1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

বন্যা ঈদগাঁওবাসির ভাগ্য ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০১৫
  • ১২৪ দেখা হয়েছে

imagesএম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও : পাহাড়ী ঢলের বন্যার পানি আর প্রবল বৃষ্টিপাতে ঈদগাঁওবাসির ভাগ্য ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। গ্রামাঞ্চলের অসহায় লোকজন ঘুরে দাঁড়াতে চাইলেও বন্যার কবলে পড়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না বিশাল এলাকাবাসি। বন্যা কবলিত গ্রামগঞ্জের অসহায় লোকজনের অভিযোগ, বন্যা হলেই কয়েকদিন ত্রান তৎপরতা থাকলেও বাকি সময়টা তাদের খোঁজ নেয়ার কেউ নেই। বন্যায় দূর্গতরা স্থায়ী সমাধান চান। এদিকে ভয়াবহ এ বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় এসব সাহায্য পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ঈদগাঁওকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করে ত্রাণ সহায়তা বাড়ানোর জন্য বর্তমান সরকারের নিকট দাবি জানিয়েছেন বন্যাদূর্গত এলাকার লোকজন। পোকখালী ইউপি চেয়ারম্যানের মতে, গেল কয়েকদিনের বন্যায় তার এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাধারণ লোকজনের পাশাপাশি রাস্তা-ঘাটেরও ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন। অপরদিকে ঈদগাঁও ২নং ওয়ার্ডের এমইউপি ছুরত আলমের মতে, বৃহত্তর মাইজপাড়ার ভরাখাল অর্ধখনন করে চলে যায় বিএডিসি কর্তৃপক্ষ। যার মাসুল গুনতে হচ্ছে বর্ষা মৌসুমে এলাকাবাসীকে। বর্ষার পানি সুষ্ঠুভাবে যাতায়াত করতে না পারায় বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে দুর্ভোগ আর দুর্গতিতে পড়েছে এলাকাবাসী। এদিকে অবিরাম বর্ষণজনিত জলাবদ্ধতা ও ভয়াবহ পাহাড়ী ঢলে কক্সবাজার সদরের বৃহত্তর ঈদগাঁও’র ৬ ইউনিয়নের চরম মানবিক বির্পযয়ের সৃষ্টি হলেও এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণ পৌছেনি কোন ত্রান সহায়তা। গত কয়েকদিন পূর্বে স্মরনকালের ভয়াবহ বৃষ্টি ও পাহাড়ী ঢলে সম্প্রতি প্লাবিত হয় বৃহত্তর ঈদগাঁও, জালালাবাদ, ইসলামপুর, চৌফলদন্ডী, পোকখালী, ইসলামাবাদ ও ঈদগাঁওসহ ৬টি প্রশাসনিক ইউনিয়নের কমপক্ষে ৩ লক্ষাধিক জনগন পানিবন্ধী হয়ে পড়ে। ঈদগাঁও নদীর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে প্লাবিত হয় এসব এলাকা। দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ বানিজ্যিক কেন্দ্র ঈদগাঁও বাজারের সহস্রাধিক দোকান-পাট পানিতে তলিয়ে গিয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হন ব্যাবসায়ীরা। তারা এ ক্ষয়ক্ষতি এখনো পুষে উঠতে পারছে না। তাদের চোখে মুখে ফের হতাশার কালোছায়া দেখা যাচ্ছে। বৃহত্তর এলাকার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক পুকুর প্লাবিত হয়ে বিপুল পরিমান মাছ পানিতে ভেসে গেছে। আমন ধানের বীজতলা পানিতে ভেসে গিয়ে মাথায় হাত দেয়ার উপক্রম হয়েছে কৃষকদের। রাস্তা-বেড়িবাধ-ব্রিজসহ অন্যান্য অবকাঠামো ও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে দূর্গত এলাকায় ক্ষতবিক্ষত চিহ্ন ভেসে উঠছে। দেশের বৃহত্তম লবণ শিল্প এলাকা সদরের ইসলামপুরে কারখানায় বন্ধ হয়ে যায় উৎপাদন। ফলে মানবেতর জীবন যাপন করছে শত শত শ্রমিক পরিবার। ঈদগাঁও পুলিশ তদন্তকেন্দ্র, টেলিফোন একচেঞ্জ, ভূমি অফিস, ঈদগাঁও ইউনিয়ন পরিষদ, জালালাবাদ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন স্থাপনা ডুবেছে বানের পানিতে। এভাবে বৃহত্তর ঈদগাঁওর প্রতিটি সেক্টর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রলয়ঙ্করী বন্যায়। এতে চরম মানবিক বির্পযয়ের সৃষ্টি হয়েছে এসব এলাকায়। কিন্তু অদ্যবদি উল্লেখযোগ্য কোন ত্রাণ সহয়াতা অথবা পুুনর্বাসন পায়নি বৃৃহত্তর ঈদগাঁও এলাকার পানি বন্দী অসহায় লোকজন। অথচ শুধুমাত্র ঈদগাঁও বাজার থেকেই প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা রাজস্ব যোগ হচ্ছে জাতীয় অর্থনীতিতে। বৃৃহত্তর ঈদগাঁওতে উৎপাদিত লবণ, চিংড়ি, কাকড়া, নাপ্পি, শুঁটকি, বনজ সম্পদ ও অন্যান্য উৎপাদনশীল খাত থেকেও আয় হচ্ছে মূল্যবান রাজস্ব । বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এতদ এলাকার প্রবাসীরা প্রতিনিয়ত মূল্যবান রেমিটেন্স পাঠিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে সমৃৃদ্ধ করে চলছেন। নির্বাচনকালীন সময়ে মনভূলানো মধূর বুুলি আউড়িয়ে মুখে উন্নয়নের কথা তুলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। উন্নয়নের জোয়ারে বৃহত্তর ঈদগাঁওকে ভাসিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া ভোটশিকারী নেতাদের চোখের সামনেই বানের পানিতে ভেসে গেছে এসব এলাকা। দূর্গত জনপদ, বিপন্ন মানবতা ও ডুবন্ত সহায় সম্পদ, এটাই এখন বৃৃহত্তর ঈদগাঁওর সার্বিক চিত্র। মানবতার দৃষ্টি দিয়ে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে পানি বন্দী এলাকার লোকজনের খোঁজ খবর নেওয়ার জোর দাবী জানান বিশাল এলাকার সচেতন মহল।

এই বিভাগের আরও খবর
  • ২০১৪ - ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ‌্য মন্ত্রণালয়ে আবেদিত ।
Site Customized By NewsTech.Com