বালুকাময় সাগর তীরে আমাদের মিলনমেলা!

তারেকুর রহমান
প্রতি বছর কোনো না কোনো সময় জেলার বহুল প্রচারিত পাঠকপ্রিয় দৈনিক হিমছড়ি পরিবারের আমরা সবাই জড়ো হই আত্মার টানে দর্শনীয় কিংবা ঐতিহাসিক যেকোন স্থানে। এরই ধারাবাহিকতায় এই বছরও বার্ষিক পিকনিকের মাধ্যমে মিলনমেলায় মেতে উঠতে  ৯ মার্চ ২০১৯ইং  আমাদের অফিসের অদূরে কলাতলীস্থ ‘স্যান্ডি বীচ রেস্টুরেন্ট’ পিকনিক স্পট হিসেবে নির্ধারিত হলো।
ওখানেই হবে আমাদের মিলনমেলা।
দুর্ভাগ্যবশতঃ আমার মা তখন অসুস্থ। তারপরও প্রিয় কলম সারথীদের সাথে সঙ্গ দেয়ার প্রয়াসে মা একটু সুস্থ হলে মায়ের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে  সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে পিকনিক স্পটের দিকে রওয়ানা হলাম, ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক সাড়ে বারোটা ।
এইতো সেদিন কলাতলীর বাইরে সমুদ্র সৈকত আর পাহাড়ের গা-ঘেঁষে ঝর্ণা  ও সাগরের চোখ জুড়ানো দৃশ্যে নিজের মন ভুলিয়ে প্রকৃতির অপরূপ আলিঙ্গন পেতে এবং সাগরের পানির গর্জন আর পাহাড়ের পাখির সুরেলা সুর উপভোগ করতে দরিয়া নগরে মিলনমেলা শেষ করেছিলাম।
ওই মিলনমেলার রেশ না কাটতেই আরও যে একটি বছর চলে এলো আমাদের মিলিত করতে। তাহলে কি আর বসে থাকতে পারি!
যেহেতু পত্রিকার পাশাপাশি কক্সবাজার আলো অনলাইনে কাজ করি তাই ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করতে হয়, আজকে আর সেই তাড়া নেই। যত খুশি আনন্দ করবো, হইচই করবো, কেউ কিছু বলবে না! নিউজ দেয়ার তাড়া নেই, আপলোডেরও তাড়া নেই। দৈনিক হিমছড়ির সকল রিপোর্টার, চীফ রিপোর্টার, বার্তা সম্পাদক ও সম্পাদকসহ সবার কাজ আজ একটাই- আনন্দ করা। পেশাগত শৃঙ্খল খুলে একদিনের জন্য বাঁধনহারা হয়ে যাওয়া। সেই চিন্তা মাথায় নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে এগুতে লাগলাম কলাতলীর দিকে।
সৈকতের চিক্ চিক্ বালিতে পা রেখে স্যান্ডি বীচের দিকে মুখ ফেরাতেই জিয়াবুল ভাইয়ের কণ্ঠে “রসের হতা হই হই আঁরে হদিন বারাইবা’’ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আঞ্চলিক গানের সুর। ছৈয়দ ভাইয়ের দম ফাটানো হাসির রসাত্মক কথা আর গল্প! যেন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় মুখরিত পুরো প্রাঙ্গন।
আগে থেকে বলা ছিল যে, বউ বাচ্চা নিয়ে আসতে হবে পিকনিকে কারণ নিজে আনন্দ হুল্লোড় করবে বউ বাচ্চা সেই আনন্দ থেকে বাদ যাবে তা মোটেও হয় না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন ‘কিশোর ভাইয়া’ খ্যাত দৈনিক হিমছড়ির সম্পাদক হাসানুর রশীদ ভাইয়া। এক্ষেত্রে আমি একদম অসহায়!  নেই বউ-বাচ্চা, নেই স্পেশাল কেউ। মাও অসুস্থ।
হলো গিয়ে এক কা-!
