1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

পেকুয়ায় বন্যা উপক্ষো করে শেষ মুহুর্তে চলছে ঈদের কেনাকাটা

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০১৫
  • ১৫ দেখা হয়েছে

এস.এম.ছগির আহমদ আজগরী,পেকুয়া :
কক্সবাজারের পেকুয়ায় জমে উঠেছে পবিত্র ঈদুল ফিতরের বাজার। আর এনিয়ে ক্রেতা, বিক্রেতাসহ স্থানীয়রা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন শেষ মুহুর্তের কেনাকাটায়। ঈদকে সামনে রেখে সম্প্রতি সংঘঠিত বন্যা উপক্ষো করে উপজেলা পেকুয়ায় বড় বড় বাজার, বিপনী বিতান ও রকমারী ষ্টোর গুলোতে শেষ মুহুর্তে জমতে শুরু করেছে ঈদের কেনাকাটার ধুম। ঈদের আগমনে ক্রেতা বিক্রেতারা এখন ব্যস্ত রয়েছে তাদের কেনা বেচায়। রমজানের প্রথম সপ্তাহ থেকে উপজেলার ছোট বড় হাট-বাজার ও বিপনী কেন্দ্রগুলোতে ঈদ বাজারকে স্বাগত জানিয়ে রং বেরংয়ের তোরন, ডিজিটাল বেনার, পোষ্টার, বেষ্টুনী আর নানা রকমারী রংয়ের আলোক স্বজ্জআয় সজ্জিত করা হয়। প্রায় সকল ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোর, কাপড়ের দোকান, কসমেটিক, স্বর্ণের দোকানসহ রকমারী মুদির দোকানগুলোয় দেখা গেছে সাজ¦ সাজ¦ রব। এখানে উপজেলার প্রধান বিপনী বিতান হিসাবে পরিচিত পেকুয়া (আল্হাজ্ব কবির আহমদ চৌধুরী) কবির মিয়া বাজার ঘুরলেই বুঝা যাবে ঈদ বাজারের আমেজ। কেননা এই বাজারের সাথে সংশ্লি¬ষ্ট রয়েছে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন্ এলাকা যেমন, উপকূলীয় উপজেলা বাশখাঁলীর ছনুয়া সহ একাধিক ইউনিয়ন, কক্সবাজারের মহেশখালী, মাতার বাড়ী, কুতুবদিয়া ও বদর খালী। সড়ক পথ দিয়ে বাঁশখালী, চকরিয়া, চুনতি, লামা ও আলীকদম সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে পেশাজীবি, চাকুরী জীবিরা কেনা কাটার জন্য ভিড় জমায় এ বাজারে।
এবারের ঈদ বাজার অন্যান্য বছরের চাইতে তুলনামুলকভাবে বেচাকেনা কম বলে ব্যবসায়ীরা জানালেও ঈদ উৎসবে থেমে নেই ক্রেতা বিক্রেতাদের বেচাকেনায়। ঈদের কেনা-কাটা করতে আসা এক মহিলা এই প্রতিবেদককে জানান, গত বছরের চেয়ে এই বছর জিনিষ পত্রের দাম অনেকটাই বাড়তি, তবুও ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সকলের জন্যে নতুন জামা কাপড়সহ অন্যান্য মালামালতো কিনতে হচ্ছেই।
পেকুয়া বাজারের একমাত্র হকার মার্কেট থেকে শুরু করে ছোটবড় প্রায় সকল মার্কেট গুলোতে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার লোকজনের সমাগম কম আকারে দেখা গেলেও দোকানপাটে কমতি নেই মানূষের ভিড়। এরই মধ্যে ঈদের দিন যতোই ঘনিয়ে আসছে বাড়ছে ততো ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কদর। থবে, পেকুয়ার হকার মার্কেটে এবার ঈদ সামগ্রী’র দাম অনেকটাই কম। মুসলিম প্রথায় এবারের ঈদ বাজারে দেখা গেছে কেউবা আসছে দেখতে আবার অনেকে আসছে কিনতে। আবার অনেকে এসেছিল পবিত্র রমজান মাসের দুই তৃতীয়াংশ সময়টি কাটাতে। অন্যদিকে হিন্দু সম্প্রদায়ীরাও মুসলিম পাড়ালিয়া বন্ধু বান্ধবদের সাথে ঈদ আনন্দে মাততে পছন্দের কাপড় চোপড় কেনায় মাততে দেখা গেছে। ক্রেতাদের মতে মালামালের দাম বেশী হলেও তবু থেমে নেই ঈদ ক্রেতাদের কেনাকাটা।
এবারের ঈদ বাজারেও দেখা যাচ্ছে মহিলা ক্রেতাদের ভীড় চোখে পড়ার মতো। সবাই ব্যস্ত তাদের নিজ নিজ পছন্দের জিনিস কিনতে। আবার কেউবা মেতেছেন প্রিয় জনের জন্য পছন্দের সেরা উপহার কিনতে। বিভিন্ন সাজে¦ সজি¦ত দোকানপাটে ঘুরপাক সাজানো ঝুলছে নানা রংয়ের কাপড় চোপড় আর ঈদ বাজারের মালামাল। উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মার্কেটগুলোতে কাপড়ের মধ্যে ছোট ছেলে-মেয়ে আর মহিলাদের আইটেমের সমাহার একটু বেশী। উপজেলায় বারবাকিয়া বাজার, রাজাখালী আরবশাহ বাজার, সবুজ বাজার, টৈটং হাজ্বী বাজার, মগনামা কাজী মার্কেট, মহুরী পাড়া বজার, ফুলতলা ষ্টেশন, সোনালী বাজার, শিলখালীর