1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

নারায়ণগঞ্জে অপরাধের ‘প্রধান হোতা’ পুলিশ

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০১৫
  • ৮৬ দেখা হয়েছে

রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ অপরাধের ‘প্রধান হোতা’র ভূমিকায় নেমেছে। জেলার প্রতিটি থানার অধিকাংশ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ। দুই-একটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও (ওসি) এ সব অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রয়েছেন। শুধু তাই-ই নয়, পুলিশের সহায়তায় এ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করে ঢাকা থেকে মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এ সব ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন এ বিষয়ে দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা আসামাত্রই জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নারায়ণগঞ্জ জেলার কিছু অসাধু পুলিশ ও ডিবি সদস্য তাদের সোর্সদের দিয়ে মাদক চোরাচালান, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত। সোর্সরাও পুলিশের সাহায্য নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে থাকে। পুলিশ ও ডিবির সোর্সদের ফাঁকি দিয়ে কোনো চোরাচালান ব্যবসায়ী ব্যবসা করতে পারে না। চোরাচালান ব্যবসায়ীদের পুলিশ ও ডিবির সোর্সের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে কাজ করতে হয়। চোরাচালান ব্যবসা ও চাঁদাবাজি থেকে আয়ের একটি বড় অংশ সংশ্লিষ্ট সোর্স ও সোর্সের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যরা পেয়ে যান। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাদক চোরাকারবারিরা সরাসরি সোর্স পরিচয়ে সংশ্লিষ্ট অসাধু পুলিশ সদস্যদের সহায়তা নিয়ে ব্যবসা ও চোরাচালান করে থাকে।’ প্রতিবেদনে অপরাধের প্রধান হোতা পুলিশ সদস্যদের তালিকায় থাকা নামের মধ্যে রয়েছে— ‘বন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি বন্দর) মো. নজরুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ সদর থানার এসআই মো. মিজানুর রহমান মিজান, এএসআই রাজু আহম্মেদ, নারায়ণগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই (টিআই) মোজাম্মেল হক, ফতুল্লা থানার এসআই মো. আজিজুল হক, আশিষ কুমার দাশ, মো. কামরুজ্জামান, এএসআই ইমরান হোসেন, কামরুল ইসলাম, সাইফুল মালেক, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই মো. আলেক, মো. তুষার, সোনারগাঁও থানার এসআই ইয়াছিন মুন্সী, অজয় কুমার পাল, আলী রেজা, নাসির উদ্দিন, বন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত, ওসি বন্দর) মোকারম হোসেন, এসআই ভিক্টর ব্যানার্জি, রূপগঞ্জ থানার এসআই আলী উদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ, জাহাঙ্গীর আলম, ভুলতা ফাঁড়ির এসআই রবিউল ইসলাম।’ তালিকায় পুলিশ ও ডিবির সোর্সরা হচ্ছেন— ‘সদর উপজেলার ইউএনওর বাড়িসংলগ্ন এলাকার ডিবির সোর্স আব্দুর রশিদ, ফতুল্লার লালখা এলাকার পুলিশ সোর্স শিবু, ধর্মগঞ্জের পুলিশ সোর্স জাফর, ব্যাংক কলোনির পুলিশ সোর্স জাকির হোসেন, রেলওয়ে স্টেশনের পুলিশ সোর্স পান্না, পঞ্চবটি এলাকার ডিবি সোর্স আনোয়ার, পুলিশ সোর্স বাদল ও নন্দলালপুরের ডিবি ও পুলিশ সোর্স নওফেল।’ স্থানীয় সূত্র ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের আমলাপাড়া ও কাস্টমস বিভাগের সুপার সুজিৎ (ঢাকায় কর্মরত) জেলায় বিদেশী মদ ও বিয়ার অবৈধভাবে সাপ্লাই দিয়ে থাকে। তাকে সাহায্য করেন নারায়ণগঞ্জ সদর থানার সেকেন্ড অফিসার মো. মিজান। তিনি এসআই মিজান ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. মুন্নার সহায়তায় নিয়মিত ঢাকা থেকে মাদকদ্রব্য নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসেন। মাদক পরিবহনের ক্ষেত্রে সুজিৎ এ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করেন বলে জানা যায়। অধিকাংশ সময় ভোরে এসআই মিজানের ক্লিয়ারেন্স ও কাউন্সিলর মুন্নার পাহারায় মাদকপাচার হয়। সুজিৎ নিয়মিত নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় বড় অংকের মাসোহারা দিয়ে থাকেন। নারায়ণগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মোজাম্মেলের সহায়তায় মাদক ব্যবসায়ীরা ফুটপাতে দোকানের হকারদের মাধ্যমে মাদক বেচা-কেনা করেন বলে জানা যায়। এ ছাড়াও মোজাম্মেল ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে প্রতিদিন ১০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করেন। এ টাকা না দিলে হকারদের উঠিয়ে দেওয়া হয়। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের ললাটি গ্রামের বাসিন্দা মো. মনির হোসেন, সেনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শামীম, মো. বারেক, মো. খোকন ও মো. লিটনসহ ৮-৯ জনের একটি সিন্ডিকেট সোনারগাঁও থানা পুলিশের অসাধু সদস্যদের নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে মাদকের ব্যবসা করেন। নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় বিভিন্ন নেশা জাতীয় দ্রব্যের ব্যবসা থানা যুবলীগের সভাপতি মতিউর রহমান মতির ছত্রছায়ায় স্থানীয় যুবলীগ নেতা শহিদুল্লাহ ওরফে কালা মানিক ১০-১২ সহযোগী নিয়ে করে আসছেন। কালা মানিকের সহযোগী দেলোয়ার হোসেন দেলু সম্প্রতি মাদকসহ গ্রেফতার হওয়ার পর জামিনে বের হয়ে পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে মাদক ব্যবসা করছেন।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘সোর্স নামধারীরা অবৈধ অস্ত্র কিনে তা দিয়ে সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে শিল্পপতি ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার নিউ চাষাড়া জামতলা এলাকার বাসিন্দা মো. মেহেদী হাসান মানিক ডিবি ও পুলিশের সোর্স পরিচয়ে বিভিন্ন বাড়ির মালিক, ধনাঢ্য ব্যক্তিদের ভয় দেখিয়ে ও ব্ল্যাকমেইল করে চাঁদা আদায় করেন। তার হাত থেকে রক্ষা পায় না স্থানীয় গার্মেন্টসের কর্মীরাও।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওসি বন্দর নজরুল ইসলাম, এসআই আবু তালেব তার মাধ্যমে মাদক বিক্রেতাদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোয়ারা আনেন। মদনগঞ্জ এলাকার বাবুলের কাছ থেকে মাসে ৫০ হাজার টাকা, ফেরাজিকান্দা বাচ্চুর কাছ থেকে ৩০ হাজারসহ, ভাঙ্গারি হোসেন-১, চেয়ারম্যান দেলোয়ার, ফরহাদ, সুমন, বাবু, আবুল কালাম, রাজা ও গিয়াস নামের ব্যক্তিরা তাকে ৫০ থেকে ২০ হাজার টাকা করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মাসোয়ারা আদায় করে দিয়ে থাকেন।

অভিযোগ সম্পর্কে বন্দর থানার ওসি নজরুল ইসলাম দ্য রিপোর্টকে বলেছেন, ‘ঢাকা থেকে প্রতিবেদন দেখে কোনো বিষয়ে অভিযোগ করা ঠিক নয়। আমি আমার সম্পর্কে অবশ্যই ভাল বলব।’ তিনি থানায় গিয়ে সরেজমিন খবর নেওয়ার অনুরোধ জানান।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com