1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

বাধার মুখে উচ্ছেদ করতে পারেনি প্রশাসন

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২০
  • ১১৫ দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
কক্সবাজারের কলাতলী সুগন্ধা পয়েন্টের সেই ৫২ স্থাপনা উচ্ছেদে নেমেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এস্কেভেটর সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়েও প্রথমদিনে উচ্ছেদ করতে পারেনি। ব্যবসায়ীদের বাঁধার মুখে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পর্যন্ত তাদেরকে দোকানের মালামাল সরানোর সময় দেওয়া হয়েছে।
মালামাল সরানো হলে উচ্ছেদ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব আবু জাফর। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২ টায় প্রশাসনের লোকজন সেখানে উচ্ছেদ অভিযানে যান। কিন্তু নির্দেশ দেয়ার পরও মালামাল সরায়নি অধিকাংশ দোকানদার।
নানাভাবে আকুতি জানান অবৈধ দখলদারারা। শেষ মুহূর্তে বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে মালামাল সরানোর শর্ত দিয়ে কোনো দোকান উচ্ছেদ করা হয়নি। মালামাল সরানোর পর শুক্রবার সকাল ১০টায় উচ্ছেদ করা হবে এসব দোকান।
কক্সবাজার সদর সহকারি কমিশনার (ভূমি) শাহরিয়ার মোক্তার জানান, উচ্ছেদ কার্যক্রমে চরমভাবে বাঁধা দিতে চেষ্টা করে অবৈধ দখলকাররা।
ভাড়া করা লোকজন নিয়ে এসে অবৈধ দখলদার ও দোকান মালিকরা সেখানে অবস্থান এবং প্রশাসনের উচ্ছেদ দলের মুখোমুখি হয়ে বাকবিতন্ডায় জড়ায়। অন্যদিকে মালামালও সরায়নি। তাই রাতের মধ্যে মালামাল সরিয়ে ফেলতে দোকান মালিক সমিতি মুচলেকা নিয়ে অভিযান স্থগিত রাখা হয়। তবে নির্দেশ মতে শুক্রবার সকাল ১০ টায় অভিযান আবার শুরু হবে।
তিনি আরো জানান, দুপুর ১২ টার দিকে সুগন্ধা পয়েন্টে অবৈধ দোকান উচ্ছেদের সিন্ধান্ত নেওয়া হয়। উচ্ছেদের আগে দোকানদারদের ঘন্টাখানেক সময় দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা নিজেদের মূল্যবান মালামাল সরিয়ে নিতে পারে। এ বিষয়ে সকাল থেকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংও করা হয়। তবে এখন সময় নিয়ে তালবাহনা করে বিভিন্ন নেতাদের কাছে ধর্না দিচ্ছে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করার জন্য।
সূত্র মতে, গত ১ অক্টোবর সমুদ্র সৈকতের কলাতলীর সুগন্ধা পয়েন্টে ৫২ জনের স্থাপনা উচ্ছেদে উচ্চ আদালতের দেওয়া রুল ও স্থগিতাদেশ খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ভূমি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন।
ফলে ওই ৫২ ব্যক্তির স্থাপনা উচ্ছেদে কোনো বাঁধা না থাকায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে সুগন্ধা পয়েন্টের এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়।
জানা যায়, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী সুগন্ধা পয়েন্টে বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্সধারী ব্যক্তিরা পরিচালনা করে আসায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল উচ্ছেদের নোটিশ দেয়। পরে হাজী জসিম উদ্দিনসহ ৫২ জন একটি রিট আবেদন দায়ের করেন। একই বছরের ১৬ এপ্রিল উচ্চ আদালত রুল জারি করে স্থগিতাদেশ দেন।
এর বিরুদ্ধে ভূমি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ শুনানি শেষে উচ্চ আদালতের রুল ও স্থগিতাদেশ খারিজ করে রায় দেন।
কক্সবাজারের ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘সকাল থেকে জেলা প্রশাসন কোনো স্থাপনা ভাঙতে পারেনি। বাধার মুখে তাদের উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ আছে।’ এটা কখনো কাম্য নই। তারা সর্বোচ্ছ আদালতকে অবমাননা করেছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ উচ্চ আদালতের রায় বাস্তবায়ন করতে উচ্ছেদ অভিযানে গেলে কক্সবাজার জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুকুল ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আবদুর রহমান এবং হাজী জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে ভাড়াটে লোকজন উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দেয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com