নাহিদ টু দীপু মণি

তারেকুর রহমান

ঠিক এখন থেকে বিগত দিনে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আমলের শিক্ষা ব্যবস্থা ও সদ্য ঘোষিত মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া নব শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মণিকে স্বাগতম উপলক্ষ্যে সংক্ষেপে কিছু লিখার ইচ্ছাপোষণ করলাম।
বিগত দিনের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ আমল চিন্তা করতে গেলেই ধনী বাবার দুর্বল শিক্ষার্থীটির সাফল্যের কথাই মনে পড়ে! যে শিক্ষার্থী বাবার অর্জিত অর্থ দিয়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিজের করে নিয়ে সারা বছর পরিশ্রম করে পড়ুয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের কপালে কুড়াল মেরে তছনছ করে দিয়েছিল। অবশ্য ভিকটিমদের শরীর থেকে রক্ত বের হয়নি, তবে চোখ থেকে বের হয়েছিল অকল্পনীয় ব্যর্থতার লবণাক্ত অশ্রু। পাশের সম্ভ্রান্ত বাড়ির দুর্বল শিক্ষার্থীর মিষ্টিমুখ ও এলাহী কান্ড এদিকে মাঠে খেটে খাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীর বাবার বুক ভরা কষ্ট আর ভেঙে যাওয়া স্বপ্ন যেন সকলের চোখের অশ্রুকে নিমন্ত্রণ করে।
তাহলে নাহিদ আমলের লেখাপড়ায় সৃজনশীল ও আমুল পরিবর্তন সাধিত হয়ে লাভটা কি ছিল? যদি সারা বছর না পড়ে পরীক্ষায় জিপিএ পাওয়া যায় অন্যদিকে সারা বছর ভালো করে পড়েও ভালো ফলাফলে মেধাবীদের ঠাঁই না হয়?
এসবের মূল কি?
নিশ্চয় প্রশ্নপত্র ফাঁস বলবেন?
হুম আমি এতক্ষণ বকবক করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথাই বলে যাচ্ছিলাম যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরিণাম হিসেবে অনেক মেধাবীর স্থান হয়েছে উড়না পেছিয়ে সিলিং-এ ঝুলানো ফ্যানে কিংবা ছাদ থেকে ঝাপ দিয়ে রাস্তার মাঝে।
আমি নুরুল ইসলাম নাহিদকে একচেটিয়া দোষারোপ করে যাচ্ছি না দোষারোপ করছি তাঁর পরিচালিত ব্যবস্থাকে। তিনি চাইলে কঠোর ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করে আসল মেধাবীদের কদর দিতে পারতেন, তাদের উত্তম বিবেচনা করতে পারতেন। কিন্তু কই?
আর সেজন্য হয়তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তা সূক্ষ্ম বিবেচনায় আমলে নিয়ে সাবেক শিক্ষামন্ত্রীকে মন্ত্রী সভায় রাখেননি । সেটা না হলে অন্য কি কারণে তাঁকে বিবেচনা করা হয়নি তা প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বিষয়। তবে দেশের তরুণ সমাজ কিংবা শিক্ষার্থী সমাজ এটাই মনে করে যাচ্ছে বলে সূত্র মিলছে। এবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মন্ত্রীর দায়িত্ব পরিবর্তন হয়েছে, হলো-নাহিদ টু দীপু মণি।

আর লিখব না, লিখলে ব্যর্থ  মেধাবী শিক্ষার্থীদের দুর্দশার চিত্র মনে জোরালো আঘাত করবে, তাদের জন্য লিখলে বেলা শেষ হবে কিন্তু মনের দু:খ মোচন হবেনা।
যাই হোক, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মণি ঢাকা মেডিকেল কলেজের একজন মেধাবী ছাত্রী হিসেবে মেধার কদর বুঝবেন নিশ্চয়। তাঁর দায়িত্ব তিনি ভালোভাবে পালন করবেন মর্মে ঝাড়ু হাতে নতুন কর্মস্থল পরিচ্ছন্ন করার মাধ্যমে দেশবাসীকে আগাম বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন।
একজন মেধাবীর নাটকীয় অকৃতকার্যতা কেন, তাও বিবেচনায় আনবেন বলে মনে করি এবং বর্তমান মন্ত্রী সভায় তাঁকে স্বাগতম ও একজন নারী হিসেবে অতীতের শিক্ষা ব্যবস্থার কঠোর পরিণতিকে আবারো সুন্দর করে সাজিয়ে প্রকৃত মেধাবীদের বিবেচনার প্রত্যয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসকে বাংলার বুক থেকে মুছে দিয়ে বাঙালী জাতিকে সুন্দর শিক্ষা ব্যবস্থা উপহার দিবেন এই কামনা করি।

 

যতটুকু পেরেছি  ভালো ভাবে  লিখতে চেষ্টা করেছি এরপরও যদি লেখায় ভুলত্রুটি থাকে তবে ভুল সংশোধনে আপনার সহযোগীতা কামনা করছি, ধন্যবাদ।

 

 

 

তারেকুর রহমান 

tarekcox01@gmail.com

স্টাফ রিপোর্টার- দৈনিক হিমছড়ি

চীফ রিপোর্টার- কক্সবাজার আলো

উপদেষ্টা সম্পাদক : হাসানুর রশীদ
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ শাহজাহান

নির্বাহী সম্পাদক : ছৈয়দ আলম

যোগাযোগ : ইয়াছির ভিলা, ২য় তলা শহিদ সরণী, কক্সবাজার। মোবাইল নং : ০১৮১৯-০৩৬৪৬০

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Email:coxsbazaralo@gmail.com