1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে মরিয়া আমিরাত

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০১৫
  • ১৮ দেখা হয়েছে

আরিফ সিকদার বাপ্পী, দুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাত :
দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রতিটি মেঘখণ্ড থেকে প্রতিটি ফোঁটা বৃষ্টিও সংরক্ষণ করতে মরিয়া মরুভূমিবেষ্টিত দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। আল আইন বিমানবন্দরে কড়া রোদের মধ্যেও একটি দুই পাখাযুক্ত বিচক্রাফট প্রস্তুত হয়ে আছে মেঘ-ভাঙানোর (ক্লাউড সিডিং) মিশনের জন্য। এই প্লেনটি সল্ট ফ্লেয়ার দ্বারা সজ্জিত। একটি মেঘ দেখা গেলে তাতে এই ফ্লেয়ার ফায়ার করে মেঘের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে এবং তাতে এক পশলা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
আট মিলিয়ন মানুষের দেশ তেলসমৃদ্ধ আমিরাত পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক দশটি দেশের একটি। এখানে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ মাত্র ৭৮ মিলিমিটার (৩ ইঞ্চি), যা যুক্তরাজ্যের বার্ষিক বৃষ্টিপাতের চেয়ে ১৫ গুণ কম। আমিরাতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি অ্যান্ড সিস্মলজি (এনসিএমএস) এই ‘ক্লাউড-সিডিং’ প্রকল্প চালু করেছে। এর আবুধাবি-ভিত্তিক ফরকাস্টার মনিটর একে নির্দেশনা দেয় কখন একটি মিশন পরিচালনা করতে হবে। এনসিএমএসের ডেপুটি চিফ পাইলট মার্ক নিউম্যান বলেন, যখনই তারা কোনো সম্ভাব্য মেঘমালা দেখতে পান, আমাদের মিশন পরিচালনার ইঙ্গিত দেন’। চারটি বিচক্রাফট এয়ার সি-৯০ এয়ারক্রাফটের একটি বহরের বেজে দাঁড়িয়ে নিউম্যান বলছিলেন, সাধারণত গ্রীষ্মের সময়টাই তাদের সবচেয়ে ব্যস্ততার কাল। এই সময় আগের আল হাজার পাহাড়ের ওপর মেঘ জমতে
থাকে। যা ওমান উপসাগর থেকে বয়ে আসা উষ্ণ বায়ুকে প্রবাহিত করে। মেঘ যেখানে জমতে থাকে তা চিহ্নিত করে আপড্রাফটের শক্তিমত্তা অনুযায়ী ফ্লেয়ার ফায়ার করা হয়। তিনি বলেন, ‘যদি সহজেই গলে যাবে এ রকম একটি আপড্রাফট পাই, আমরা একটি বা দুটি ফ্লেয়ার খরচ করি। যদি একটু শক্ত আপড্রাফট পাই, তাহলে চারটি ফ্লেয়ার কিংবা কখনো কখনো ছয়টি ফ্লেয়ার পর্যন্ত ফায়ার করি’। সব সিডিং থেকে বৃষ্টি না হলেও প্রায় সিডিং থেকে বৃষ্টি হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা খুবই আনন্দের। যখনই কোনো সিডিং থেকে বৃষ্টি হয়, তা আমাদের জন্য খুবই উপভোগ্য ব্যাপার হয়। অফিসের লোকজন খুবই উচ্ছ¡সিত হয়’। তবে এই ক্লাউড সিডিং কতটুকু কার্যকর সে ব্যাপারে নানান প্রশ্ন রয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডা প্রদেশের স্কি রিসোর্টগুলো ভারি স্নো-ফল তৈরি করার জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এছাড়া ২০০৮ সালের বেইজিং অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শুষ্ক আবহাওয়া নিশ্চিত করার জন্য রেইন ডিস্পারসাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল। দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধরে রাখা ও বিশাল পরিমাণ বিদেশিদের চাহিদা পূরণের জন্য আমিরাত এখন প্রধানত ডিস্যালিনেশন প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। উপসাগরীয় এ রাষ্ট্র বর্তমানে পৃথিবীর সর্বমোট  ডিস্যালিনেশনকৃত পানির ১৪ শতাংশ উৎপন্ন করছে এবং প্রতিবেশী সৌদি আরবের পরে সবচেয়ে বেশি। আমিরাতের পরিবেশ ও পানি মন্ত্রণালয়ের ২০১৩ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে ৩৩টি ডিস্যালিনেশন প্লান্ট রয়েছে এবং দেশটির সার্বিক চাহিদার ৪২ শতাংশ পূরণ করছে। আরো ১৪ শতাংশ ব্যবহারযোগ্য পানি আসে সেচ প্রকল্প ও সবুজ ল্যান্ডস্কেপ এলাকার ব্যবহৃত পানি শোধনের মাধ্যমে। এনসিএমএসের গবেষণা প্রধান ওমর আল ইয়াজেদির মতে, ডিস্যালিনেশনকরণের চেয়ে ক্লাউড সিডিং অনেক সাশ্রয়ী। ২০১০ সালে চারদিনের ক্লাউড সিডিং থেকে আবুধাবির একটি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টের নয় বছরের উৎপন্ন পানির সমান পানি উৎপন্ন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, এটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস, যা অস্বীকার করা যাবে না। ক্লাউড সিডিংয়ের মাধ্যমে মেঘের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী বৃষ্টির পরিমাণ পাঁচ থেকে সত্তর শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। ২০১০ সালে আমেরিকান মেটিওরোলজিক্যাল সোসাইটির কার্যকারিতা নিয়ে কিছু সংশয় প্রকাশ করলেও ‘ক্লাউড সিডিংয়ে অল্প বিনিয়োগে তুলনামূলকভাবে বিশাল পরিমাণে সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা’র কথা স্বীকার করে নিয়েছিল। যে পরিমাণ বৃষ্টি মাটিতে পড়ে শুকিয়ে যায় কিংবা সমুদ্রে গড়িয়ে যায় আমিরাত তা সংরক্ষণে সারা দেশে ১৩০টি  বাঁধ নির্মাণ করেছে, যার মাধ্যমে সর্বমোট ১২০ মিলিয়ন কিউবিক মিটার পানি সংরক্ষণ করা যাবে। এনসিএমএসের নির্বাহী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মান্দুস জানিয়েছেন, আরও বাঁধ নির্মাণ করে পানি সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গবেষণা চলছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এমনভাবে মেঘকে পরিচালিত করা যাতে ঠিক অ্যাকুয়াফারেই বৃষ্টি পড়ে। আমরা এক ফোঁটা বৃষ্টিও অপচয় করতে চাই না।’

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com