবকেরা। এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন অনেক অভিভাবক।

উৎসঃ   নয়া দিগন্ত

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com