1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

মরুর বুকে সবুজ ধানের হাসি

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০১৫
  • ২০ দেখা হয়েছে

আরিফ সিকদার বাপ্পী, দুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাত :
মরুভূমি তো মরুভূমিই। দুচোখ জুড়ে শুধু বালি আর বালি। আমিরাতি মরুর এই বালি-পাথরের বুক চিরে এবার সবুজের হাসি ফোটাল এক আমিরাতি কৃষক। সালেহ মোহাম্মদ ইয়ারুফ মানসুরি মরু আবহাওয়ার মধ্যে হাইড্রোপনিক্স কৃষি পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করলেন। ধান, আনারস, আঙ্গুর, পেঁপে ও কমলার পাশাপাশি ব্ল্যাক বেরি, পিচ ফলও উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে।
আমিরাতের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকায় লিওয়া মরূদ্যানে নিজ কৃষি খামারে সালেহ মোহাম্মদ যেসব ফসল উৎপাদন করেছেন তা ‘লিওয়া ডেট এক্সিবিশনে’ উপস্থাপন করে গোটা আমিরাতকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। আমিরাতে কয়েক বছর ধরে হাইড্রোপনিক্সের প্রচলন শুরু হয়েছে। কোনো মাটি ব্যবহার না করে রাসায়নিক ও জৈব সার যুক্ত পানির মাধ্যমে ফসল উৎপাদনের পদ্ধতি কৃষি বিজ্ঞানে হাড্রোপোনিক্স নামে পরিচিত। আমিরাতের কয়েকটি বাণিজ্যিক কৃষি খামার প্রায় এক দশক ধরে এ পদ্ধতির মাধ্যমে স্ট্রবেরি থেকে শুরু করে সেলেরিসহ (শসা জাতীয় সবজি) সব ধরনের সবজি উৎপাদন করছে। তবে হাড্রোপোনিক্স জগতে আল মানসুরি সবার থেকে একটু মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। ফল-সবজির সাথে ধানও উৎপাদন করলেন। ধান উৎপাদনে মাটি ও পানির অভাব উভয়টি দূর করবে এ হাইড্রোপোনিক পদ্ধতি। এ অসাধারণ কৃতিত্বের গুরুত্ব সম্পর্কে আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট জানায়, ২০২৫ সাল নাগাদ দুই কোটি চাষ যোগ্য ধানি জমি মারাত্মক পানির অভাবে ভুগবে। অন্যদিকে জাপানের চিবা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বলেছেন, জনসংখ্যা বিস্ফোরণের
কারণে ২০৫০ সালের দিকে সারা পৃথিবীতে ধানের উৎপাদন প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে যাবে।
যেভাবে শুরু
আল মানসুরি বলেন, তিনি ২০১০ সালে লিওয়া এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করা শুরু করেন। পরীক্ষায় সফল হয়ে তিনি বাণিজ্যিকভাবে সবজি উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নেন। সেই যে শুরু, তার সমাপ্তি ধানের মতো ফসল ফলানোর মধ্য দিয়ে। এক্সিবিশনে তিনি জানান, ধানের সাথে পেঁপে, আঙ্গুর, কমলা, পিচ ফল, আনারসের মতো ফলও তিনি হাইড্রোপোনিক্স পদ্ধতির মাধ্যমে উৎপাদন করেছেন। তার মতে, হাইড্রোপোনিক্সের স্মার্ট সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে ভবিষ্যতে ব্যাপকভাবে ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। প্রদর্শনীতে আমিরাতের কৃষকদের তিনি এ অভিনব পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। ‘কিছু কৃষক মনে করছেন, হাইড্রোপোনিক্স পদ্ধতিটি জটিল ও ব্যয়বহুল- এটা সত্য নয়’। এমনটি জানালেন তিনি। উৎপাদিত ধান থেকে প্রাপ্ত খড়-বিচালি পশু খাদ্যের অভাব মেটাবে বলে তার বিশ্বাস।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com