1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

মাছের রাজ্ব্য হবিগঞ্জ জেলা : ইউরোপ-মধ্যপ্রাচ্য সহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০১৫
  • ৩৭ দেখা হয়েছে

জুয়েল চৌধুরী,হবিগঞ্জ :  হাওর অঞ্চলের একটি আদর্শ জেলা হবিগঞ্জ। এছাড়াও বিভিন্ন কারণে দেশের শীর্ষে রয়েছে জেলাটি। তেমনি একটি কারণ মাছের প্রচুর্যতা। হাওর অঞ্চল হওয়ায় এখানকার মানুষের প্রধান কাজ মাছ চাষ। মাছ চাষ করে এখানকার লোকজন দেশের উন্নয়নে বিরাট অবদান রাখছেন। অনেকে পুকুরে মাছ চাষ করে। কেউবা লিজ নিয়ে আবার কেউবা নিজের পুকুরে। আবার এখানকার অনেক লোক পুকুরে মাছ চাষ না করেও বিভিন্ন হাওয়র থেকে মাছ আহরণ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি নিজেদের উন্নয়ন করছেন। হবিগঞ্জ জেলা বানিয়াচঙ্গ, আজমীরিগঞ্জ, লাখাই, নবীগঞ্জ উপজেলাতে বেশিরভাগ মানুষ মাছ শিকারের সাথে জড়িত রয়েছেন। বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকার মানুষ বেকার হয়ে পড়ায় তারা বেচে নিয়েছেন মাছ শিকার। স্থানীয়রা বলেছেন, খোয়াই, করাঙ্গী, বরাক, ভেড়ামোহনা, সুটকী, রতœা, বিজনা, কুশিয়ারা, ঝিংড়ী, সুতাংসহ বিভিন্ন নদী। আরও আছে অসংখ্য খাল-বিল, ডোবাসহ নানা প্রাকৃতিক জলাশয়। আর এ কারণেই এখানে বেশি পরিমানে মাছ পাওয়া যায়। এখানকার জলাশয়গুলোতে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো শৈল, গজার, শিং, পাবদা, রুই, কাতল, চিতল, টেংরা, চিংড়ি, বোয়াল, বাউস, আইড়, টাকি, বাইন, পুঁটিসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, বাহরাইন, আবুধাবি এবং মধ্য প্রাচ্যের নানা দেশে রফতানি হচ্ছে। দেশি মাছের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য এ জেলাতে অনেক অভয়াশ্রম করা হয়েছে। সুস্বাদু এসব মাছের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এ জেলায় জলাশয়ের পরিমাণ ৯৭ হাজার ১৩৫ হেক্টর। আর মাছ উৎপাদন হয় ২৮ হাজার ৪৭৪ টন। চাহিদা ২২ হাজার ৯০৯ টন। উদ্ধৃত্ত ৫ হাজার ৫৬৫ টন। স্থানীয় বাজারে মাছ ও দেশের বাইরে রপ্তানিকে কেন্দ্র করে জেলা সদরের উমেদনগর, চৌধুরীবাজার, শায়েস্তানগর, চুনারুঘাটের দুর্গাপুর, মাধবপুর বাজার, শায়েস্তাগঞ্জ সুতাং বাজার, আজমিরীগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে দেড় শতাধিক আড়ত গড়ে উঠেছে। জেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন আহাম্মদ জানান, এখানের মিঠা পানির মাছ ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে। দিন দিন মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি জানান, প্রাকৃতিক জলাশয়ের পাশাপাশি পুকুরেও বাণিজ্যিকভাবে মাছ করা হচ্ছে। শহরের উমেদনগর এলাকায় অবস্থিত আসকর ফিশ মার্কেটের মাছের আড়তের মালিক মো. সরাজ মিয়া জানান, এ মার্কেটে শতাধিক আড়ত রয়েছে। হাওর অঞ্চলের মানুষ জলাশয় থেকে মাছ সংগ্রহ করে এখানে বিক্রি করার জন্য নিয়ে আসেন। এখানে স্থানীয়ভাবে বিক্রি করে অতিরিক্ত থাকা মাছ সিলেট, সুনামগঞ্জ এবং কিশোরগঞ্জের আড়তে পাঠানো হচ্ছে। আর সেখান থেকে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে রফতানি করা হয়। মৎস বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এখানকার দেশীয় মাছ প্রাকৃতিক জলাশয়ে উৎপাদন হয়। প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছকে কৃত্রিম খাবার দিতে হয় না। তবে জেলার নানা স্থানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠা মৎস্য খামারে খাবার দিতে হয়। হবিগঞ্জ বানিয়াচংয়ের রতœা নদীতে একটি, নবীগঞ্জের কসবা ফেরি নদীতে একটি করে মৎস্য অভয়াশ্রম করেছে মৎস্য বিভাগ। মাছ কিনকে আসা দিপংকর চৌধুরী জানান, পুকুরে চাষ করা মাছের চাইতে জলাশয়ে প্রাকৃতিকভাবে বড় হওয়া মাছ খেতে অনেক সু-স্বাধু। তাছাড়া হাওয়র থেকে শিকার করা মাছে কোন ধরণের পিজারভিটিব প্রয়োগ করা হয় না। মাছ বিক্রি করতে আসা হবিগঞ্জের উমেদ নগরের দুই যুবক জানান, আমরা সারা বর্ষা মৌসুমে মাছ শিকার করি। আর এ থেকে আমাদের সংসার চলে। তিনি বলেন আমরা দুই ভাই প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ১২শ টাকার মাছ বিক্রি করতে পারি। সারা বছর এখানে মাছ পাওয়া গেলেও বর্ষা মৌসুমে অনেক বেশি পাওয়া যায় বলেও তিনি জানান।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com