1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

পেকুয়ায় বন্যা দূর্গতদের সর্বাত্মক আশ্রয় সেবা দিয়েও সূযোগ-সুবিধা বঞ্চিত পাহাড়ি এলাকার মানূষ!

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০১৫
  • ১১ দেখা হয়েছে

এস.এম.ছগির আহমদ আজগরী, পেকুয়া :
কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যা দূর্গতদের সর্বাত্মক আশ্রয় সেবা দিয়েও বঞ্চিত পাহাড়ি এলাকার মানূষ। ফলে, এনিয়ে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনায় ব্যস্ত সেখানকার পাহাড়ি এলাকার লোকজন। জানা যায়, ৭ইউনিয়নের পেকুয়া উপজেলায় ৩ইউনিয়নের অবস্থান পাহাড়ি এলাকায়। যার মধ্যে রয়েছে শিলখালী, বারবাকিয়া ও টইটং ইউনিয়ন। আর এই ৩পাহাড়ি গ্রামে রয়েছে হাজারো বসতি। এলাকায় প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও বন্যা ঝুঁকি দেখা দিলে আক্রান্ত এলাকার মানূষের আশ্রয় ও রক্ষার একমাত্র শেষ উপায় যেন উপজেলার পাহাড়ি ৩ইউনিয়ন। আর এভাবেই বন্যায় প্লাবিত নীচু এলাকার পানিবন্দি পরিবার ও সহায় সম্পদ রক্ষায় অপরিসীম অবদান রেখে আসছে পাহাড়ি এলাকার লোকজন। চলতি বছরের গত ১মাসের মধ্যে দফায় দফায় পেকুয়া উপজেলা বন্যাক্রান্ত হলে ঘটেনি তার ব্যত্যয়। পেকুয়ায় বন্যা কবলিত এলাকার লোকজনদের পরিবারের সদস্যদের ছাড়াও তাদের গৃহপালিত গবাদী ও সকল প্রকার সহায় সম্পদ নিয়ে আশ্রয় দেয়ার পাশাপাশি তাদের নিয়মিত ভরন পোষন ও অন্যান্য চাহিদা পুরনেও পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দারা দেখায়না কোন কার্পন্যতা। আশ্রিতদের প্রত্যাশা পূরণ ছাড়াও অন্যান্য সকল চাহিদা মেটাতে গিয়ে পাহাড়ি এলাকার অধিকাংশ লোকজনই ধার কর্জ ঋনের বেড়াজাল বন্দি ছাড়াও প্রতিনিয়ত নানা ঝক্কি ঝামেলা দূর্ভোগ পোহালেও পায়না কোন ত্রাণ সহায়তা বা আর্থিক পৃষ্টপোষকতা। এমন মন্তব্য জানিয়ে বন্যাক্রান্ত এলাকার লোকজনদের আশ্রয় ভরন পোষনে নাকাল পাহাড়ি এলাকার মানূষের খোঁজ-খবর কখনো কেউ নেয়না বলে জানান তারা। জানা যায়, গত ১মাসের মধ্যে পেকুয়ায় ২/৩দফা প্লাবনের শিকার হয়। এসময় উপজেলার নিচু এলাকা দিনের পর দিন সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে পানিতে তলিয়ে থাকায় নিচু এলাকার মানূষ হয় পানিবন্দি। এসময় বন্যাক্রান্ত এলাকার অধিকাংশ লোকজন তাদের পরিবারের সদস্য ছাড়াও তাদের গৃহপালিত গবাদী পশু-পাখি সকল প্রয়োজনীয় সহায় সম্পদ নিয়ে আশ্রয় নেয় পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী তাদের আত্মীয়-স্বজন পরিচিতদের বাড়িঘরে। যা নিয়ে নানা ধরনের ঝক্কি ঝামেলা ছাড়াও আশ্রিতদের নিয়মিত ভরন পোষন ব্যায় ভার বহনে দায় দেনা ঋন কর্জের বেড়াজালে জড়ায় পাহাড়ি এলাকার মানূষ। যা নিয়ে পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন ধরনের ঝুটঝামেলা ধকল যন্ত্রনা বয়ে বেড়াতে হয় পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী লোকজনদের। অথচ, তাদের বিষয়ে কখনো খোঁজ-খবর নেয়না কেউ। চলতি গত ১মাসের বন্যাকালীন সময়ে ভোগান্তি ধকলের শিকার পাহাড়ি এলাকার লোকজনদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে যে, দূর্যোগ মোকাবেলা