1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

প্রতিবাদ যখন প্রতিশোধ

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০১৫
  • ১৭ দেখা হয়েছে

সাদ্দাম হোসাইন, হ্নীলা :
প্রকাশিত যে কোন সংবাদের প্রতিবাদ করার অধিকার ক্ষুব্ধ পক্ষের রয়েছে। এটা আইনত: ও সংবিধানিক স্বীকৃতি। আবার সেই প্রতিবাদে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের বক্তব্য থাকাটাও স্বাভাবিক আইনত: ও সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত। কিন্তু সেটা যদি প্রতিবাদ না হয়ে প্রতিশোধ হয়; তাহলে ঐ প্রতিবাদকে ‘পাগলের প্রলাপ’ ছাড়া আর কি বলার থাকে?

সদয় পাঠকগণের নিশ্চয় মনে থাকার কথা- গত ৮ জুলাই বিভিন্ন অন-লাইন পত্রিকায় “হ্নীলায় ৬ মাস ধরে গৃহবন্দি এক পরিবার/ প্রতিকার চেয়ে পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দায়ের” শিরোনামে আমার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। উক্ত প্রতিবেদন প্রচারের কয়েকদিন পর গত ১০ জুলাই “মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনে আপত্তি” শিরোনামে আমার ঐ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রতিবাদ বিভিন্ন অন-লাইন পত্রিকায় প্রচারিত হয়। ঐ প্রতিবাদ পড়ে তো আমার চক্ষু-চড়কগাছ। প্রতিবাদলিপিতে কোথাও প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে কথিত “আপত্তির” এক বর্ণও লেখা নেই- প্রতিবাদ নামে যা লেখা হয়েছে- তা সম্পূর্ণ প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে। এতে প্রতিবেদক হিসেবে আমার ‘অল্প শোকে কাতর অধিক শোকে পাথরের’ মত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

আমার ঐ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে হ্নীলায় চিহ্নিত প্রভাবশালী অস্ত্রধারী ইয়াবা ব্যাবসায়ী ও মানবপাচারকারীদের অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকিতে এক অসহায় পরিবার ৬ মাস ধরে গৃহবন্দি রয়েছে। এতে ঐ পরিবারের মাদ্রাসা পড়–য়া ৫ম শ্রেণীর এক ছাত্রের পড়া-লেখা বন্দ হওয়ার উপক্রম দেখা দেওয়ায় ঐ অসহায় পরিবার কোন উপায়ান্তর না দেখে অবশেষে এর প্রতিকার চেয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি পাঠক সমীপে তুলে ধরা হয়। কিন্তু প্রতিবাদ লিপিতে এর বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণ হাজির না করে উল্টো আমাকে “ইয়াবা দালাল ও মাদক পাচারকারী হিসেবে চিহ্নিত” করা হয়েছে। এ যেন ‘ঠাকুর ঘরে কে রে/ আমি কলা খাই না’র মত নিজেদেরই স্বরূপ উন্মোচন করেছে। নিজেরা যে ইয়াবা দালাল, মানব পাচারকারী, ইয়াবা সেবনকারী এটাই তারা নিজেদেরই অজান্তে নিজেরাই প্রমাণ করে দিয়েছে। প্রতিবেদনে আমি চার জনের নাম উল্লেখ করেছি। কিন্তু প্রতিবাদ করেছে মাত্র তিনজন। আরেক জন কোথায়? অংকটা সোজা- তিনি আমার নামে নাম ’সাদ্দাম হোসাইন’ এই মাত্র যে দিন আমার প্রতিবেদন প্রচারিত হয়, সেই দিন ইয়াবা মামলায় দীর্ঘ কারাভোগের পর তিনি জামিনে ছাড়া পায়। তাই বুদ্ধি করে তার নাম প্রতিবাদলিপিতে সংযুক্ত করেনি। বাকী তিনজন যথাক্রমে মমতাজুল ইসলাম কালাম হ্নীলা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি পরিচয়ের আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা ও দালালী করে জিরো থেকে হিরো বনে গেছেন। তিনি আবার নিজেই আবার ইয়াবা সেবনকারী- প্রয়োজনে মেডিকেল টেস্ট করে এর প্রমাণ নিতে পারেন যে কেউ। পরবর্তীজন সিরাজুল ইসলাম ধইল্লা- তিনি দিনরাত নাফনদীর পাড়ে থেকে মানব পাচার করেন। তিনিও তার বড় ভাইয়ের মত শুধু ইয়াবা সেবনকারী নয়; একদম কিশোর বয়স থেকে হিরোইন, গাঁজা, ফেন্সিডেইলসহ সব রকমের মাদকসেবী। এর পরবর্তী জন আনোয়ারুল ইসলাম ননাইয়া- হ্নীলা ষ্টেশনে প্রায় ডজনখানেক দোকানের মালিক বনে আছেন। এত অল্প বয়সে তিনি কোটিপতি ও সুরম্য দালানের মালিক কি করে হলেন- তা মোটেই রহস্যজনক নয়। কেননা তিনি নিজে মানব পাচারকারী ও ইয়াবা ব্যবসায়ী এবং দালালী করেন দক্ষ হাতে। গোয়েন্দা বিভাগে খোঁজ নিলে এর প্রমাণ মিলবে। এছাড়া ইয়াবা ব্যবসায়ীরা তাকে ‘বিজিবি’র দালাল বলে যমের মতো ভয় করে।

