1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

নিয়মিত ঢুকছে জোয়ারের পানি, পেকয়ার নিম্নাঞ্চল এখন মাতামহুরী নদীর অংশ

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ৫ জুলাই, ২০১৫
  • ৯৮ দেখা হয়েছে

Pic Pekua from EMRAN (8) (Mobile)সেলীনা হোসাইন, পেকুয়া :
মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানির ¯্রােতে মেহেরনামা অংশের  বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে সৃষ্ট বন্যার পানি কমে গেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বেড়ীবাধের কাটা ফাড়ি ব্রীজের দক্ষিণ পাশ থেকে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্ব মেহেরনামা পর্যন্ত মোট ১৮টি ছোট-বড় ভাঙ্গা দিয়ে জোয়ারভাটা অব্যাহত রয়েছে ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নি¤œ এলাকা সমূহে। দীর্ঘ ৯দিন ধরে পাউবোর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের পানি ঢুকে তলিয়ে গেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধের ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ ও সংস্কারের কোন উদ্যোগ দৃশ্যত হয়নি। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ এইসব বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার করা না হলে মৎস ঘের ও চাষাবাদ বা বীজতলা তৈরী করা সম্ভব না। তাই এসব এলাকার উপার্জনক্ষম ব্যক্তিরা কাটাচ্ছেন অলস সময়। এছাড়া তাদের করার আর কিছুই নাই। সরকারী বা বেসরকারী প্রতিষ্টান ও ব্যক্তির দেয়া ত্রাণে তারা কয়দিন খাবে ? কয়দিনই বা ত্রাণ দিবে সরকার ? এমন প্রশ্ন ভোক্তভোগীদের। তাদের ত্রাণ নয় পরিত্রাণই জরুরী।

পেকুয়া সদর ইউনিয়নের ছিরাদিয়া গ্রামের যুবক মনির উদ্দীন। ৬জনের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনি। মৎস ঘেরে মাছ চাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। কিন্তু বানের পানি ঘেরের মাছের সাথে বাসিয়ে নিয়ে যায় তার ভাগ্য। তারপরেও ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। কিন্তু বেড়ীবাঁধের ভাঙ্গা অংশ সমূহ দিয়ে নিয়মিত জোয়ারের পানি প্রবেশ অব্যাহত থাকার তার ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। হতাশকন্ঠে তিনি জানান, এভাবে আর কয়দিন কাটবে ? কিছুদিন পরে হয়তো পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে। তার সাথে সহমত পোষণ করে স্থানীয় অনেক মৎসচাষী একই কথা জানান।

পেকুয়া সদর ইউনিয়নের বাঘগুজারা এলাকার কৃষক নবী হোসেনও জানান একই কথা, তারাও সঠিক সময়ে বীজতলা তৈরী ও চাষাবাদ করতে পারছেন না। ৯জনের পরিবার নিয়ে কিছুদিন পরে তারা খাবেন কি। তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, আমরা তো এতদিন ত্রাণের চাল খেয়ে দিনানিপাত করিনি। তার সাথে কন্ঠ মিলিয়ে উপস্থিত বেশ কয়েক স্থানীয় কৃষক বলেন, আমাদের ত্রাণের প্রয়োজন নাই, আমাদের এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের ব্যবস্থা করুন। আমরা আবার ঘুরে দাড়াতে চাই। আমাদের জীবিকা আমরাই নির্বাহ করতে চাই। আমাদের ত্রাণের চাইতে পরিত্রাণই জরুরী। তারা ভেঙ্গে যাওয়া বেড়ীবাঁধের খুব দ্রুত সংস্কারের জোর দাবিও জানান।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৩০জুন পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুর রশিদ খাঁন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে বেড়িবাঁধের ভাঙ্গন সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। কিন্তু তার পরে দৃশ্যত কোন উদ্যোগ দেখা যায়নি তাদের। তবে, স্থানীয়দের উদ্যোগে বেড়িবাঁধের কিছু ছোট ভাঙ্গা অংশ মেরামত করেন। বেড়িবাঁধের ভাঙ্গা অংশ সমূহের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো, বাঘগুজারা রাবারড্যামের দক্ষিণ পাশে প্রায় দুই চেইন, তার পাশে আরো ৫টি ছোট অংশ বেড়িবাধ ভেঙ্গে মাতামুহুরী নদীর ঢলের পানি প্রবেশ করে। পরে, বানের পানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে তা বের করে দেয়ার জন্যে স্থানীয়রা বেড়ীবাঁধের মগকাটার ৩টি অংশে কেটে দেয় যা পরবর্তিতে যার দৈর্ঘ্য ২০ফুট থেকে ১৫ফুটে স্থায়ী হয়, একইভাবে জালিয়াখালীতে দুটি, ছিরাদিয়ায় ৭টি, যেখানে ছিরাদিয়া মসজিদের পাশে প্রায় ৫০ফুট ভেঙ্গে গেছে, যার কারণে মসজিদটি বর্তমানে চরম ঝুকিতে আছে। এবং ছিরাদিয়া জেটিঘাটের পাশে ১টি ৪০ফুট ও আরেকটি ১৫ফুট দৈঘ্যের বেড়ীবাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে জোয়ার-ভাটা অব্যাহত রয়েছে। খাস পাড়ায় ৩টি ২০ফুট ও ১টি ২৫ফুট, নন্দীর পাড়ায় সুইচ গেইটের লগোয়া ২টি ২০থেকে ৩০ফুট অংশ ভেঙ্গে যায়। এছাড়া একইভাবে বন্যার পানি বের করে দিতে পেকুয়া সদরের শেখেরকিল্লা ঘোনা এলাকায় ৩টি ও মৌলভী পাড়ায় ১টি কেটে দেয়া বেড়ীবাধের অংশ।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুর রশিদ খাঁন ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের ব্যাপক ভাঙ্গন হলেও গত ৯দিনের মধ্যে তাদের কেউ কোন প্রদক্ষেপ নেয়নি। তবে, এ পরিস্থিতি সমাধানে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু বলেন, দ্রুত বেড়িবাধের সংস্কার করা না হলে পুরো পেকুয়া ইউনিয়নে চাষাবাদ অনিশ্চিত। এমনি ধানের বীজতলা তৈরীর সময় পার হয়ে গেছে। অরক্ষিত বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারভাটা বন্ধ না হলে বর্ষা মৌসুমের চাষাবাদ হবে না উল্ল্যেখ করে তিনি আরো বলেন অরক্ষিত বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারভাটা বন্ধ করা আশু সমাধান প্রয়োজন।

স্থানীয় সচেতন মহল ও জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ করে বলেন, কয়েক বছর ধরে পাউবোর বেড়িবাঁধের অবস্থা চরম ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার পরেও চলতি বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পূর্বে কোন প্রকার সংস্কার করেনি কতৃপক্ষ। পাউবোর সম্পূর্ণ অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে পেকুয়া ইউনিয়নের পূর্বদক্ষিণের মাতামুহুরী নদী ও দক্ষিণ পশ্চিমাংশের বঙ্গোপসাগরের পানি থেকে পেকুয়াকে রক্ষা করা দূরহ হয়ে দাড়িয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর
  • ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ‌্য মন্ত্রণালয়ে আবেদিত ।
Site Customized By NewsTech.Com