হুমায়ূন সিকদার ভাই  বউ  বাচ্চা নিয়ে যাননি বলে মধুর বিড়ম্বনায় পড়তে হয় প্রতিটি পরতে পরতে। ছৈয়দ ভাই তো ছাড়ে না হুমায়ূন ভাইকে! গান, মজা মাস্তিতে চলছিল পিকনিক এরই মাঝে র‌্যাফেল ড্র বিক্রি নিয়ে ব্যস্ত আমাদের এইচএন আলম হুজুর। নগদ টাকা দিয়ে জোরপূর্বক কুপন কাটাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি,  সাথে ম্যানেজার এহতেশামুল হক।
খানিক বাদে এ মজার মুহুর্তটিকে আরো আনন্দঘন করতে আমাদের সাথে যোগ দিলেন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিগণ (জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নয়) দৈনিক হিমছড়ির প্রকাশক ডা. সরওয়ার হাসান, প্রধান সম্পাদক আলহাজ¦ আলী হাচ্ছান চৌধুরী, দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকার পরিচালনা সম্পাদক মোহাম্মদ মুজিবুল ইসলাম, দৈনিক ইনকিলাব জেলা ব্যুরো চীফ দৈনিক হিমছড়ির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক শামসুল হক শারেক, বিএফইউজে সহকারী মহাসচিব জিএএম আশেক উল্লাহ, কক্সবাজার প্রেসক্লাব সহসভাপতি মমতাজ উদ্দিন বাহারী, এনটিভি জেলা প্রতিনিধি ইকরাম চৌধুরী টিপু, দৈনিক সকালের কক্সবাজার সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল, দৈনিক সাগর দেশ সম্পাদক মোস্তফা সরওয়ার, দৈনিক দিনকাল’র জেলা স্টাফ রিপোর্টার নুরুল ইসলাম হেলালী, দৈনিক ভোরের ডাক’র প্রতিনিধি মোহাম্মদ হাসিম, বিশিষ্ট আইনজীবী রমিজ আহমদ, বিশিষ্ট সমাজসেবক মহিউদ্দিন চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল মোনায়েম খান, দৈনিক সৈকতের নির্বাহী সম্পাদক আনছার হোসেন, সিটিএন সম্পাদক সরওয়ার সাঈদ, আলোকিত বাংলাদেশ জেলা প্রতিনিধি এএইচ সেলিম উল্লাহ, বণিক বার্তা জেলা প্রতিনিধি ইব্রাহীম খলিল মামুন, লায়ন জিয়াবুল করিম, মাওলানা নূরুল হুদা, নয়াদিগন্ত সংবাদদাতা গোলাম আজম খাঁন, সুপ্রভাত বাংলাদেশের প্রতিনিধি দীপন বিশ্বাসসহ দৈনিক হিমছড়ি প্রতিনিধিবৃন্দ।
তাদের দেখে কতই যে ভালো লাগলো তা এই লেখাতে প্রকাশ করা যাচ্ছে না। পুরো পিকনিক তখন স্বার্থকতা খোঁজে পেল! আনন্দ ভাগাভাগিতে মেতে উঠলো সবাই।
মহেশখালী থেকে অনেক আগে পৌছে মোহাম্মদ তারেক, সোনার পাড়া আবদুল জব্বার বউ বাচ্চা নিয়ে হাজির। সাথে তরমুজ। তারও আগেই স্বপরিবারে পৌছান চকরিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি চকরিয়ার রিপোর্টার আবদুল মজিদ।
পেকুয়া প্রেসক্লাব সভাপতি সদ্য কারামুক্ত সাফওয়ান করিম ভাইও হাজির ভাবী ও বাচ্চাদের নিয়ে। সাফওয়ান ভাই, কেফায়েত ও আয়াজের ক্লিকবাজি ছিল বেশ মজার। এক্ষেত্রে হেলালী ভাই ভাবীর অসুস্থতার কারণে শুধু একাই চলে আসলেন। এজন্য ওনার আফসোসের শেষ নেই! বাবুল মিয়া মাহমুদও এসেছে একা!