জারুলবুনিয়া ষ্টেশন বাজার, কাঁচারীমুরা ষ্টেশন বাজার, উজান টিয়া রূপালী বাজার, পেকুয়া সদরের চড়াপাড়া আদর্শ বাজার সহ বাঘগুজারা গুরা মিয়া চৌধুরী বাজারে নারী-পুরুষের সমাগমে কম বেশী কেনা বেচার ধুম চোখে পড়েছে সকলের। স্বাভাবিক ভাবে বেচাকেনা চলছে সকাল ১১টা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত। এবারের ঈদ বাজারের মধ্যে পেকুয়া আল্হাজ্ব কবির আহাম্মদ চৌধুরী বাজারে সদ্য প্রতিষ্টিত জারা সপ-এ ঈদের কেনাকাটার জন্য নারী-পুরুষ, শিশু-কিশুর, আবাল বৃদ্ধা বনিতা লোকের সমাগম খুব বেশী।
উপজেলার ছোট বড় হাট-বাজারে মধ্যবিত্ত পরিবারের কেনাকাটায় প্রচুর স্থান পেয়েছে লেহেঙ্গা শাড়ী, জামদানী, পাখি শাড়ি, মুসলিম জামদানী, পাকিস্থানী লোন, কাতান প্রিন্ট কাপড়। আর এসবে ক্রেতাদের চাহিদাও যেন একটু বেশী। এছাড়া সব শ্রেণীর সাধারন ক্রেতারা ক্রয় করছেন ফেবিয়ান ও চাইনা নেট, সুতি কাতান, প্রিন্ট জর্জেট, পপলিন, ও ভয়েল। বোরকার কাপড়ের মধ্যে কারিনা কাতান, মাখন কাতান, জর্জেট কাতান নামের কাপড়ও রয়েছে। এবারের ঈদ বাজারে সব ধরনের থান কাপড়ের দাম যেন একটিু বেশী। ফলে, অনেককেই বেকায়দায় পড়তে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। অপরদিকে, বাজারে এসেছে বেশ কিছু নতুন নামের ডিজাইনিং থ্রিপিস। মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতাদের পছন্দের কিরন মালাও স্থান পেযেছে এবারের পেকুয়া ঈদ বাজারে। ভারতীয় ক্যাটালক, লং থ্রিপিস, পাখি ডিজাইন, আশেকী-টু, বুঝেনা সে বুঝেনা, আওয়ারা। শাড়ির মধ্যে হ্যালো হাই বাই বাই এর দাম তুলনামূলক ভাবে বেশি হলেও বাজারের নতুন হিসেবে চাহিদা ও তার আনেকটাই বেশি। এর চেয়ে বেশি দামের মধ্যে রয়েছে খুশি, জিলিক ও কলকা আর কম দামের মধ্যে সুতির থ্রিপিস। এদিকে থান কাপড়ের দাম বেশ চড়া থাকলেও মহিলা ক্রেতাদের নিজেদের পরিহিত পেশাকের চাইতে একটি ভিন্ন পছন্দের পোষাক সেলাই করতে এবার থান কাপড় ক্রয় করছে অধিকাংশ মহিলারা। ফলে সেলাই জগতে ব্যস্ততম দিন কাটাচ্ছেন দর্জির দোকানিরাও। বাজারের সব চাইতে বড় পাইকারী ও খুচরা বস্ত্র বিতান জারা সপের স^ত্ত্বাধকিারী মহিউদ্দিন ও ফেরদৌস সওদাগর জানিয়েছেন, নতুন সপিং মল হিসেবে শুরু থেকেই তার বিপনী কেন্দ্রে ঈদের কেনাকাটা মুটামুটি অনেকটাই ভাল। তবে অন্য সব ব্যাবসা প্রতিষ্টিানেও থেমে নেই বেচা-বিক্রির ধুম।
এদিকে কাপড়ের দোকানের পাশাপাশি ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোরগুলোতেও ক্রেতাদের ভীড় রয়েছে সমানতালের। আর ক্রেতাদের সবচেয়ে পছন্দের পণ্যে স্থান পেয়েছে বেশী মেহেদী। শাহ রাশিদিয়া ডিপার্টমেন্টাল ষ্টোর এর স্বত্বাধিকারী আছহাব উদ্দিন সন্তোষ প্রকাশ করে এই প্রতিবেদককে জানান, গত বছরের তুলনায় এই বছর রমজানের প্রথম সপ্তাহ থেকে ঈদ বাজারে কেনাকাটা শুরু হয়েছে। তবে এই পর্যন্ত বেচা-কেনা মোটামুটি অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে। অন্যদিকে, পেকুয়ায় ঈদ বাজারের কেনাকাটায় হাট-বাজার ও দোকানপাটে যাওয়া আসায় নিরাপদ ও নির্বিঘœ করতে স্থানীয় প্রশাসন ও থানা-পুলিশ রয়েছে সার্বক্ষনিক সতর্কবস্থানে। রাতদিন টহল পুলিশ আর গোয়েন্দা নজরদারী বাড়ানো হয়েছে উপজেলার প্রত্যন্ত পাড়া-মহল্লার হাট-বাজার ও দোকানপাটে।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মারুফুর রশিদ খান জানিয়েছেন, রোজা ও ঈদ বাজারের পরিবেশ পরিস্থিতি নিশ্চিত রাখতে উপজেলা প্রশাসন রয়েছে সতর্ক ও সক্রিয়।
পেকুয়া থানার ওসি মোঃ আবদুর রকিব জানিয়েছেন, সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র রমজান ও ঈদের কেনাকাটায় লোকজনের নিরাপদ গন্তব্যের যাওয়া আসা নিশ্চিত রাখতে থানা পুলিশ রয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতায়।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com