1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :
শিরোনাম :
টেকনাফে সর্ববৃহৎ ক্রিস্টাল মেথ আইসের চালান জব্দ  সেন্টমার্টিনে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও বিদেশী অস্ত্র উদ্ধার সাবেক এমপি বদির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ বুধবার থেকে ফের ভার্চুয়ালি চলবে উচ্চ আদালত সেবা নিতে এসে মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন: প্রধানমন্ত্রী ৫০ বছর বয়সীরা পাবেন বুস্টার ডোজ বিশ্বের চট্টগ্রাম এসোসিয়েশন ও সমিতিগুলির ভার্চুয়াল সভায় বিশ্ব চট্টগ্রাম উৎসব করতে “আন্তর্জাতিক চট্টগ্রাম সমন্বয় কমিটি” গঠিত রামুতে হেডম্যানকে কূপিয়ে হত্যা  ঈদগাঁওতে মাস্ক ব্যবহার ও সামাজিক দুরত্বসহ স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছেনা নারায়ণগঞ্জ সিটিতে আইভীর হ্যাটট্রিক জয়

পাসপোর্ট অফিসের দুর্ণীতিবাজ রাসেল বদলি

  • আপডেট : মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৫
  • ৭৯ দেখা হয়েছে

এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার :
ঘুষ, দূর্ণীতি আর অনিয়মের অভিযোগে কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের ডাটা এন্ট্রি কন্ট্রোল অপারেটর রাসেল মাহমুদ চৌধুরীকে বদলি করা হয়েছে। সোমবার পাসপোর্ট অফিসের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক এডি শওকত কামাল বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শওকত কামাল বলেন, তিনি রাসেল মাহমুদ বদলির নির্দেশ পেয়েছেন। ঢাকা আগারগাঁও পাসপোর্ট কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে তাকে। এ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক শওকত কামালের সিন্ডিকেট ক্রমশই দুর্বল হয়ে পড়েছে। ২০ জুলাই সহকারী পরিচালক (এডি) শরীফুল ইসলামকে ঢাকা জেলায় বদলি করা হয়। এর পরে গত দুই মাস পূর্বে জোড়া কামালের মধ্যে উচ্চমান সহকারী আবু হানিফ মোস্তফা কামালকে বদলি করা হয়। তার বদলির পর শওকত কামাল নতুন করে নিজেরদের মধ্যে দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলে। ডিএডি শওকত নিজেই শীর্ষ দালালের ভুমিকা রেখে সাবেক আনসার সদস্য বর্তমানে নাইটগার্ড আবু বক্কর ও ডাটা এন্ট্রি কন্ট্রোলার অপারেটর রাসেল মাহমুদ চৌধুরীকে দিয়ে শক্ত দালাল সিন্ডিকেট করে কাজ চালান। অবশেষে রাসেল মাহমুদ চৌধুরীকেও ঢাকায় বদলি করা হয়। তবে ডিএডি শওকত কামাল  ও নাইটগার্ড আবু বক্কর এখনো বহাল থেকে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন করে যাচ্ছে।
শওকত কামাল। উপ-সহকারী পরিচালকের পদ থেকে তিনি এখন ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে সবাই পাসপোর্ট অফিসের ‘বড় সাহেব’ বলেই জানেন। কেউ জানেন তিনি উপ-পরিচালক, কেউ আবার সহকারী পরিচালক হিসেবে স্যার বলে সম্বোধন করেন। এ অফিসে তিনি দাপুটে কর্মকর্তা বলে সবার কাছে পরিচিত। পাসপোর্ট অফিসে সহকারী পরিচালকের চেয়ার-টেবিলে বসে তিনি বিভিন্ন ফাইলপত্রে সই-স্বাক্ষরও করেন। সিদ্ধান্তের জন্য তার টেবিলে জমা হয় নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ ও বিশেষ পাসপোর্ট আবেদন ফরমের ফাইলও। তিনি বেতনও পান অল্প। কিন্তু অবাক হলেও সত্য যে, আসলে তিনি পাসপোর্ট অফিসে যে পরিমাণ বেতন পান তার চেয়ে সহস্রগুন ব্যয় করেন বিভিন্ন খাতে। ক্ষমতাধর এ দুর্নীতিবাজ শওকত কামালের এ ক্ষমতার মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছেন চট্টগ্রাম বহির্গমন অধিদপ্তরের বর্তমান আঞ্চলিক উপ-পরিচালক ও চট্টগ্রামের এক জনপ্রতিনিধি। তবে তিনি ওই জনপ্রতিনিধির নিকটাত্মীয় পরিচয় দিলেও আসলে তিনি কেউ নন। তার নাম ভাঙ্গিয়েই যত সব অপকর্ম করছেন তিনি।