এই তো গেল একদিক। এবার আসা যাক- প্রতিবেদক হিসেবে আমার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিলেন কিভাবে। তাঁদের ‘মিথ্যা সংবাদে আপত্তিতে’ আমার বয়স দেখানো হয়েছে ১৭ বছর। আবার ১৬ বছর ধরে দাদার সাথে নাফনদীতে জেলে হিসেবে কাজ করেছি। এ কাজের পর অর্থ্যাৎ, ১৬ বছর পর আড়াই বছর ধরে বাবার সাথে হ্নীলা ষ্টেশনে মাছ বিক্রির ব্যবসা করেছি। এখন প্রশ্ন- আমার বয়স কত? তাঁদের কথিত ‘আপত্তি’ অনুযায়ী ১৭ বছর। কিন্তু তাঁদের প্রতিবাদলিপি মতে তো সাড়ে ১৮ বছর হয়। তাহলে আমার বয়স নিয়ে এত গরমিল কেন? ঐ যে মাদক সেবন করে লেখতে গিয়ে এই গন্ডগোল। এখানে একটা কথা বলে রাখা ভালো- হ্যাঁ, আমার দাদা ও বাবা এখনো হ্নীলা ষ্টেশনে মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাহলে মাছ বিক্রি বা জেলে হলে লেখা-পড়া করা যাবে না- সাংবাদিকতা করার মতো যোগ্যতা অর্জন করা যাবে না- এটা সংবিধানের কোন ধারায় লেখা আছে- দয়া করে জানালে উপকৃত হতাম। তাঁদের লিপি অনুযায়ী লেখাপড়া করে যোগ্যতা অর্জন করতে গেলে তাহলে ছোটখাট জমিদারী থাকতে হবে? রাজা-বাদশার মত চাল-চলন ও অগাধ সম্পত্তির মালিক হতে হবে?

এরপর আমার শিক্ষা অর্জন নিয়ে তাঁদের প্রতিবাদলিপিতে ভয়াবহ অভিযোগ তুলেছেন। একদিকে বলা হয়েছে আমি মাদ্রাসা ছাত্র- অন্যদিকে বলা হয়েছে আমি “মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে জেএসসি এবং এসএসসির নকল সার্টিফিকেট বানিয়েছি।” সদয় পাঠকবৃন্দ চিন্তুা করে দেখুন- মাদ্রাসা ছাত্র কিভাবে জেএসসি এবং এসএসসি পাশ দেখাবে। এটা তো কোনদিনই সম্ভব নয়। কারণ, মাদ্রাসায় জেডিসি এবং দাখিল পাশ করে। ঐ যে ইয়াবা আর হরেক রকম মাদকসেবন করে লিখলে এমন গরুচন্ডালী অবস্থার সৃষ্টি হয়। আমি পাঠকবৃন্দের সবিনয় নিবেদন করে বলতে চাই- আপনার যে কেউ দিন বা রাতের যে কোন সময় মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে ইন্টারনেটে ঢুকে গুগল-এ “ডাব্লিও ডাব্লিও ডাব্লিও ডট এডুকেশন বোর্ড রেজাল্টস ডট গভ ডট বিডি”তে চার্চ করলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রামসহ “মিনিষ্ট্রি অব এডুকেশন” নামে একটি মেনু আসবে। উক্ত মেনুর “এক্সামিনেশন” বক্সে জেডিসি, “ইয়ার বক্সে” ২০১১, “বোর্ড” বক্সে মাদ্রাসা সিলেক্ট করুন এবং “রোল” বক্সে ৩৪৩৪৫৬ লিখে “সাবমিট” কমান্ডে ক্লিক করুন। দেখবেন আমার নাম, পিতা-মাতা-মাদ্রাসার নামসহ আমার জেডিসি পরীক্ষা পাশের যাবতীয় তথ্য পেয়ে যাবেন। অনুরূপভাবে উক্ত মেনুর “এক্সামিনেশন” বক্সে দাখিল, “ইয়ার বক্সে” ২০১৪, “বোর্ড” বক্সে মাদ্রাসা সিলেক্ট করুন এবং “রোল” বক্সে ২৪৩৭৫৯ লিখে “সাবমিট” কমান্ডে ক্লিক করুন। দেখবেন আমার নাম, পিতা-মাতা-মাদ্রাসার নামসহ আমার দাখিল পরীক্ষা পাশের যাবতীয় তথ্য পেয়ে যাবেন। দেখবেন আমি কি মোটা অংকের বিনিময়ে সার্টিফিকেট কিনেছি নাকি পড়াশুনা করে অর্জন করেছি? ইয়াবা আর নানান রকম মাদক সেবনে অভ্যস্ত হয়ে তারা যে এই “আপত্তি” নামক প্রতিবাদলিপি লিখেছে- তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট হবে। সদয় পাঠক জ্ঞাতার্থে জানাচ্ছি যে, আমি ২০১১ সালে জেডিসি ও ২০১৪ সালে দাখিল পাশ করে বর্তমানে হ্নীলা শাহ মজিদিয়া মাদ্রাসায় আলিম ২য় বর্ষে অধ্যায়নরত আছি।

