1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

বেঁচে থাকার সংগ্রামে ওরা আজো থেমে নেই

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০১৫
  • ১৪ দেখা হয়েছে

এম.এ.সাবলু হৃদয় সিলেট :

সভ্যতার বিকাশ ও সমাজ উন্নয়নে নারীর অবদান অনন্য। সমাজ ও সভ্যতা বিকাশ হওয়ার সাথে সাথে সামাজিক বাস্তবতা, কুসংস্কার, গোড়ামী, কুশিক্ষা ইত্যাদীর সাথে যুদ্ধ করে নারীরা সামনে অগ্রসর হচ্ছে। তবে অগ্রসর হলেও এর বিশাল একটি অংশ বিশেষ করে যারা হাওর অঞ্চলে বসবাস করেন তাদের জীবনযাত্রা ব্যতিক্রম। কারণ প্রতি নিয়ত হাওরের পরিবেশের সাথে সংগ্রাম করে জীবন ধারণ করতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে প্রতি বছর প্রাকৃতিক দূর্যোগ-আগাম বন্যা, মৌসুমী বন্যা, শীলা বৃষ্টি, অতি বৃষ্টি, ঢেউ, আফাল, ঘুর্নিঝড় ও খরা হাওরবাসীর জীবন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটায়। এলাকায় খাদ্য সংকট দেখা দেয়, মানুষের জীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে। নারী ও শিশুরা পুষ্টিহীনতায় ভোগে এবং স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় চরমভাবে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়।
হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জ থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার পশ্চিম দিকে এক অবহেলিত জনপদের নাম জামালগঞ্জ। এ উপজেলার প্রায় দেড় হাজার পাটি শিল্পীর বসত রয়েছে। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে সোনাপুর, এবং কালিপুর গ্রামের অবস্থান। এ ছাড়া চাঁনপুর, কদমতলী, দুর্গাপুর, রামেশ্বর পুরসহ সুবিধা বঞ্চিত গ্রাম গুলোর অধিকাংশ মানুষই যুগ যুগ ধরে পাটি তৈরী করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। এই আধুনিক সভ্যতায় বিভিন্ন অত্যাধুনিক আসবাবপত্র তৈরী হওয়ার ফলে বর্তমানে এ শিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে। তবুও বেঁচে থাকার সংগ্রামে তারা আজো থেমে নেই। এখানে প্রায় প্রতিটি পরিবারের পুরুষ, মহিলা, কিশোর-কিশোরী এই কাজের সাথে সম্পৃক্ত। এ অঞ্চলে চাষযোগ্য জমি ৬ মাস পানির নিচে থাকায় বৈশাখের পর এ অঞ্চলের নারী পুরুষ কারোরই আর কোন কাজ করার সূযোগ থাকে না। এই ৬ মাস সম্পূর্ন নির্ভর থাকতে হয় একমাত্র পাটিশিল্পের উপর।
এসব পাটি শিল্পীদের বসবাস হাওরপারে থাকলেও তাদের কারো জমি নেই। সুরমা নদীর তীরে জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামে সরেজমিনে গেলে চাঁনপুরের উর্মিলা রনী দত্ত, কদমতলীর বিউটি কর ও পার্বতী রানীর সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমাদের একমাত্র অবলম্বন কুটির শিল্প। এখান থেকে শীতলপাটি দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রির জন্য যায়,তার মধ্যে সাধারণ, জামদানী পাটিগুলো অমরা বুনন করতাম, কিন্তু নক্সী করা পাটি গুলো বুনন করতে পারতামনা। পরে প্রশিক্ষন নিয়ে এখন নক্সী করা পাটি বুনন করতে আমাদের সমস্যা হয়না। সাধারণ পাটি তৈরী করতে ১ জনের পাঁচ দিন, জামদানী পাটি তৈরী করতে ৮-৯ দিন ও নক্সী পাটি তৈরী করতে প্রায় ২৫ দিন সময় লাগে। প্রতিটি সাধারণ পাটি ৫ শত, জামদানি ৭ শত ও অর্ডার করা নক্সী পাটি গুলো ২ থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করেন তারা। এদিকে মুরর্তার অভাবে পাটি শিল্পিরা পাটি তৈরী করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এলাকায় আগে যে মুরর্তা পাওয়া যেত বর্তমানে তা পাওয়া যায় না। মুরর্তার জন্য যেতে হয় সুনামগঞ্জের মঙ্গলকাটা বাজার ও সিলেটের বিভিন্ন এলাকায়। এলাকায় যে মুরর্তা পাওয়া যেত তা বর্তমানে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। নতুন করে যদিও কিছু সংখ্যক মানুষ মুরর্তার চাষ শুরু করেছেন কিন্তু তার ফল পেতে সময় লাগবে প্রায় ৩ বছর।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com