1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

ফের বন্যা আতঙ্কে ঈদগাঁওবাসী : ঘুরে দাঁড়াতে চাইলেও পারছে না গ্রামাঞ্চলের লোকজন

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০১৫
  • ৯ দেখা হয়েছে

এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও :
গেল পাহাড়ী ঢলের বন্যার পানি আর প্রবল বৃষ্টিপাতে ঈদগাঁওবাসীর ভাগ্য ছিন্নভিন্ন করে দেওয়ার পরেও ফের নতুন করে বন্যা আতঙ্কে পড়েছে এলাকাবাসী। গ্রামাঞ্চলের অসহায় লোকজন ঘুরে দাঁড়াতে চাইলেও বন্যার কবলে পড়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না। গেল বন্যায় বৃহত্তর এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাধারণ লোকজনের পাশাপাশি রাস্তা-ঘাটেরও ক্ষতিও কিন্তু কম নয়। তার পরেও নতুন করে টানা ভারী বর্ষণে ফের বন্যা আতঙ্কে আতঙ্কিত রয়েছে গ্রামগঞ্জের লোকজন। এদিকে অবিরাম বর্ষণজনিত জলাবদ্ধতা ও ভয়াবহ পাহাড়ী ঢলে কক্সবাজার সদরের বৃহত্তর ঈদগাঁও’র ৬ ইউনিয়নের চরম মানবিক বির্পযয়ের সৃষ্টি হয়। গতবারের স্মরনকালের ভয়াবহ বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে সম্প্রতি প্লাবিত হয় বৃহত্তর ঈদগাঁও, জালালাবাদ, ইসলামপুর, চৌফলদন্ডী, পোকখালী, ইসলামাবাদ ও ঈদগাঁওসহ ৬টি প্রশাসনিক ইউনিয়নের কমপক্ষে ৩ লক্ষাধিক জনগন পানিবন্ধী হয়ে পড়েছিল। কিন্তু চলমান ভারী বৃষ্টিপাতে পূর্বের বন্যার ন্যায় হতে পারে বলে অনেকের অভিমত। ঈদগাঁও নদীর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে প্লাবিত হয়েছিল এসব এলাকা। দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ বানিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজারের সহস্রাধিক দোকান-পাট পানিতে তলিয়ে গিয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হন ব্যাবসায়ীরা। তারা এ ক্ষয়ক্ষতি এখনো পুষিয়ে উঠতে পারছে না। তাদের চোখে মুখে ফের হতাশার কালোছায়া দেখা যাচ্ছে। কিন্তু চলমান বৃষ্টিপাতে ব্যবসায়ীরা ফের আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে বৃহত্তর ঈদগাঁও এলাকার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক পুকুর প্লাবিত হয়ে বিপুল পরিমান মাছ পানিতে ভেসে গিয়েছিল। আমন ধানের বীজতলা পানিতে ভেসে গিয়ে মাথায় হাত দেয়ার উপক্রম হয়েছিল কৃষকদের। রাস্তা-বেড়িবাধ-ব্রিজসহ অন্যান্য অবকাঠামো ও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল। এখনো পর্যন্ত সেসব রাস্তাঘাট ও ব্রীজ সংস্কার না হওয়ায ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছিল গ্রামগঞ্জের লোকজন। গেল বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে দূর্গত এলাকায় ক্ষতবিক্ষত চিহ্ন ভেসে উঠছে। ঈদগাঁও পুলিশ তদন্তকেন্দ্র, টেলিফোন একচেঞ্জ, ভূমি অফিস, ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ, ঈদগাহ হাইস্কুল, জালালাবাদ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ডুবেছিল বানের পানিতে। এভাবে বৃহত্তর ঈদগাঁওর প্রতিটি সেক্টর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল গত প্রলয়ঙ্করী বন্যায়। এতে চরম মানবিক বির্পযয়ের সৃষ্টি হয়েছে এসব এলাকায়। অথচ এ ঈদগাঁও বাজার থেকেই প্রতি বছর অর্ধকোটি টাকা রাজস্ব যোগ হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতিতে। বৃৃহত্তর ঈদগাঁওতে উৎপাদিত লবণ, চিংড়ি, কাকড়া, নাপ্পি, শুঁটকি, বনজ সম্পদ ও অন্যান্য উৎপাদনশীল খাত থেকেও আয় হচ্ছে মূল্যবান রাজস্ব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এতদ এলাকার প্রবাসীরা প্রতিনিয়ত মূল্যবান রেমিটেন্স পাঠিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে সমৃৃদ্ধ করে চলছেন। দূর্গত জনপদ, বিপন্ন মানবতা ও ডুবন্ত সহায় সম্পদ, এটাই বৃহত্তর ঈদগাঁওর সার্বিক চিত্র ছিল গেলবারের বন্যার সময়। বর্তমান সময়েও চলমান ভারী বষর্ণে গতবারের বন্যার আকার ধারণ করতে পারে এমন আতঙ্কে আতঙ্কিত বৃহত্তর এলাকার গ্রামগঞ্জের লোকজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com