পাড়িকালীন সময়ে তাদের অতিরিক্ত ব্যয় ভার বা ঋন বোঝা যন্ত্রনার অবসানে কারো যেন নেই কোন মাথা ব্যাথা। তাছাড়া, এযাবত তাদের সাধ সাধ্যের বিষয়েও সরকার, স্থানীয় প্রশাসনের কেউ নেয়না কোন সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এসময় তাদের ভাগ্যে ঝুটে না কোন ধরনের সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের ত্রাণ ও পূর্ণবাসনের সহায়তা ও আর্থিক সহযোগিতা পৃষ্টপোষকতা। এপ্রসঙ্গে উপজেলার পাহাড়ি জনপদ শিলখালী ইউনিয়নের জারুলবুণিয়া চউরজুম এলাকার বয়োবৃদ্ধ প্রবীন কামাল আহমদের পুত্র মোঃ জাফর আলম নামের এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তার বাপদাদার বসতভিটা গ্রামের বসতি স্থানীয় হাজিরয়োনা নামক এলাকায়। ছেলে-মেয়ের সম্বন্ধ সূত্রে আত্মীয়তা রয়েছে উপজেলার বন্যা প্রবণ মগনামা ও পেকুয়া সদর ইউনিয়ন এলাকার লোকজনের সাথে। চলতি বছরের গত ১মাসের বন্যাকালীন সময়ে পেকুয়া সদর ও মগনামা ইউনিয়নের নিচু এলাকার লোকালয় প্লাবিত হলে সেখানকার প্রায় ৩/৪টি বন্যাক্রান্ত পরিবার ও লোকজনদের গৃহপালিত গবাদী সহ তার বসতঘরে আশ্রয় দিতে হয়। পানি কমলে ইতিমধ্যে আশ্রিতরা নিজ নিজ বাড়িঘরে ফিরলেও আশ্রয়কালীন সময়ে আশ্রিত পরিবারের লোকজনদের নিয়মিত ভরন পোষন আর নানা বিভিন্ন ঝক্কি ঝামেলা সামাল দিতে তার প্রায় ২০-৩০হাজার টাকা ধার দেনার শিকার হয়েছেন। যা একা তার পক্ষে পরিশোধ প্রায় দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হলেও সংশ্লিষ্টরা কি সে অপেক্ষায় থাকবে? আর মানবে? অথচ, তা নিয়ে যেকোন জুট ঝামেলা তাকেই করতে হবে মোকাবেলা। টইটং ইউনিয়নের জাপা নেতা মোঃ আবদুল খালেক জানিয়েছেন, গত ১মাসের বন্যাকালীন সময়ে উপজেলার পানিবন্ধি বিভিন্ন এলাকার লোকজন তাদের গৃহপালিত গবাদী পশু পাখি ও পরিবারের লোকজন নিয়ে তাদের এলাকায় বসবাসকারী আত্মীয় স্বজনের বসতঘরে আশ্রয় নেয়। আর আশ্রিতদের প্রাত্যহিক ভরন পোষন আর বিভিন্ন জুটঝামেলা মোকাবেলায় এলাকার অধিকাংশ পরিবারের লোকজন আটকে পড়েছে দায়দেনা ঋন কর্জের বেড়াজালে। বারবাকিয়া ইউনিয়নের সাংষ্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাইফুর রহমান ওয়ারেচী জানিয়েছেন, পেকুয়ায় গত ১মাসের বন্যার সময় উপজেলার নীচু এলাকা প্লাবিত হলে পানিবন্দি লোকজন তাদের সহায় সম্পদ নিয়ে তার গ্রামে বসবাসকারী লোকজনদের বাড়িঘরে আশ্রয় নেয়। এসময় নিজ পরিবারের সদস্যদের ভরন পোষনের পাশাপাশি আশ্রিতদের চাহিদার ব্যায় ভার মেটাতে অধিকাংশ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানূষ শুধু ঋনের বেড়াজালে আটকায়নি। তাদের উপর গেছে নানা ধরনের ঝক্কি ঝামেলা। অথচ, পাহাড়ি এলাকার এসব মানূষজন পায়নি যথাযথ ত্রাণ বা আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা। পেকুয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু তার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, আগামীতে বিষয়টি মাথায় নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে সরকার ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি বিনীত অনুরোধ রাখলাম।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com