1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

বিশ্রামে ধর্মভিত্তিক দলগুলো

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০১৫
  • ১৫ দেখা হয়েছে

দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে ঝিমিয়ে পড়েছে ধর্মভিত্তিক ইসলামী দলগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রম। ফলে পার্টির কর্মহীন প্রধানরাও বাসায় বিশ্রামে আছেন। এদিকে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও কোন্দলে জর্জরিত হওয়ায় দলীয় কর্মকাণ্ডে এ স্থবিরতার আরেকটি মূল কারণ বলে জানা গেছে। দলগুলোর বেশিরভাগই নেতাই এমন তথ্য মানবকণ্ঠকে জানিয়েছেন।

দলগুলোর সূত্র জানায়, ইসলামী দলগুলো সরকার ও সরকারবিরোধী বৃহত্তর রাজনৈতিক জোটের লেজুড়বৃত্তিতে ব্যস্ত। কেউ কেউ প্রকাশ্যে বড় দুই জোটের সমর্থন না করলেও গোপনে দুই কূল রক্ষা করে চলছেন। কোনো কোনো দলের শীর্ষ নেতা আবার একাধিক দল ও সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত। অবশ্য তাদের দাবি, ইসলামী দলগুলো আগের মতোই আছে। সরকারের বাধা-বিপত্তির কারণে তারা রাজপথে কর্মকাণ্ড চালাতে পারছে না। ফলে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর নেতারা আপাতত বাসায় বিশ্রাম নিচ্ছেন। সক্রিয় হচ্ছেন না সাংগঠনিক কার্যক্রমে। নেতাকর্মীরাও একবারেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন।

এদিকে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা না করতে পারলেও লতিফ সিদ্দিকীর এমপি পদ বাতিলের জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ স্পিকার ও ইসিতে চিঠি দেয়ার পর স্বস্তিবোধ করছেন ধর্মভিত্তিক দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। তারা বলেন, আমাদের আন্দোলন সফলের দিকে যাচ্ছে, সরকার বাস্তবায়ন করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করছে, সেজন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তারা। অপরদিকে কলামিস্ট ও সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর শাস্তি ও নাগরিকত্ব বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন এসব দলের নেতারা। তারা বলেন, গাফ্ফারেও কোনো ছাড় নেই, তার উপযুক্ত শাস্তি না দিলেও সরকারকে বড় ধরনের মাশুল গুনতে হবে।

ক্ষমতাসীন সরকার ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের রাজনীতিতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত অধিকাংশ ইসলামী দল। অনেক ইসলামী দলের সাংগঠনিক কোনো ভিত নেই। অভ্যন্তরীণ কোন্দলে অনেক দলের অবস্থা লেজেগোবরে। মাঝেমধ্যে আলোচিত হলেও হঠাৎ যেন খেই হারিয়ে নিশ্চুপ হয়ে যান নেতারা। ছোটখাটো ইস্যুকে পুঁজি করে ঝটিকা মিছিল-মিটিংয়ের মাধ্যমেই কেবল নিজেদের অস্তিত্বের জানান দেয়। বিবৃতিকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে অনেক দলের কার্যক্রম। এ সুযোগে ইসলামী দলগুলোর সমর্থন আদায় ও নিয়ন্ত্রণে বড় দুটি জোটও রীতিমতো প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয়ও করার চেষ্টা হচ্ছে।

দেশে আলোচিত ইসলামী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কর্মকাণ্ডও বর্তমানে প্রশ্নবিদ্ধ। কিছু ইসলামী দলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা কওমি মাদরাসাভিত্তিক অরাজনৈতিক দাবিদার এ সংগঠনটি ১৩ দফা দাবিতে ঢাকা অবরোধ ও মহাসমাবেশের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরের ঘটনার পর থেকে এ সংগঠনের কার্যক্রম পুরোটাই ঝিমিয়ে পড়েছে। বর্তমানে সরকারের সঙ্গে কথিত আপস ও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনামতেই সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা চলছেন বলে জানা গেছে। এদিকে, ঢাকা মহানগরী হেফাজতের মধ্যে দেখা দিয়েছে কয়েকটি বিভক্তি।

