1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

পঙ্কজের সাফ জবাব, ভারত আওয়ামী লীগের পেছনে, এবার কি বিএনপির মোহভঙ্গ হবে?

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৫
  • ৩১ দেখা হয়েছে

মোবায়েদুর রহমান

এবার বিএনপির মোহভঙ্গ হওয়া উচিত। এতদিন ধরে ভারত সম্পর্কে মনে হয় তারা একটি ইলিউশনের মধ্যে বাস করছিলেন। ক্ষমতায় আরোহণে ভারতের বিজেপি সরকার তাদের সাহায্য করবে, তেমন একটি ট্রান্সের মধ্যে বিএনপি এতদিন বসবাস করছিল। এবার তাদের সেই ট্রান্স থেকে বের হয়ে আসার কথা। তাদের মোহভঙ্গে বিপুলভাবে সাহায্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ। গত শনিবার ঢাকার কয়েকজন মুখচেনা সাংবাদিকের সাথে মতবিনিময়কালে পঙ্কজ শরণ ঠোঁটকাটার মতো কিছু স্পষ্ট কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বাংলাদেশ-ভারতের বর্তমান সম্পর্ক গভীর ও বিস্তৃত। দুই দেশের সম্পর্ক এখন উচ্চ মাত্রায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরো গভীর হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ সম্পর্ক শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারতের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন পঙ্কজ শরণ। ভারতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর বাংলাদেশের ব্যাপারে দেশটির নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলেও স্পষ্ট করেন হাইকমিশনার। ঢাকায় তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্বপালনকারী এ কূটনীতিক দেশের বহুল আলোচিত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন। তার মতে, বাংলাদেশে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই ৫ জানুয়ারি নির্বাচনটি জরুরি ছিল। ভারতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের ক্ষমতাসীন হওয়ার পর বাংলাদেশের ব্যাপারে দেশটির নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলেও স্পষ্ট করেন হাইকমিশনার। পঙ্কজ শরণ মস্কোতে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। গয়েশ^র চন্দ্রের প্রতিক্রিয়া গত জাতীয় নির্বাচন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ছিল Ñ ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণের এমন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এসব বলার জন্য তাকে কে দায়িত্ব দিয়েছেন? গত ১৩ তারিখ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘মহান বিজয় দিবস : বহুদলীয় গণতন্ত্র ও বর্তমান রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিএনপির সিনিয়র এই নেতা এ প্রশ্ন তোলেন। পঙ্কজের বক্তব্যকে হালকাভাবে দেখার উপায় নাই বাংলাদেশে ৪ বছর ধরে কর্মরত ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণের এই তথ্যকে হালকাভাবে দেখার কোনো উপায় নেই। তিনি একটি দেশের আর কয়েকশ রাষ্ট্রদূতদের মতো একজন রাষ্ট্রদূতই নন। বাংলাদেশ থেকে তাকে পাঠানো হচ্ছে রাশিয়ায়। যে দেশটি বহু বছর পর আবার ভারতের কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যেভাবে রুশ-ভারত মিত্রতা গড়ে উঠছে তাতে মনে হচ্ছে যে, এই দুই দেশ শিগগিরই তাদের ৭০ দশকের সম্পর্কে উপনীত হবে, যে সম্পর্ককে তখন বলা হতো রুশ-ভারত অক্ষশক্তি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে রুশ-ভারতের ইতিবাচক ভূমিকা যেমন ইতিহাসে লেখা থাকবে, তেমনি চীন-মার্কিন নেতিবাচক ভূমিকাও ইতিহাসে লেখা থাকবে। