1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

প্যারিস সম্মেলনে ঐতিহাসিক সমঝোতা

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৫
  • ৪০ দেখা হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক :
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের গতি মন্থর করতে প্যারিসে ১৯৫টি দেশ একমত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ প্রধান দেশগুলো এই সমঝোতাকে ঐতিহাসিক হিসেবে অভিহিত করেছে।
তারা একমত হন, বিশ্ব উষ্ণায়নের হার বেঁধে রাখতেই হবে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। উন্নত দেশগুলো নিজেদের জন্য যার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এক দশকের মধ্যে প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশ বদলের চাকাটাকে উল্টোদিকে ঘোরাতে হবে।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্যারিসের সদ্য শেষ হওয়া পরিবেশ শীর্ষ বৈঠকের সভাপতি লর‍্যাঁ ফাবিয়াস শনিবার এই সমঝোতাপত্র পেশ করার সময় আবেগে কেঁদেই ফেললেন। ভাষণ দেয়ার সময়ও মাঝেমাঝেই আবেগে ধরে এল তার গলা। তবে গত ১১ দিন ধরে পরিবেশ বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দেশগুলি প্রাণপণে চেষ্টা করে গেছে, যাতে ভবিষ্যতের পরিবেশ চুক্তি একপেশে না হয়ে যায়। উন্নয়নশীল দেশগুলির পরিস্থিতি এবং প্রয়োজন যে উন্নত দেশগুলির থেকে আলাদা, জাতীয় পরিস্থিতির বিচারে পরিবেশ সুরক্ষায় তাদের দায়বদ্ধতাও যে ভিন্ন, সেটা স্বীকৃত হয়েছে এবারের চুক্তিতে। যার সুবাদে ক্যারিবীয় এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলি তাদের প্রাকৃতিক সমুদ্রসীমা সুরক্ষিত রাখায় মনোযোগী হতে পারবে, লাতিন আমেরিকার দেশগুলি তাদের অরণ্যভূমি সংরক্ষণে উদ্যোগী হবে, আফ্রিকা সচেষ্ট হবে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে এবং জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশগুলি বিকল্প শক্তির উৎস সন্ধানে তৎপর হবে। এমন বহুমাত্রিক সমঝোতা সত্ত্বেও তাপমাত্রার বৃদ্ধির হারকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বেঁধে রাখার প্রশ্নে সমস্ত দেশ যে একমত হয়েছে, সেটাই যথেষ্ট বড় সাফল্য বলে চিহ্নিত হচ্ছে এখন। শুধু লক্ষ্য স্থির করাই নয়, পরিবেশের সুরক্ষায় দেশগুলি কে কী করল, প্রতি পাঁচ বছর পর পর তার হিসেব নেওয়া হবে। কোথাও যদি অসঙ্গতি বা বিচ্যুতি হয়ে থাকে, তাহলে তা শোধরানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।
পরিবেশের বদল ঘটলে তার সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নেয়া যায়, কোনো দেশ পরিবেশজনিত ক্ষতির সম্মুখীন হলে কীভাবে তাকে সাহায্য করা যায়, সেগুলোও অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে নতুন চুক্তিতে। ২০২০ সালকে সময়সীমা ধরে ১০ হাজার কোটি ডলারের একটি সহায়ক তহবিল গড়ার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলিকে সাহায্য করার জন্য। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ এবং রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব বান কি মুন এদিন পরিবেশ বৈঠকের সভাপতি লর‍্যাঁ ফাবিয়াসের সঙ্গে গলা মিলিয়ে আবেদন জানান, অন্তর্দেশীয় পার্থক্যের কথা না ভেবে এই চুক্তিতে সামিল হতে। পরিবেশ সুরক্ষা ছাড়াও খাদ্য সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন, মৌলিক অধিকার রক্ষা এবং সবশেষে বিশ্ব শান্তির দিকে ধাবিত হয়েছে উচ্চাকাঙ্ক্ষী এই চুক্তি। একই সঙ্গে ফাবিয়াস সতর্ক করে দিয়েছেন, এই চুক্তি না মেনে চলার পরিণতি হবে অপূরণীয় ক্ষতি, যা আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দায়বদ্ধতাকে এবং সম্মিলিত সমান্তরাল উদ্যোগকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেবে।
সম্ভবত সেই কারণেই বাড়তি উদ্যোগ নিচ্ছে আমেরিকা, নরওয়ে, মেক্সিকো, কলম্বিয়া–সহ ১০০টি উচ্চাকাঙ্ক্ষী দেশ, যারা তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ১.৫ ডিগ্রিতে বেঁধে রাখতে স্বেচ্ছায় প্রতিশ্রুত হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com