দেশের বৃহত্তম ইসলামী দল জামায়াতে ইসলামীর অবস্থাও সংকটাপন্ন। শীর্ষ নেতারা মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত। নির্বাচন কমিশনের দেয়া নিবন্ধন বাতিল করেছেন হাইকোর্ট। তবে এখনো আপিলাধীন রয়েছে। দলটিও নিষিদ্ধের মুখোমুখি অবস্থানে। প্রকাশ্যে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। বেশিরভাগ নেতাই আত্মগোপনে। নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা। গোপনে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত আছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। অবশ্য ২০ দলের জনসভায় জামায়াত-শিবিরের নেতাদের বক্তৃতা করতে দেখা যায়।

মুফতি আমিনীর ইসলামী ঐক্যজোট একসময় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত থাকলেও তার মৃত্যুর পর থেকে দলটির তেমন তৎপরতা নেই। দলটির কার্যক্রম অনেকটাই লালবাগ মাদরাসার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সীমাবদ্ধ। এ ব্যাপারে দলের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী সাংবাদিকদের বলেন, এখন তো কোনো তৎপরতা দেখানোর সুযোগই নেই। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণসহ সরকারি মহলের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেয়ার ঘটনায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টি হয় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নেতাদের মধ্যে। একপর্যায়ে দলটির মহাসচিব হুমায়ুন কবিরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ ঘটনার রেশ ধরে সম্প্রতি দলের সিনিয়র নায়েবে আমিরসহ শীর্ষ বেশ কয়েক নেতা পদত্যাগ করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামে যোগ দেন। এসব ঘটনায় স্থবির হয়ে পড়েছে এ সংগঠনের কার্যক্রম।

২০-দলীয় জোটের অন্য দুই শরিক খেলাফত মজলিস ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামেরও প্রকাশ্যে কার্যক্রম নেই বললেই চলে। জমিয়তের মহাসচিব মুফতি ওয়াক্কাস দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে এখন নীরবতা পালন করছেন। তবে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা প্রাণ ফিরে পেয়েছে। দলটির বেশ কয়েক নেতা সরকারি দল ও বিএনপি জোট উভয় পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন বলে জানা গেছে। জোটের আরেক শরিক বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টিরও কোনো তৎপরতা নেই। হাফেজ্জি হুজুর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কার্যক্রম কামরাঙ্গীরচর মাদরাসাকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। সংগঠনের মহাসচিব জাফরুল্লাহ খানের বিরুদ্ধে জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। অবশ্য জাফরুল্লাহ খান এ অভিযোগ অস্বীকার করে মানবকণ্ঠকে বলেন, সংগঠনের কিছু লোক তার ব্যক্তি ইমেজ ক্ষুণœ করার জন্য এমন অপপ্রচার চালাচ্ছেন। সম্প্রতি দলের এ অবস্থার জন্য শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফের দ্বিতীয় পরিবারের সন্তান মহিবুল্লাহ মিয়াজীকে দায়ী করা হয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে।

ইসলামী দলগুলোর কার্যক্রম অঘোষিতভাবে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকলেও ব্যতিক্রম চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন। মাঝেমধ্যে কিছু কর্মসূচিতে বাধা পেলেও দলটির নেতারা সারাদেশে ওয়াজ মাহফিলসহ সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। পবিত্র হজ ও রসুলুল্লাহ (সা.)-কে নিয়ে গদিচ্যুত মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ও গাফ্ফার চৌধুরীর বক্তব্যের প্রতিবাদ করে আসছেন।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে জোটবদ্ধ রাজনীতি করছে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন। দলটি জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ইসলামী ঐক্য আন্দোলন, জাকের পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, গণতান্ত্রিক ইসলামী ঐক্যজোট, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত, বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টি (বিইউআইপি)-সহ বেশকিছু ইসলামী দল ও সংগঠন সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলছে। কিন্তু কারোরই রাজপথে কোনো তৎপরতা দেখা যায় না।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব এমএ আউয়াল মানবকণ্ঠকে বলেন, সরকারের সঙ্গে থাকলেও তারা ইসলামবিরোধী যে কোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাজপথে সোচ্চার। এছাড়া সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী আন্দোলনেও তারা বিভিন্ন সময়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করেছেন।

উৎসঃ   মানবকণ্ঠ

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com