উপ-সম্পাদকীয়ফেইসবুক থেকে

বাঙালি সংস্কৃতি ও বাংলাদেশ

36views

নাজমুল হক :
ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি একটি জাতির পরিচয় বহন করে। আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলি। বাংলা ভাষায় লেখা লিখি। বাংলা ভাষায় পড়ি। আমাদের দেশের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি আছে। আমাদের পোশাক, ক্রিস্টি কালচার ও সংস্কৃতি বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ কে উচ্চ আসন দিয়েছে। মোঘল সম্রাট জালাল উদ্দীন মোহাম্মদ আকবর ১৫৫৬ সালে বাংলা সালের প্রবর্তন  করেন। বাংলাদেশের কৃষকদের চাষাবাদ এবং খাদ্য উৎপাদন ও কর প্রদানের সুবিধাথে বাংলা সাল চালু করেন।
১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রীরা মোংগল শোভাযাত্রা চালু করে। জেনারেল এরশাদের শাসনকে ব্যাংগ করে বিভিন্ন মুখোশ তৈরি করে শোভাযাত্রা বের করে। এখন সরকারের বিরুদ্ধে কোনো মুখোশ পড়তে হয় না।

যদি বাংলা সালকে সন্মান জানাতে এবং বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের দেশের ফল, ফুল, পশু, পাখি ও গাছপালা, মাছ ইত্যাদির প্রচার করতে হয় তাহলে মুখোশ তৈরি করে শোভাযাত্রা বের করা কোন দোষের নহে। এদেশের ৮৫% মানুষ মুসলমান। সম্রাট আকবর মুসলমান। অধিকাংশ মানুষের ধমীয় বিধান সেদেশের শিক্ষা ও সংস্কৃতির অংশ। বাংলাদেশে ৪টি ধমের উৎসব জাকজমক ভাবে পালিত হয়। সে হিসেবে শোভাযাত্রায় প্রতিটি ধমের অনুসরণ করে শোভাযাত্রার মুখোশ তৈরি করা যেতে পারে।

যে সকল মোখোশ তৈরী করা যায়।
১) আম, জাম, কাঠাল, লিচু, বেল, তাল, কলা, পেপে, পেয়ারা, নারিকেল, সুপারি ইত্যাদি।
২) ইলিশ, বোয়াল, চিংড়ি, পুটিমাছ মাগুর ইত্যাদি।
৩) গোলাপ, শাপলা, রজনী গান্দা ইত্যাদি
৪) টিয়া, কবুতর, শালিক, দোয়েল ইত্যাদি
৫) বাঘ, শিয়াল, হরিন, গরু ছাগল ইত্যাদি।
৬) ভাষা শহীদ, বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, শহীদ মিনার, স্মৃতিসোদ ইত্যাদি।
৭) জাতির গুনীজনরা, জাতির পিতা, কবি নজরুল, ড. ইউনুস ইত্যাদি।
৮) বিভিন্ন জাতির পোশাক ও সংস্কতি।

বৈশাখ এর ইতিহাস :
———————-
১) প্রশ্ন- কবে থেকে বাঙালীর হাজার বছরের ঐতিহ্য মঙ্গলশোভাযাত্রা শুরু হয়?
উত্তর- ২৭ বছর আগ থেকে, ১৯৮৯ সালে।

২) প্রশ্ন- কোন মহান নেতা পহেলা বৈশাখকে উপলক্ষে সরকারী ছুটি দেয় এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা করে ?
উত্তর- স্বৈরাচারী এরশাদ।

৩) প্র্শ্ন- কত হাজার বছর আগ থেকে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পান্তা-ইলিশ খাওয়া শুরু হয় ?
উত্তর-৩২ বছর আগ থেকে, ১৯৮৪ সালে।

৪) প্রশ্ন- কোন মহান বাঙালী বাংলা সন চালু করেন ?
উত্তর- কোন বাঙালী নয়, বাদশাহ আকবর। সে মঙ্গলীয় বংশোদ্ভূত, ফার্সী ভাষী।

৫) প্রশ্ন- কত হাজার বছর আগ থেকে রমনায় পহেলা বৈশাখ পালন শুরু হয় ?
উত্তর- ৪৯ বছর আগ থেকে, ১৯৬৭ সালে।

৬) প্রশ্ন- পহেলা বৈশাখ একটি সার্বজনিন বাঙালী উৎসব। ঐ দিন কি কি সার্বজনিন অনুষ্ঠান আছে?

উত্তর- হিন্দুদের ঘটপূজা, গণেশ পূজা, সিদ্ধেশ্বরী পূজা, হিন্দুদের ঘোড়ামেলা, হিন্দুদের চৈত্রসংক্রান্তি পূজা-অর্চনা, হিন্দুদের চড়ক বা নীল পূজা বা শিবের উপাসনা ও সংশ্লিষ্ট মেলা, গম্ভীরা পূজা, কুমীরের পূজা, অগ্নিনৃত্য।

ত্রিপুরাদের বৈশুখ মারমাদের সাংগ্রাই ও পানি উৎসব, চাকমাদের বিজু উৎসব (ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমাদের পূজা উৎসবগুলোর সম্মিলিত নাম বৈসাবি), হিন্দু ও বৌদ্ধদের উল্কিপূজা, মজুসি তথা অগ্নি পূজকদের নওরোজ, হিন্দুদের বউমেলা,মঙ্গলযাত্রা এবং সূর্যপূজা।

৭) বাংলা সাল কে প্রবতন করেন?
উঃ মুঘল সম্রাট জালাল উদ্দীন মোহাম্মদ আকবর ১৫৫৬ সালে বাংলা,সাল প্রবতন করেন।
এখন ১৫৫৬ সাল থেকে ২০১৯ সাল বাদ দিলে বাংলা সাল চালু থেকে ৪৬৪ বছর। এখন প্রশ্ন হলো কিভাবে বাংলা ১৪২৬ বাংলার নতুন বছর হিসেবে উদযাপন করে?
বিশেষজ্ঞরা তথ্য দিয়ে বাংগালী জাতিকে ইতিহাস জানাবেন। ইতিহাসবিদ ইতিহাস বিভাগের প্রফেসরদের মতামত চাই।

Leave a Response