আমাদের প্রধান সম্পাদকের সাথে এই প্রথম আমার মিলনমেলা। আমেরিকা থেকে এসেই হয়তো তাঁর এটাই প্রথম মিলনমেলা।
শিশু বান্ধব বলে আমার সাথে খেলা করতে ছাড়ে না আমার সম্পাদকপুত্র গালিব আর ছৈয়দ কন্যা জেরিন। ছবি তোলা, কানামাছি ও বীচ বাইকে চড়ে চড়ে তাদের সাথে পার করলাম আরো একটি মজার মুহুর্ত।
খাবার এর  বিষয়টি তদারকি করার দায়িত্ব ছিল সহকর্মী ইসলাম মাহমুদ ভাইয়ের। তার সুফলও হাতেনাতে মিললো। পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর পেলাম গরম গরম গরুর মাংস, দেশী মুরগের মাংস আর চিংড়ি ভুনাসহ হরেক রকমের আইটেম।
ও হ্যাঁ, লোভনীয় দইয়ের কথা বলতে তো ভুলেই গেছি। গুড় চিনির প্রলেপ দিয়ে দইয়ের লোভনীয় বাটি কার মন কাড়বে না আপনিই বলুন! ছৈয়দ ভাইয়ের কেরামতিতে ছটফট প্রস্তুত হয়ে গেল বিখ্যাত দই।
খাওয়ার পর পরই ডাক পড়লো, ‘লাকি পারসন কুপন নাম্বার থার্টি টু’। বুক তখন কাঁপতে লাগলো প্যান্টের পকেট থেকে আস্তে আস্তে বের করলাম আমার কুপন, কুপন বের করে দেখি আমারটা থার্টি ওয়ান।
বঞ্চিত হলাম র‌্যাফেল ড্রয়ের পুরস্কার থেকে, তবে বঞ্চিত হয়নি উপস্থিত সকল মেহমানদের আদর ভালোবাসা থেকে। বঞ্চিত হয়নি সকলের সাথে ছবি তোলা আনন্দ আর সূর্যাস্ত দেখা থেকে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো মিলনমেলা সমাপ্তির পালা, কিঞ্চিৎ খারাপ লাগলো, ইশ সময়টা যদি আরো একটু লম্বা হতো, আরো কিছুক্ষণ সবার সাথে আড্ডা, আনন্দ-খুশি করতে পারতাম। কিন্তু সাগরে ¯্রােতের সাথে যে সময় চলে যাচ্ছে তা তো আর থামানো যায় না।
এক ঝাঁক কলম সৈনিকদের মিলনমেলা সম্পন্ন করতে পেরেছি। আগের বছরের চেয়ে ভিন্ন আর ভিন্নতায়। এজন্য  আল্লাহ পাকের কাছে শোকরিয়া জ্ঞাপনের পাশাপাশি পত্রিকায় কর্মরত সকল কলম সৈনিকদের সান্নিধ্য পেয়ে নিজেকে গর্বিত মনে হচ্ছে।
তবে এই মিলনমেলায় সবচেয়ে বেশি স্মরণ করলাম দৈনিক হিমছড়ির নিজস্ব প্রতিবেদক টেকনাফ এর  সকলের প্রিয় হুমায়ূন রশিদ (হুমায়ূন মাঝি) এবং উখিয়ার নিজস্ব প্রতিবেদক পলাশ ভাইকে। পলাশ ভাই চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে আছেন কিন্তু হুমায়ূন মাঝি কি কারণে উপস্থিত থাকতে পারেন নি তা জানিনা। শুনেছি নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ততা ছিল। রামুর প্রতিবেদক ওবাইদুল হক নোমান অবশেষে মোটর সাইকেল নিয়ে যোগদান করেন।  তবে আশা রাখবো পরবর্তী সকল অনুষ্ঠানে তাদের যেন পাই আমাদের মাঝে।
আনন্দঘন এইদিনের অভিজ্ঞতা থেকে পাঠকদের সাথে একটি কথা শেয়ার করবো তাহলো- একটি দৈনিক পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশনা করা কঠিন, কষ্টসাধ্য এবং ব্যয় বহুল।
আমাদের পত্রিকাটি অবহেলিত, বঞ্চিত মানুষের সুখ-দুঃখ প্রতিফলনে এবং আর্থ সামাজিক উন্নয়নে মুখপত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এবং ভবিষ্যতেও রাখবে বলে আশা করি।
সত্যের সন্ধানে নির্ভীক প্রিয় দৈনিক হিমছড়ি, সবসময়ই পাঠকের আস্থা অর্জন করে এসেছে। এই অবস্থান অটুট থাকুক আজীবন।
লেখক: 
তারেকুর রহমান 
স্টাফ রিপোর্টার–  দৈনিক হিমছড়ি
চীফ রিপোর্টার–   কক্সবাজার আলো
উপদেষ্টা সম্পাদক : হাসানুর রশীদ
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ শাহজাহান

নির্বাহী সম্পাদক : ছৈয়দ আলম

যোগাযোগ : ইয়াছির ভিলা, ২য় তলা শহিদ সরণী, কক্সবাজার। মোবাইল নং : ০১৮১৯-০৩৬৪৬০

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Email:coxsbazaralo@gmail.com