1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. joaopinto@carloscostasilva.com : randaldymock :
  3. makaylabeaurepaire@1secmail.com : scotty7124 :
  4. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  5. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  6. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

পেকুয়ায় তিল ধারণের ঠাই নেই আশ্রয়ণ কেন্দ্রগুলোতে : বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট চরমে

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০১৫
  • ৩৬ দেখা হয়েছে

ইমরান হোসাইন, পেকুয়া :
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলের পানি অরক্ষিত ভাঙ্গা বেড়ীবাধ দিয়ে প্রবেশের ফলে এক মাসের ব্যবধানে ফের পেকুয়া সদর, শীলখালী ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের কয়েক হাজার ঘরবাড়ী বিগত ৭দিন যাবত পানির নীচে ডবে আছে। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বেড়েছে ৬-৭ ফুট। এতে, কমপক্ষে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ৪দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলের পানি পেকুয়া সদর ইউনিয়নের পূর্বমেহেরনামা রাবারড্যাম সংলগ্ন এলাকায় পাউবোর ভেঙ্গে যাওয়া বেড়িবাঁধ গত ১মাসেও সংস্কার না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়ীবাঁধ দিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করেছ। গত ৭দিন ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে পুরো পেকুয়া উপজেলা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, গত ২৫ জুনের বন্যায় পেকুয়া উপজেলায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছিল। এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ফের ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে পেকুয়াবাসি।
গতকাল পেকুয়ার বিভিন্ন প্লাবিত গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, প্রায় ৮০ভাগ ঘরবাড়ি এখনো পানির নীচে তলিয়ে আছে। তিল ধরনের ঠাঁই নেই আশ্রয়ণ কেন্দ্রগুলোতেও। পানিবন্দি লোকজন গৃহপালিত পশু ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছেন । সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে নারী ও শিশুরা। মহাসড়ক পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ায় পেকুয়ার সাথে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে রয়েছে। এবিসি মহাসড়কেরও কিছু অংশ এখনো পানির নিচে থাকায় খব কম সংখ্যক গাড়ি যাতায়াত করছে। এদিকে প্রবল বৃষ্টিতে পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ায় পেকুয়ার কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গত ৬দিন ধরে কোন ক্লাস হয়নি। উপজেলা পরিষদ ভবন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নীচতলাও পানি নিচে। এদিকে একমাস আগের বন্যার সময় আশ্রয়ণ কেন্দ্রগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা সংস্কার না করায় দুর্গন্ধ ও অপিরচ্ছন্ন পরিবেশেই আশ্রয় নিয়েছে বন্যার্ত লোকজন। অধিকাংশ নলকূপ পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ায় খাবার পানি সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যা দূর্গত এলাকায় ও আশ্রয়ণ কেন্দ্রসমূহে সরকারী, বেসরকারী ও ব্যাক্তি উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।
পেকুয়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ বলেন, মাতামহুরী নদীর বার্মার টেক ও পুরুইত্যাখালী রাবার ড্যামের দুই পাশে বিশাল অংশ জুড়ে বেড়ীবাঁধ ভেঙে প্রবল ¯্রােতে পানি ঢুকার কারণে পেকুয়ার সদর, শিলখালী ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, একমাস আগের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব বেড়ীবাঁধ সংস্কারে দ্রুত উদ্যোগ না নেয়ার ফলে সাধারণ মানুষগুলো ফের বন্যায় সর্বহারা হতে বসেছে। পেকুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু বলেন, একমাস আগের বন্যায় অর্ধশত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল। এই ক্ষত শুকানোর আগেই ফের বন্যায় পেকুয়ার জনপদ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ২৫ জুনের বন্যার চেয়ে এবারের বন্যা আরও ভয়াবহ এবং দীর্ঘস্থায়ী।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুর রশিদ খান বলেন, পেকুয়ার বন্যা পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। পেকুয়া সদর সম্পুর্ণ এবং শিলখালী ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের একাংশের অধিকাংশ ঘরবাড়ী পানির নীচে তলিয়ে গেছে উল্ল্যেখ করে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বেড়ীবাঁধ সংস্কারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে পেকুয়ায় ফের বন্যা হল। এরপরও উপজেলা প্রশাসন বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সার্বিক কার্যক্রম ও ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে। খুবশীঘ্রই ক্ষতিগ্রস্ত বেড়ীবাঁধ সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর

  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com