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগের পক্ষে সেদিন রুশ-ভারত অক্ষশক্তি যে ভূমিকা গ্রহণ করেছিল, আজ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও রুশ-ভারত একই রকম ভূমিকা গ্রহণ করেছে। সেদিন তাদের ভূমিকা শেখ মুজিবের হাতকে যেমন শক্তিশালী করেছিল, আজ তাদের ভূমিকা মুজিবকন্যা শেখ হাসিনার হাতকেও তেমনই শক্তিশালী করেছে। বিএনপি ইতিহাসের গভীরে যায়নি বিএনপি ভেবেছিল, ২০১৪ সালের ভারতীয় নির্বাচনে যদি কংগ্রেস হেরে যায় এবং বিজেপি জয়লাভ করে তাহলে নতুন বিজেপি সরকার আওয়ামী সরকারের ওপর থেকে সাপোর্ট উইথড্র করবে এবং বিএনপির পক্ষে তাদের ওয়েট (ওজন) থ্রো করবে। বিএনপির মধ্যে এমন উইশ ফুল থিংকিং কারা ঢোকালো সেটি আমার জানা নেই। কিন্তু যারা আওয়ামী-ভারত-নেক্সাস সম্পর্কে পড়াশোনা করেন তারা জানেন, ভারতের সাথে আওয়ামী লীগের সখ্য অনেক অনেক পুরনো। সেই ’৫০-এর দশক থেকেই আওয়ামী-ভারত বন্ধুত্বের সূচনা হয়। ঘটনাচক্রে তখন দিল্লির ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস এবং পশ্চিম বঙ্গের ক্ষমতাতেও ছিল কংগ্রেস। ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর থেকে মাঝে শুধু ৩ বছর বাদ দিয়ে (১৯৭৭-৮০) ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত সুদীর্ঘ ৪২ বছর কংগ্রেস একটানা ভারতের ক্ষমতায় ছিল। আওয়ামী লীগেরও জন্ম ১৯৪৯ সালে। ’৫০ দশকের পর থেকেই কংগ্রেসের সাথে তাদের জানাশোনা। সঞ্জয় গান্ধী, প্রিয় রঞ্জন দাস মুন্সী থেকে শুরু করে ওই জেনারেশনের সমস্ত কংগ্রেস নেতা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের বন্ধু ছিলেন। ওই সময় ভারতের কংগ্রেস ছাড়া অন্য কোনো দল ক্ষমতায় থাকলে তাদের সাথেও আওয়ামী লীগের বন্ধুত্ব হতো। অন্যদিকে বিএনপির জন্মই হয়েছে ১৯৭৮ সালে। সুতরাং ভারতের সাথে আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপির সখ্য বেশি থাকবে, এটি ভাবাই অরাজনৈতিক চিন্তা। ভারতীয় প্রশাসন এবং সাউথ ব্লক ভারত স্বাধীন হয়েছে ৬৮ বছর হলো। এই ৬৮ বছরে গড়ে উঠেছে তাদের একটি শক্তিশালী প্রশাসন যন্ত্র, যার নেতৃত্ব করছেন একদল অভিজ্ঞ ও ঝানু আমলা। ভারতের প্রশাসনে গড়ে উঠেছে আরও দুটি শক্তিশালী উইং। এর একটি হলো, পররাষ্ট্র দপ্তর বা সাউথ ব্লক এবং অপরটি হলো, রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং বা ‘র’। এরাই ভারতের পররাষ্ট্রনীতি বিশেষ করে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ নীতিনির্ধারণ করে থাকেন। রাজনৈতিক সরকার পরিবর্তিত হলেও সাউথ ব্লক ও ‘র’-এর বাংলাদেশ ও পাকিস্তান নীতি পরিবর্তন হয় না। রাজনৈতিক সরকারও তাদের পলিসিতে সাধারণত হস্তক্ষেপ করেন না। পঙ্কজ বাবু যা বলেছেন তার সারমর্ম এটিই। এই পটভূমিতে এবার বিএনপিকে বুঝতে হবে যে, বিদেশীরা বিশেষ করে পশ্চিমারা বিএনপির জন্য লিপ সার্ভিস দেওয়া ছাড়া আর কিছুই করবে না। তাই বিদেশনির্ভরতা বাদ দিয়ে বিএনপিকে র‌্যাব, পুলিশ এবং বিডিআরের সাথে একদিকে যেমন সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে অন্যদিকে তেমনি সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে জনগণের ওপর। এখন থেকে জনগণকে সাথে নিয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকার পরিবর্তনের জন্য বিএনপিকে মাঠে নামতে হবে। সেইসাথে তার জোটের অন্যান্য শরিকের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো জোরদার করতে হবে। প্রয়োজনে বড় শরিকের প্রতি ছোট শরিকদের যদি কোনো অনুযোগ বা অভিমানও থাকে সেটিও দূর করার জন্য বড় শরিক বিএনপিকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

উৎসঃ   ইনকিলাব

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com