আমার বিরুদ্ধে আরো বলা হয়েছে, আমি নাকি ভূয়া রিপোর্টার- দৈনিক আজকের কক্সবাজার পত্রিকার নাম বিক্রি করে চলাফেরা করছি বিধায় আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। এটাও যে একটা ইয়াবা ও নানা জাতীয় মাদক সেবন করে লিখেছে- তার প্রমাণ পাঠক সমীপে উপস্থাপন করছি। আমি যখন ২০১২ সালে ৯ম শ্রেণীর ছাত্র, মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানের সম্পাদনায় “দৈনিক আজকের কক্সবাজার” নামে একটি পত্রিকা বের হচ্ছে জেনে তাতে “হ্নীলা প্রতিনিধি” হিসেবে নিয়োগ পেতে কোন রকম মিথ্যার আশ্রয় না নিয়ে একটা আবেদন করি। সেই আবেদন অনুযায়ী আমাকে নিয়োগ প্রদান করে এবং আইডেন্টি কার্ড ইস্যূ করে। উক্ত পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ পর্যন্ত আমি হ্নীলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছি। এছাড়া ঢাকা থেকে প্রকাশিত অন-লাইন পত্রিকা সময়ের কণ্ঠস্বর এর টেকনাফ প্রতিনিধি, কক্সবাজার জেলা থেকে প্রকাশিত কক্সবাজার নিউজ ডটকম, টেকনাফ নিউজ ডটকম, প্রবাল নিউজ ডটকম, নিউজ কক্সবাজার ২৪ ডটকম, টেকনাফ নিউজ ২৪ ডটকম, টেকনাফ নিউজ ৭১ ডটকম, নিউজ টেকনাফ ডটকম, টেকনাফ টু-ডে ডটকম, আলো নিউজ ২৪ ডটকম, কক্সবাজার আলো ডটকম, উখিয়া নিউজ ডটকম, সিএসবি ২৪ডটকম, চকরিয়া নিউজ ডটকমসহ অসংখ্য অনলাইন পত্রিকায় নিউজ প্রেরণ করি এবং স্বনামে তা প্রচারিত হয়ে আসছে।

সর্বশেষ জমি সংক্রান্ত যে দেওয়ানী মামলার কথা বলা হয়েছে, সেটা তো একটা গোলাভাগ মামলা। আমার দাদা বাদী হয়ে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)সহ মোট ১২৯ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। সেটা এখনো বিচারাধীন। আর যে ৫০ শতক জমি তাদের ৩০ বছর ধরে দখলীয় জমি বলা হয়েছে এবং তাদের চাচা ছাবের আহমদের ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত বলা হয়েছে- তা গাঁজাখোরী বক্তব্য ছাড়া আর কিছুই নয়। শুধু তাই নয়, মনে হয় উক্ত জমিতে তাদের কু-নজর লেগেছে। কারণ, উক্ত জমি ৩০ বছর তো দূরের কথা ৩ মিনিটের জন্যও তাদের দখলীয় ছিল না এবং নাই। প্রমাণিক সত্য কথা হল: তাদের চাচা ছাবের আহমকে আমার দাদা-বাবা-চাচা গত ৫ বছর ধরে ৮০ শতক (দুই কানি) জমি বছরে ১২ হাজার টাকা দরে লবণ চাষের জন্য বর্গা দিয়েছেন। এ সর্ম্পকিত দলিল-পত্র আমাদের দাদা-বাবা-চাচার কাছের সংরক্ষিত আছে। এছাড়া যে জিআর মামলার কথা বলা হয়েছে, তা আমার চাচা করেছেন। কারণ, তারা আমার চাচার ঘর-বাড়ীতে প্রকাশ্য-দিবালোকে অগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় রাম দা, লোহার রড নিয়ে আক্রমন করেছেন- সেই মামলাও বিচারাধীণ।

সদয় পাঠক সমীপে আমার আরজ- আমার অনুসন্ধানী প্রতিদেন, তাঁদের প্রতিবাদ এবং প্রতিবেদক হিসেবে আমার বক্তব্যটুকু পড়ে এর সত্যাসত্য বিচারের ভার আপনাদের দিলাম। অত্যন্ত ধৈর্য্যসহকারে আমার বক্তব্য পড়ার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com