নানাবিধ সমস্যার জালে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নানাবিধ সমস্যার জালে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল নিজেই এখন রোগী। সেবাদানকারী বিভিন্ন বিভাগের যা করুণ দশা তাতে হাসপাতালটিরই আগে চিকিৎসা দরকার। শিশু বিভাগ, অপারেশন বিভাগ, ল্যাবরেটরি ও আবাসিক রোগীদের কাংখিত চিকিৎসা সেবা নেই। জানা গেছে- সদর হাসপাতালে চরম সংকট চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর। নার্সদের আচরণও সন্তুষজনক নয়। শিশু বিভাগ, অপারেশন বিভাগ, ল্যাবরেটরি, গাইনি, অর্থোপেডিক বিভাগে করুণ অবস্থা বিরাজ করছে। সিটের অভাবে মেঝেতে পড়ে থাকে রোগীরা। ২৫০ জন রোগির স্থলে ইনডোর-আউটডোর মিলে দেড় হাজারের বেশি চিকিৎসা নিচ্ছে নিয়মিত। ৪৪ জন কর্মচারীর স্থলে আছে মাত্র ১৬ জন। হাসপাতালে মোট ২৮৬টি সৃষ্ট পদের মধ্যে ৬০টি শূণ্য। কর্মরত ডাক্তারদের অধিকাংশ রোটেশন মানেনা। ডিউটির সময়ে বাইরে ব্যস্ত থাকে। সরকারী দায়িত্ব পালনের চেয়ে বেসরকারী চেম্বারে তাদের ঝুঁক বেশি।
প্রসূতি বিভাগে দুইজন কনসালটেন্ট পদের একজনও নেই। মিড লেভের ডাক্তারও নাই। ডাক্তারের অভাবে দুইটি ইউনিটকে একটি করে ফেলা হয়েছে। প্রসূতি সেবার চাহিদা দিন দিন বাড়লেও নি¤œমুখি সরকারী হাসপাতালের এই বিভাগটি। চক্ষু বিভাগ অন্ধকারে, দন্ত বিভাগ চলছে অনেকটা দন্তহীনের মতো। হাসপাতালে ৭৭ জন চিকিৎসকের স্থলে আছে মাত্র ৪৮ জন। জরুরি বিভাগে ৭ জন রয়েছে মাত্র ২ জন। আবাসিক রোগীদের মাঝে খাবার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ শাহিন আবদুর রহমান চৌধুরী বলেন, হাসপাতালের অনেক গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। সেবার মানও বেড়েছে। কিছু জায়গায় এখনো ত্রুটি রয়ে গেছে, তা আমরা কেটে ওঠার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, স্থানীয় রোগির পাশাপাশি ভিআইপি ও পর্যটকদের সেবা দিতে হয়। তার উপর রোহিঙ্গাদের চাপ তো আছেই। ২৫০ শয্যার হাসপাতালে নিয়মিত ২-৩ গুণ রোগি ভর্তি থাকে। কিন্তু সেই অনুপাতে ডাক্তার, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নেই। সব বিভাগের কাজ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার ২৪ লাখ মানুষের সেবার জন্য তিন বছর আগে ১০০ বেডের জেলা সদর হাসপাতালকে ২৫০ বেডে উন্নীত করে সরকার। কিন্তু বাড়েনি অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা। নিয়োগ দেয়া হয়নি পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল।
এদিকে অভিযোগ ওঠেছে, চিকিৎসক থাকার পরও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সঠিকভাবে প্রসূতিদের সেবা মিলছে না। এতে প্রসূতি ওয়ার্ডে অত্যধুনিক প্রযুক্তি থাকার খবরে হাসপাতালে আসা প্রসূতিরা মনোক্ষুণœ হয়ে হাসপাতাল ছাড়ছে। সদর হাসপাতালে চিকিৎসা না দিলেও এর পার্শ্ববর্তী বেসরকারি (প্রাইভেট) হাসপাতালগুলোতে ঠিকই চিকিৎসা দিচ্ছেন গাইনি বিভাগের চিকিৎসকরা। এ নিয়ে সেবা প্রার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ স্বীকার করে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. সোলতান আহমদ সিরাজী বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
সিরাজী আরো বলেন, সরকারি হাসপাতালে সেবা না দিলেও কনসালটেন্ট হিসেবে প্রাইভেট প্রাকটিস নিয়মিতই চালাচ্ছেন তারা। তাদের অনুপস্থিতির কারণে গত তিন দিনে অর্ধশত রোগী ঝুঁকি নিয়ে চলে গেছেন। সেবা দিতে না পেরে আমরাও নিরুপায় হয়ে অনেক রোগীকে রেফার করে দিয়েছি।

উপদেষ্টা সম্পাদক : হাসানুর রশীদ
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ শাহজাহান

নির্বাহী সম্পাদক : ছৈয়দ আলম

যোগাযোগ : ইয়াছির ভিলা, ২য় তলা শহিদ সরণী, কক্সবাজার। মোবাইল নং : ০১৮১৯-০৩৬৪৬০

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Email:coxsbazaralo@gmail.com