1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
শিরোনাম :
হ্নীলায় টেকনাফ সাংবাদিক সমিতি (টেসাস) এর কার্যালয় উদ্বোধন আমি মরে গেলে আমার সব সৃষ্টি ধ্বংস করো- কবীর সুমন রাত ৮টায় এল ক্লাসিকো যুদ্ধে বার্সা-রিয়াল করোনায় আরও ১৯ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১০৯৪ সাংবাদিকনেতা গাজীর মুক্তির দাবিতে কক্সবাজারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কক্সবাজার প্রধান সড়ক বিএস মতে সড়ক বিভাগের অধিগ্রহণকৃত জমিতেই নির্মিত হবে ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির শোক দুঃসময়ে আইনি লড়াইয়ে এগিয়ে আসেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক: প্রধানমন্ত্রী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আর নেই টেকনাফ পৌর-ছাত্রলীগের বিশেষ জরুরী সভা অনুষ্ঠিত

দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেলপথ প্রকল্প সোয়া চার বছরেও শুরু হয়নি

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৫
  • ২৭ দেখা হয়েছে

এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার :
মিয়ানমার, চীনসহ ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ের করিডরে যুক্ত হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সঙ্গে তৈরি হবে ২৭টি দেশের রেল নেটওয়ার্ক। এই স্বপ্ন এখন শুধু কক্সবাজার জেলা নয় পুরো দেশবাসির দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।
২০১১ সালের ৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের দোহাজারী-ঘুমধুম রেলপথ সম্প্রসারণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আশার আর নিরাশার দুলাচলে চার বছর তিনমাস পেরিয়ে গেলেও শুরু করা যায়নি এ প্রকল্পের কাজ। সরকারের মেয়াদেই কাজ শেষ করার প্রতিশ্র“তি দিলেও উল্লেখ করার মতো কোনো অগ্রগতি আজও হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, অর্থাভাবে নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ভিত্তিপ্রস্তরেই আটকে রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে পর্যটন শহর কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি পর্যটক বাড়বে। এতে সরকার আর্থিকভাবে লাভবান হবে।
জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের শাসনামলে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণে জরিপ পরিচালনা করা হয়। পরবর্তীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে প্রকল্পটি চাপা পড়ে। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা রেল লাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্পের তেমন অগ্রগতি হয়নি।
তবে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন ও পরিকল্পনা অনুবিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রধান মো. আতাউর রহমান খান চলতি বছর ২৮ জানুয়ারি একটি চিঠিতে জানিয়েছিলেন, রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নূর-ই আলম জানান, প্রকল্পটি প্রথমে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে আলাদা রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন হওয়ায় প্রকল্পটি আমাদের হাতে নেই। তাই এ বিষয়ে আমাদের বলার কিছু নেই।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, বিষয়টি রেলপথ কর্তৃপক্ষই দেখেন। এতে আমাদের সম্পৃক্ততা বেশী একটা নেই।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোজাম্মেল হক বলেন, এ প্রকল্পভুক্ত জমি অধিগ্রহণ বাবদ ৩১২ কোটি টাকার মতো পরিশোধ করা হয়েছে। অন্যান্য আনুষাঙ্গিক কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী এক বছরে মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০০১ সালে কানাডা ও ফ্রান্সের দু’টি প্রতিষ্ঠান এশিয়ার ৬টি দেশের ভেতর দিয়ে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপন নিয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। তাদের প্রথম প্রতিবেদন দাখিলের পর তা বাস্তবায়নে আলাদা দুইটি প্রস্তাব জমা পড়ে। পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় এসে প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেয়। তৎকালিন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ দোহাজারী থেকে কক্সবাজারের রামু উপজেলা হয়ে উখিয়া দিয়ে ঘুমধুম-মিয়ানমার সীমান্ত পর্যন্ত ১২৮ কিলোমিটার রেললাইন প্রকল্পে কক্সবাজারকে অন্তর্ভুক্ত করেন। দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে রামু থেকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী পর্যন্ত এলাকা রেলপথ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর দোহাজারী থেকে রামু, কক্সবাজার ও ঘুমধুম পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণের একটি প্রকল্প গ্রহণ করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এতে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত ১২৮ কিলোমিটারের রেলপথ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। ১২৮ কিলোমিটারের মধ্যে দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত রেলপথের দূরত্ব হবে ৮৯ কিলোমিটার। রামু থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ করা হবে অতিরিক্ত আরও ১১ কিলোমিটার। আবার রামু থেকে দক্ষিণ দিকে মিয়ানমার সীমান্ত উখিয়ার ঘুমধুম পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ করা হবে আরও ২৮ কিলোমিটার।
এই ১২৮ কিলোমিটার রেলপথের মধ্যে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, কক্সবাজারের চকরিয়া, ডুলাহাজরা, ঈদগাঁও, রামু, কক্সবাজার সদর ও উখিয়ায় নির্মাণ করা হবে ৯টি রেলস্টেশন (জংশন)। এই রেলপথে নির্মাণ করতে হবে ৪৭টি সেতু, ১৪৯টি বক্স কালভার্ট ও ৫২টি পাইপ কালভার্ট। প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্প ২০১০ সালের ৬ জুলাই একনেকে অনুমোদন পায়।
গত ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল দোহাজারী-ঘুমধুম রেললাইন নামের এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে শুরুতেই অর্থ সঙ্কটে পড়েন সংশ্লিষ্টরা। কারণ প্রকল্পের জন্য ২০১১-১২ অর্থবছরে মাত্র ২২ লাখ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে মাত্র এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এ কারণে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছিল সে সময়।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, তুরস্ক থেকে শুরু করে পূর্ব এশিয়ার ৬টি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নেয়া ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তাতে বাংলাদেশ হবে গেটওয়ে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, লাওস, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশের টেকনাফের কাছে ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করবে এই রেলপথটি। পরে যশোর, চুয়াডাঙ্গার দর্শনা হয়ে ভারত ও পাকিস্তান যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com