সুত্রমতে, কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে টাকা দিলেই রোহিঙ্গাদের হাতে মিলছে পাসপোর্ট। এখানে কর্মকর্তা কর্মচারীদের অনিয়ম আর দূর্ণীতি কিছুতেই থামছে না। বৈধ পাসপোর্ট আবেদন ফরম জমা নিয়ে প্রকাশ্যে ঘুষ আদায়ের পাশাপাশি অন্তত অর্ধলাখ টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদেরও পাসপোর্ট করিয়ে দেয়া হচ্ছে এখানে। টাকা নিয়ে জমা দেওয়া আবেদন ফরমের উপরে সংকেতিক চিহ্ন থাকে।

ইতোমধ্যে শতশত রোহিঙ্গার হাতে চলে গেছে এমআরপি পাসপোর্ট। ঘোর অভিযোগ উঠেছে ফোর স্টার সিন্ডিকেট করে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট তৈরি করে দিয়ে কর্মচারীরা দিনদিন নয়া কৌশল ও প্রতারণার নতুন ফাঁদ সৃষ্টি করেছে। কর্মচারীদের এসব প্রতারণা উদঘাটন করেছে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) কক্সবাজার শাখা।

ইতোমধ্যে ৪২টির অধিক রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট আবেদন বাতিল করা হয়েছে। এসব পাসপোর্ট ফরম প্রতি ৬০-৭০ হাজার টাকায় চুক্তি ভিক্তিক জমা নিয়েছিলেন পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা। পাসপোর্ট অফিসের অনিয়ম আর দূর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে এধরনের চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনিয়ম আর দুর্নীতি করে বড় কর্তা শওকত ও কর্মচারীরা গাড়ি, বাড়ি, শপিংমল সহ বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছে অনেকে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসটি ২০০৯ সালে হাতের লেখা পাসপোর্ট প্রদানের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে ২০১১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর মেশিন রিডেবল (এমআরপি) পাসপোর্ট কার্যক্রম চালু করা হয়। শুরু থেকেই এই পাসপোর্ট অফিস নিয়ে দুর্নাম কম হচ্ছে না। কর্মকর্তাদের নিয়োজিত ও পছন্দের লোকজন সরাসরি যোগাযোগ করেন পাসপোর্ট অফিসের উচ্চমান সহকারী আবু হানিফ মোস্তফা কামাল ও কম্পিউটার অপারেটর রাসেল মাহমুদ চৌধুরীর সাথে। তাদের দু’জনের মাধ্যমেই অফিসিয়াল কাজ কর্ম শেষ করতেন। কিন্তু গত ২ মাস পূর্বে সর উচ্চমান সহকারী আবু হানিফ মোস্তফা কামালকে ঢাকায় বদলি করা হয়। এবার বদলি করা হয়েছে আরেক দুর্ণীতিবাজ রাসেলকে। তিনি গত ৫ বছরেরও অধিক সময় এ অফিসে ডাটা এন্ট্রি কন্ট্রোল অপারেটরের দায়িত্ব পালন করেন। অবশেষে তাকে ঢাকায় বদলি করা হলো। কিন্তু তিনি এখনো পর্যন্ত কর্মস্থল ত্যাগ করেনি। বর্তমানে বহাল রয়েছে ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক শওকত কামাল ও নাইটগার্ড আবু বক্কর। তারা প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেন অব্যাহত রেখেছে।

এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক এডি শওকত কামাল বলেন, ডাটা এন্ট্রি কন্ট্রোল অপারেটর রাসেল মাহমুদ চৌধুরীকে বদলি করা হয়েছে। সোমবার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেন।

শওকত কামাল বলেন, গত সপ্তাহে রাসেল মাহমুদ বদলির নির্দেশ পেয়েছেন। ঢাকা আগারগাঁও পাসপোর্ট কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে তাকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
© ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
Site Customized By NewsTech.Com