1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

পেকুয়ায় পানি কমলেও বাড়ছে পানিবাহিত রোগ-সংকটে বিশুদ্ধ পানি চিকিৎসা সেবা ও ত্রাণ সামগ্রী

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০১৫
  • ৩০ দেখা হয়েছে

pic pekua 30-06-15 (Small)এস.এম.ছগির আহমদ আজগরী,পেকুয়া :
কক্সবাজারের পেকুয়ায় জোয়ার আর বৃষ্টির পানি কমতে শুরু করলেও বাড়ছে পানিবাহিত রোগব্যাধি। সেই সাথে চরম সংকট দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও ঔষধ সামগ্রী। ফলে, উপজেলার বন্যা দূর্গত মানূষ পোহাচ্ছে চরম ভোগান্তি। জানা যায়, গত সপ্তাহখানেক যাবত টানা বর্ষন, পাহাড়ি ঢল আর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের পানিতে একাকার হয়ে প্রত্যন্ত পাড়া-মহল্লায় দেখা দেয় ভয়াবহ বন্যা। এতে উপজেলার দু’লক্ষাধিক মানূষ হয়ে পড়ে পানি বন্দি। দেখা দেয় মানবিক বিপর্যয়। এসময় স্থানীয় প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতায় ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কার্যক্রমে পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রনে রাখতে সক্ষমতা দেখায়। অন্যদিকে, গত ২দিন ধরে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার কারণে রবিবার থেকে কমতে শুরু করেছে পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রত্যন্ত পাড়া মহল্লায় জমে থাকা পানি। সাথে বন্যা পরিস্থিতিরও কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় সরোজমিন ঘুরে দেখা গেছে যে, উপজেলায় বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও নতুন করে দেখা দিয়েছে ডায়রিয়া, কলেরা, ভাইরাস জ্বরসহ পানিবাহিত নানা রোগ ব্যাধি। বন্যাকবলিত মানুষ এখন ভুগছে বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা সেবা, ঔষধ, পর্যাপ্ত ত্রাণ ও পূর্ণবাসন প্রক্রিয়ার তীব্র সংকটে। ফলে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে বন্যাক্রান্ত এলাকার হাজার হাজার মানুষ। এদিকে বন্যা পরবর্তী বন্যাদুর্গত মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ৮টি মেডিকেল টীম প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি বাতিল করা হয়েছে উপজেলার স্বাস্থ্য বিভাগের সকল চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সবধরনের ছুটি। এতথ্য নিশ্চিত করেছেন উপজেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মুজিবুুর রহমান।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অভিযোগ কওে জানিয়েছেন, বন্যাদুর্গতদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। প্রশাসনের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ বিরতণ তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী সংগঠনের লোকজন।
পেকুয়া উপজেলা প্রাশসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মারুফুর রশীদ খান জানান, ভারী বর্ষণ, বিস্তির্ণ বেড়িবাঁধের একাধিক স্থানে ভাঙ্গন ও পাহাড়ি ঢলের কারনে পেকুয়ায় বন্যা পরিস্থিতি বর্তমানে খুবই নাজুক। পুরো উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কগুলো আপাতত জলাবদ্ধতা মুক্ত হলেও অধিকাংশ পাড়া-মহল্লার রাস্তাঘাট ও গ্রামীণ অবকাটামো এখনও পানিতে তলিয়ে ও বন্দি রয়েছে। তিনি আরও জানান, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের সার্বক্ষনিক নির্দেশনার পাশাপাশি কক্সবাজার-১ এর মাননীয় সংসদ সদস্য(পেকুয়া-চকরিয়া) হাজী মোহাম্মদ ইলিয়াছ এমপি’র নির্দেশক্রমে বিভিন্ন এলাকায় দূর্গত মানুষের মাঝে জরুরী ত্রান সরবরাহ অব্যাহত রেখেছেন উপজেলা প্রশাসন। সেই সাথে উপজেলার পাশর্^বর্তী খরশ্রোতা মাতামুহুরী নদীর বেড়ীবাধ ভাঙ্গন ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসনের নিয়োজিত শ্রমিকদের তৎপরতা ও প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের তীব্র ফান্ড সংকটের মাঝেও প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহ বিভিন্ন স্তরের লোকজনের পরিশোধ আশ^াসের দান অনুদান আর সহায়তার অর্থে শ্রমিক ব্যবহার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, বন্যা পরবর্তী সময়ে গত বৃস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত প্রায় ৮-১০ লক্ষাধিক টাকা মূল্যমানের শুকনো খাবারসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শুধু বরিবারেই দূর্গতদের মাঝে ১৪মেট্রিক টন চাল ও বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সাথে আলাপকালে ইউএনও মোঃ মারুফুর রশিদ খান আরো বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষনিক ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। খবর নিয়ে জানা গেছে, গত রোববার বিকাল থেকে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার কারণে বন্যাক্রান্ত পেকুয়া সদর ছাড়াও পানি বন্দি শিলখালী ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের যেসব এলাকার মানুষ এতদিন পানিবন্দী থাকলেও বর্তমানে পানি নামতে শুরু করায় কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও এখনো অনেক পাড়া-মহল্লা বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে। সেই সাথে রাস্তাঘাটগুলোও ডুবে থাকার পাশাপাশি উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্টান ও হাটবাজারের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, একাধিক স্পটে বেড়ীবাধ ভাঙ্গনের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় পেকুয়া উপজেলার প্রায় সবকটি সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীন পাকা ও কাঁচা সড়কের ব্যাপক ভাঙ্গন হয়েছে। এদিকে পানি কমতে শুরু করায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৪০টি আশ্রয়ণকেন্দ্রে অবস্থান নেয়া লোকজন এখন নিজগৃহে ফিরে যাচ্ছেন। তবে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পূর্ণবাসন করতে আরো ত্রাণ ও তাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরী বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল ও জনপ্রতিনিধিরা দীর্ঘ ২যূগেরও বেশী সময়ের মধ্যে রেকর্ড বন্যাক্রান্ত পেকুয়ায় ত্রাণ ও পূর্নবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত ও জোরদার করার দাবী জানান।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com