1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

বাংলাদেশি পাসপোর্টে ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বিদেশে

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০১৫
  • ৪৯ দেখা হয়েছে

কক্সবাজার আলো ডেস্ক :
বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে মায়ানমারের আনুমানিক ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বিদেশে কাজ করছে বলে তথ্য দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট ইস্যু না করার বিষয়ে নীতিগত কঠোর অবস্থানের ঘোষণাও দিয়েছেন মন্ত্রী। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এ তথ্য দেন। মন্ত্রী বলেন, ‘কমপক্ষে ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে ওখানে (বিদেশে) আছে, কাজ করছে। জায়গাটা আমাদের, তারা দখল করে নিয়েছে। তাদের যদি পাসপোর্ট দেয়া না হত, তাহলে ওই জায়গায় আমরা থাকতাম। ’
‌তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দিচ্ছে কারা ? আমরাই তো…? ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যানরা তাদের সনদ দিচ্ছেন। দুই-চার, পাঁচ-দশ হাজার টাকার জন্য তাদের সার্টিফিকেট দিয়ে দেয়া হচ্ছে। তাদের যদি আমরা পাসপোর্ট না দিই তাহলে কি তারা আমাদের জায়গাটা দখল করতে পারত? আর বিদেশে গিয়ে তারা যেসব অপকর্ম করে সেগুলোর দায়ও তো আমাদের ঘাড়ে পড়ত না। ’
‘আর রোহিঙ্গারা, তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে ঝগড়া করা, যেখানে-সেখানে গিয়ে তারা ঝগড়া করবে। এরা এত উগ্র….। ’ বলেন মন্ত্রী। সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার নিয়েও কথা বলেন গত মাসে দায়িত্ব পাওয়া এই মন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নেয়ার পর মালয়েশিয়ার দু’টি ডেলিগেট টিম আমার সঙ্গে দেখা করেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে, আমি একটা হিসাব করেছি-সব মিলিয়ে ৬০ হাজার টাকা হলে একজন মালয়েশিয়ায় যেতে পারেন। তাহলে নৌকায় করে গিয়ে কেন প্রাণ দিতে হবে ?
‘আমরা মানুষ পাচার চাইনা। মানুষকে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চাই। তাদের যোগ্য সম্মান দিতে চাই। ’ বলেন মন্ত্রী।
বিদেশে পাঠাতে প্রশিক্ষিত, দক্ষ কর্মী গড়ে তোলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, অদক্ষ শ্রমিক বিদেশে গিয়ে লাভ কি ? তারা যে বেতন পাবে সেটাতে তো কোন লাভ হয়না। আমরা দক্ষ শ্রমিক গড়ে তোলার উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। নারী শ্রমিকদের কথা যদি বলি, তাদেরও প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাদের খাদ্যাভাস, কাথাবার্তা-এসব বিষয়েও প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এক থেকে দেড় সপ্তাহের প্রশিক্ষণ নিলেও হয়। সনদ থাকলে বিদেশে মূল্য আছে।
‘সৌদিআরব বলে আমাকে ২০ হাজার কর্মী দাও। আমি দিতে পারছি মাত্র তিন হাজার। কারণ, এর চেয়ে বেশি আমার কাছে দক্ষ কর্মী নেই। মহিলাদের যদি প্রশিক্ষণ দিতে পারি, বিভিন্ন দেশে আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার দক্ষ কর্মী পাঠাতে পারব। ’ বলেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, অস্ট্রেলিয়ায় নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টির লক্ষ্যেও তিনি কাজ করছেন। ‘অস্ট্রেলিয়ায় লোক পাঠানোর চেষ্টা করছি। তাদের লোক দরকার। ঘাস কাটা, বেকারি শ্রমিক, ডাক্তার-নার্স তাদের দরকার। কিন্তু দক্ষ হতে হবে। ’ বলেন মন্ত্রী। প্রশিক্ষণ দিতে সেন্টারের সংখ্যা ৪১টি থেকে বাড়িয়ে ৭১-এ করতে চান মন্ত্রী। ট্রেনিং সেন্টারগুলোকে উপজেলা পর্যায়েও নিয়ে যেতে চান তিনি। বিএসসি বলেন, আমি বলেছি-বিনা নোটিশে আমি ট্রেনিং সেন্টারগুলোতে ঢুকে পড়ব। ঢাকায় এটা আমি করেছি। চট্টগ্রামেও করব। সঠিক প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ কর্মী গড়ে তুলতে হবে।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে শিডিউল ব্যাংক করার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি। তিনি বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক, এটা যে অবস্থায় আছে, এভাবে না। আমি চাচ্ছি এটাকে একটা শিডিউল ব্যাংক করতে। প্রবাসীরা টাকা পাঠালে যাতে বিনা খরচে সেটা উঠানো যায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
এছাড়া বিদেশ গমনেচ্ছুদের ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ, স্মার্ট কার্ড ইস্যু এবং ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা যাতে চট্টগ্রামেও থাকে সেই পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেন মন্ত্রী।
বিদেশে মারা যাওয়া বাংলাদেশিদের সরকারি অনুদান পেতে যাতে কোন ধরনের বিড়ম্বনা না হয়, সেই পদক্ষেপ নেয়ার কথাও বলেছেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিদেশে গিয়ে গরমের মধ্যে পড়ে হিটস্ট্রোকে কিংবা সড়ক দুর্ঘটনায় অনেকে মারা যান। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে দু’দিন অন্তর একটি-দু’টি করে লাশ আসে। ঢাকায় তো প্রত্যেকদিন আসে। বিমানবন্দরেই ২৫ হাজার টাকা করে দিয়ে দেয়া হয়।
‘তিন লক্ষ টাকা করে দেয়ার কথা। বাকি টাকা পেতে কিছুটা দেরি হয়। আমি নির্দেশ দিয়েছি, দুই মাসের মধ্যে যত পেন্ডিং আছে সব দ্রুত দিয়ে দিতে হবে। আগামীতে আর টাকা পেন্ডিং রাখা যাবেনা। ’ বলেন মন্ত্রী।
মতবিনিময় সভায় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ইসহাক মিঞা, সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল আলম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান এবং সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।

এছাড়া বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক্স ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com