নৌকার বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগ

তারেকুর রহমান
আওয়ামীলীগের প্রতিক নৌকার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে জেলার ছয়টি উপজেলার ১৩ আওয়ামীলীগ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী। পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তারা এবার স্ব-স্ব অবস্থান থেকে আওয়ামীলীগের প্রতিক নৌকার বিরুদ্ধে লড়ছেন। উপজেলা নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন দেন আওয়ামীলীগের পছন্দের প্রার্থীকে। এবং দলীয় প্রতিকের প্রার্থীকে নির্বাচনে যথেষ্ট সহযোগিতার আহ্বানও করেছেন দলের প্রধান কান্ডারীসহ তাদের নির্বাচন কমিটি। কিন্তু তা অসর্মথন করে বিভিন্ন প্রতিক নিয়ে দলীয় প্রতিক নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচনী মাঠে লড়ছেন একই দলের সমর্থকরা।
কুতুবদিয়া ও উখিয়া উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন এডভোকেট ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী ও উখিয়ায় অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী। কিন্তু কুতুবদিয়ার অপর প্রার্থী আজিজুল হক সাগর হাইকোর্টে রিট করে প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ায় কুতুবদিয়ায় ভোট উৎসব জমে উঠছে বলে জানা যায়।
শুক্রবার ৮ মার্চ প্রতিক বরাদ্দের জন্য নির্ধারিত দিনে চেয়ারম্যন পদে একমাত্র প্রার্থী হওয়ায় রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মাসুুদুর রহমান মোল্লা বিধি মোতাবেক গণ বিজ্ঞপ্তি জারি করে তাদেরকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষনা করেন। জেলার বাকি ছয়টি উপজেলায় ১৩ জন প্রার্থী দলীয় প্রতিকের বিরুদ্ধে নির্বাচন করে নিজের পছন্দের প্রতিককে বিজয়ী করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা হলেন, পেকুয়ার জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এসএম গিয়াস উদ্দিন আনারস ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম দোয়াত কলম প্রতিক নিয়ে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে মাঠ কাঁপাচ্ছেন।
চকরিয়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর নৌকা প্রতিকের কাঁটা হয়ে আনারস প্রতিক নিয়ে নির্বাচনী মাঠ সরগরম করে তুলছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী। ওই উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে মোটরসাইকেল প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের আরেক সহ-সভাপতি মোক্তার আহমদ চৌধুরী।
মহেশখালী উপজেলায় আওয়ামীলীগ থেকে মনোয়ন প্রাপ্ত হোসাইন ইব্রাহীমের নৌকার বিরুদ্ধে আনারস মার্কা প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শরীফ বাদশা ও দোয়াত কলম মার্কা প্রতিক নিয়ে উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক সাজেদুল করিম।
রামু উপজেলায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ দলীয় প্রতিকে মনোয়ন দিয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রিয়াজ উল আলমকে। কিন্তু তার বিদ্রোহী হয়ে ভোটের মাঠে আনারস প্রতিক নিয়ে লড়াই করছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল।
কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাচনে কাহিনী কিন্তু ভিন্ন মাত্রা যোগসূত্র স্থাপন করেছে। দলীয় প্রতিক নৌকার মাঝি হিসেবে জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক কায়সারুল হক জুয়েলকে চূড়ান্ত করলেও শেষমেশ যুক্ত হয়েছেন আওয়ামীলীগের আরো ৪ প্রার্থী। সদরের নির্বাচন ৩১ মার্চ পিছিয়ে নেয়া হলে মুলত নতুন এ ৪ প্রার্থীর অনুপ্রবেশ ঘটে।
প্রথমে জেলা আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল আবছার ও আওয়ামীলীগ নেতা সোহেল জাহান চৌধুরী মনোয়নপত্র সংগ্রহ করে পরে ঝোপ বুঝে কোপ মারে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তালেব ও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমদ জয়। সদরের নির্বাচন পিছিয়ে নেয়ার কারণে নৌকা প্রতিকের বিরুদ্ধে কে কোন প্রতিকে লড়বেন তা জানা যাবে ১৩ মার্চ প্রতিক বরাদ্দের পর।
সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের নৌকার মাঝি সাবেক আওয়ামীলীগ সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর নৌকা প্রতিকের বিরুদ্ধে মোটরসাইকেল প্রতিক নিয়ে মাঠে ময়দানে ছুড়ে বেড়াচ্ছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নুরুল আলম ও আনারস প্রতিক নিয়ে সহ-সভাপতি জাফর আলম। উল্লেখিত নৌকা প্রতিকের বিরুদ্ধে লড়া প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে থাকার কথা জানিয়ে তাদের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা ও পোস্টারে ছেয়ে দিচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও প্রতিটি প্রান্তর। দলীয় প্রতিকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় দল থেকে শাস্তি দেওয়ার কোন প্রকার তোয়াক্কা করছেনা এই প্রার্থীরা।
উল্লেখ্য, আগামী ১৮ মার্চ চকরিয়া, ২৪ মার্চ পেকুয়া, মহেশখালী, টেকনাফ, রামু এবং ৩১ মার্চ কক্সবাজার সদর উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

উপদেষ্টা সম্পাদক : হাসানুর রশীদ
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ শাহজাহান

নির্বাহী সম্পাদক : ছৈয়দ আলম

যোগাযোগ : ইয়াছির ভিলা, ২য় তলা শহিদ সরণী, কক্সবাজার। মোবাইল নং : ০১৮১৯-০৩৬৪৬০

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Email:coxsbazaralo@gmail.com