1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
শিরোনাম :
হ্নীলায় টেকনাফ সাংবাদিক সমিতি (টেসাস) এর কার্যালয় উদ্বোধন আমি মরে গেলে আমার সব সৃষ্টি ধ্বংস করো- কবীর সুমন রাত ৮টায় এল ক্লাসিকো যুদ্ধে বার্সা-রিয়াল করোনায় আরও ১৯ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ১০৯৪ সাংবাদিকনেতা গাজীর মুক্তির দাবিতে কক্সবাজারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কক্সবাজার প্রধান সড়ক বিএস মতে সড়ক বিভাগের অধিগ্রহণকৃত জমিতেই নির্মিত হবে ব্যারিস্টার রফিক-উল হকের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতির শোক দুঃসময়ে আইনি লড়াইয়ে এগিয়ে আসেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক: প্রধানমন্ত্রী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হক আর নেই টেকনাফ পৌর-ছাত্রলীগের বিশেষ জরুরী সভা অনুষ্ঠিত

পেকুয়ায় ভয়াবহ বন্যায় বিশ হাজার বসতবাড়ি বিধ্বস্থ, ত্রাণের জন্য হাহাকার

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০১৫
  • ৩৪ দেখা হয়েছে

p2015034053রিয়াজ উদ্দিন, পেকুয়া : পেকুয়ায় ভয়াবহ বন্যায় ৪ ইউনিয়নে প্রায় বিশ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। পেকুয়া উপজেলায় বন্যা কবলিত মানুষের দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে। কিছুটা বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এখনও অর্ধ লক্ষাধিক লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। গত ২৯ জুন থেকে পেকুয়ার সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। যে ভাবে লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেভাবে সরকারী ত্রাণ সহায়তা অপ্রতুল। টানা ৬ দিনের আষাঢ়ী বর্ষণে ও পাহাড়ী ঢলের তোড়ে পেকুয়া সদর,শিলখালী, বারবাকিয়া, মগনামা, উজানটিয়া ইউনিয়নে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এদিকে জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে জানা যায়, পেকুয়া সদর, শিলখালী, বারবাকিয়া ইউনিয়নে কমপক্ষে বিশ সহ¯্রাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে বিভিন্ন ধরনের রোগ ব্যাধি দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে পেকুয়া সদর ও শিলখালী ইউনিয়নে কমপক্ষে ১৫ হাজার ঘরবাড়ি ভেঙ্গে যায়। অপরদিকে বারবাকিয়া, উজানটিয়, মগনামা ইউনিয়ন, রাজাখালী ইউনিয়নে কমপক্ষে ৫ হাজার কাচারঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বর্তমানে বন্যার পানি বসতবাড়িতে রয়ে যাওয়ায় লোকজন মানবেতর জীবন যাপন করছে। লোকজনের জমাকৃত ধান, শাকসবজি, হাসমুরগী, পুকুরের মাছ অবর্ণনীয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেকুয়া, শিলখালী ইউনিয়নে লোকজনের মৎস্য প্রজেক্টগুলি বন্যার পানিতে একাকার হয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়ে গেছে। বন্যা দুর্গত লোকজন বিশুদ্দ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অপরদিকে উজানটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, তার ইউনিয়নে টেকপাড়া বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় হাজার হাজার মানুষ গৃহবন্দী রয়েছে। এলাকাবাসী জানান, উজানটিয়া ইউনিয়নের শাকখালি খাল ও নিদানতরানী খালের উপর স্থানীয় জাফর আহমদ, ইদ্রিস, নুরুল কবির, নুরুল হক গং খালের মধ্যখানে বেড়া দিয়ে পানি নিষ্কশনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। ফলে এলাকায় বন্যা ভয়াবহ আকার ধারন করে। এ দিকে শুকনো মৌসুমে তারা লবণ মাঠে পানি ঢুকানোর জন্য ওয়াপদার বেড়িবাধের উপর নির্মিত স্লুইচ গেইটে পলবোট বসিয়ে পানি বন্ধ করে দেয়। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একইভাবে মগনামা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল মোস্তফা চৌধুরী জানান, ইউনিয়নের কাঁকপাড়া বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে কয়েকটি গ্রাম পানির নীচে তলিয়ে গেছে। সেখানে কয়েক হাজার জনগন পানিবন্ধী অবস্থায মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাছাড়া প্রায় শিক্ষা প্রতিষ্টানে বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে মুল্যবান কাগজপত্র, নথি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলার একমাত্র বাংলাদেশ কারিগরী শিক্ষাবোর্ড অনুমোদিত জেএস কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউট এর পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, চাব্বিশ তারিখ বোর্ডের পরীক্ষা থাকায় ছাত্র/ছাত্রীদের নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহনের জন্য কেন্দ্রে চলে যাওয়ায় ওই দিন প্রবল বর্ষন ও বন্যার পানি তার প্রতিষ্টানে ঢুকে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ ও কম্পিউটারের মুল্যবান যন্ত্রপাতি, মুল্যবান কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে তার প্রতিষ্টানের ৪ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যায়। এ দিকে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা লোকজন অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে বন্যা দুর্গত মানুষের জন্য গত শনিবার পর্যন্ত ১৪ মেট্রিক টন চাউল, নগদ ৫০ হাজার টাকা অনুদান পাওয়া যায়। পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়াত আজিজ রাজু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফুর রশিদ খান, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মনজু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লুৎফা হায়দার রনি, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ পেকুয়া সদর ইউনিয়নে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে চিড়া, গুড়, মুড়ি বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল ২৮ জুন ককসবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা শাহ আবদুল মালেক পেকুয়া, উজানটিয়া, মগনামা বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি আশ্রয় কেন্দ্র সমুহের অবস্থা পরিদর্শন করেন এবং ত্রাণ কার্যক্রমে অংশগ্রহন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়াত আজিজ রাজু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফুর রশিদ খান, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মনজু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লুৎফা হায়দার রনি, পেকুয়া সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহ প্রমুখ। এ দিকে পেকুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাফায়াত আজিজ রাজু জানান, পেকুয়ায় বন্যায় অবর্ণনীয় ক্ষতি হয়েছে। যে ভাবে ক্ষতি হয়েছে সেভাবে সরকারী সাহায্য অপ্রতুল। তিনি বন্যা দুর্গতদের পাশে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, গত রবিবার ২৮ জুন জেলা প্রশাসক বরাবরে পেকুয়ার বন্যা দুর্গতদের জন্য ৩০০ মেট্রিক চাউল ও নগদ ১৪ লক্ষ টাকার জন্য আবেদন করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com