1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

মহাসড়কে আশ্রয় বন্যাদুর্গতদের

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২৯ জুন, ২০১৫
  • ৪৫ দেখা হয়েছে

এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া:

চকরিয়ায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে এবার ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে উপজেলার উপকুলীয় অঞ্চলের বেশির বাগ জনপদ। গত ছয়দিন ধরে বানের পানিতে ভাসছে এ অঞ্চলের কোণাখালী, বিএমচর, পুর্ববড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, বদরখালী ও সাহারবিলসহ সাত ইউনিয়নের বির্স্তীন এলাকা। এসব এলাকার বন্যাদুর্গত লোকজন পরিবার সদস্যদের নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন আঞ্চলিক মহাসড়কের উপর। বেশির ভাগ পরিবার পলিটিনের ঝুঁপড়ি তৈরী করে সেখানে বসবাস করছেন কয়েকদিন ধরে। কোণাখালী ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল হক সিকদার, বিএমচর ইউপি চেয়ারম্যান বদিউল আলম ও ঢেমুশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রোস্তম আলী জানিয়েছেন, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারনে মাতামুহুরী নদীর পানি বর্তমানে নীচে নেমে গিয়ে তাদের ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকায় সয়লাভ হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসব ইউনিয়নের হাজার হাজার পরিবার। পানিতে ভেসে গেছে বিপুল পরিমাণ মৎস্য প্রকল্পের মাছ। তলিয়ে গেছে ক্ষেতের ফসল ও বীজতলা। বন্ধ রয়েছে আভ্যন্তরিণ এলাকার সড়ক যোগাযোগ। বসতবাড়ি ও টিউবওয়েল পানিতে নিমজ্জিত থাকায় দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি ও রান্না করা খাবার নিয়ে চরম সংকটে পড়েছে উপকুলের বেশির লোকজন। চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাহেদুল ইসলাম বলেন, টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীতে পানি বেড়ে গেলে উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এরই মধ্যে বর্ষণ কমে যাওয়ায় শনিবার থেকে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের লোকজন কমবেশি বন্যা মুক্ত হলেও উপকুলীয় অঞ্চলের সাত ইউনিয়নের মানুষ নতুন করে বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, উপজেলার কোণাখালী, বিএমচর, পুর্ববড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া, বদরখালী ও সাহারবিল ইউনিয়নের বেশির ভাগ জনপদ এখন পানিতে তলিয়ে রয়েছে। রোববার দুপুরে বন্যাদুর্গত এসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফরিদুল আলম। এসময় তিনি উপজেলার বরইতলী, হারবাং, কোণাখালী, বদরখালী ও পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নে দুর্গত লোকজনের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। ইউএনও বলেন, বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করে এব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকে ভারী বর্ষণ বন্ধ থাকার পর মাতামুহুরী নদীতে কমে গেছে পাহাড়ি ঢলের প্রভাব। এ অবস্থায় উপজেলার বেশিরভাগ এলাকা থেকে বানের পানি নামতে শুরু করেছে। তবে বেশিরভাগ এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার বন্যদুর্গত এলাকায় বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এখনো রান্নার কাজ করতে পারছেনা হাজার হাজার পরিবার। গ্রামীণ এলাকার সড়ক গুলো যোগাযোগ ভেঙ্গে পড়েছে। বেশির ভাগ এলাকার লোকজন জরুরী কাজে নৌকা ও কলা গাছের ভেলাকে বাহন হিসেবে ব্যবহার করছে। উপজেলার বরইতলী ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউদ্দিন চৌধুরী বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে তার ইউনিয়নের প্রায় এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে ইউনিয়নের ডেইঙ্গাকাটা, রসুলাবাদ, গোবিন্দপুর, শান্তিবাজার এলাকার বেশির ভাগ বসতবাড়ি গুলো এখনো পানিতে ডুবে রয়েছে। সুরাজপুর-মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিমুল হক আজিম জানান, তার ইউনিয়নের প্রায় নীচু এলাকার বসতবাড়ি ও শতশত একর জমির ক্ষেতের ফসল এখনো তলিয়ে রয়েছে পানির নীচে। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে ছিকলঘাট-কাকারা, মাঝেরপাড়ি-মানিকপুর সড়কে। লক্ষ্যারচর ইউপি চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মানিক জানান, মাতামুহুরী নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় তার ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া, রোস্তমআলী চৌধুরী পাড়ার শতশত পরিবার আতঙ্কে রয়েছে। যেকোন সময় তার ইউনিয়নের অসংখ্য বসতবাড়ি নদীতে তলিয়ে যেতে পারে। একই সাথে হুমকির মুখে পড়েছে নদীর তীর এলাকায় বিদ্যুত বিভাগের ১লাখ ৩২হাজার ভোল্ডের একটি টাওয়ার। কৈয়ারবিল ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ উদ্দিন চৌধুরৗ জানান, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খিলছাদক, ছোটভেওলা ও বরণ্যারচর এলাকা ডুবে অধিকাংশ গ্রামের বসতি বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। চিরিংগা ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, জানান, পানি উন্নয়ন বোডের বেড়িবাধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে ঢলের পানি লোকালয়ে ঢুকে তাদের ইউনিয়নের প্রায় এলাকা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। ভেসে গেছে উপজেলার চিংড়িজোনের কয়েকশত চিংড়ি প্রকল্পের অন্তত শত কোটি টাকার মাছ। হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন আহমদ বাবর জানান, তার ইউনিয়নের একাধিক এলাকা এখনো গত বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে। ইউনিয়নে সড়ক ও ফসল খাতে ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো.আহসান উল্লাহ বলেন, চকরিয়া উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকার জন্য জেলা প্রশাসনের দেয়া ৪০ মেট্রিক টন চাউল রোববার উপজেলার আঠার ইউনিয়নে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দুর্গতদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এর আগে বিতরণ করা করা হয়েছে বরাদ্ধের ৩৫ বস্তা চিড়া, ৪৩ বস্তা মুড়ি ও ৩০ কার্টুন গুড়। তিনি বলেন, উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে ক্ষয়ক্ষতি নিরুপনের জন্য সমীক্ষা চলছে। এব্যাপারে সকল ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com