এক্সক্লুসিভকক্সবাজারলীড

মানবপাচার মামলা হলেও বিচার নিষ্পত্তি হচ্ছে না

83views

ছৈয়দ আলম, কক্সবাজার আলো :
কক্সবাজারে মানবপাচার প্রতিরোধে গোল টেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেছেন, মানব পাচারসংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করতে জেলা ভিত্তিক ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার কার্যের গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে স্থানীয় ও রোহিঙ্গারা যেভাবে মানবপাচারে জড়িত হয়েছে বা হচ্ছে তা দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি না করলে মানবপাচার আরো বেড়ে যাবে। সরকার মানবপাচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করলেও জেলা পর্যায়ে বিচারক নিয়োগ দিয়ে মামলার কার্যক্রম হচ্ছেনা যার ফলে মামলাগুলো অন্য আদালতে দীর্ঘ সুত্রতার কারনে ফাইল বন্দি হয়ে রয়েছে। আবার মামলার বাদী, স্বাক্ষী ও পুলিশ প্রতিবেদন না পাওয়ার কারনেও পড়ে থাকে বছরের পর বছর ধরে। অবশ্যই এই মামলাগুলো নিষ্পত্তি হওয়া দরকার। অন্যথায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার ভীড়ে সামনে পাচারকাজ আরো বেড়ে যাবে বলে আশংকা প্রকাশ করেন। বর্তমানে বিভিন্ন দেশে যাওয়া বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গারা নির্যাতন-নিপীড়নের যে ভয়াবহ বর্ণনা দেন, সেগুলো মেনে নেওয়া অত্যান্ত কঠিন। এক্ষেত্রে শুধু চুনোপুঁটিদের ধরে মানবপাচার বন্ধ করা কোনভাবেই সম্ভব নয়, ধরতে হবে রাঘববোয়ালদের। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচার কাজ সম্পন্ন করে মামলা নিষ্পত্তি করার পরামর্শ দেন। এবং মানবপাচার প্রতিরোধে বিভিন্ন এনজিও, জনপ্রতিনিধি ও সরকারের প্রতি আহবান জানান।
রবিবার (৩০ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কলাতলি হোটেল উইন্ডি টেরেস এর কনফারেন্স রুমে ইউএসএইডএর সহায়তায় ও উইনরক ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক বাস্তবায়িত বাংলাদেশ কাউন্টার ট্রাফিকিং-ইন-পার্সনস বিসিটিআইপি প্রোগ্রাম কর্তৃক আয়োজিত বাংলাদেশে মানবপাচার উপর আইনগত সচেতনতা সৃষ্টি বিষয়ে গোল টেবিল বৈঠক বিষয়ক সভার আয়োজন করা হয়। এতে উপরোক্ত কথাগুলো তুলে ধরেন বক্তারা। বৈঠকে বক্তারা আরো বলেন, এখনো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এই মামলাগুলোর বিচার চলছে। এ ক্ষেত্রে তৈরী হচ্ছে দীর্ঘসুত্রীতা, যার ফলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আইনের পরিপূর্ন সুফল পাচ্ছেনা। বক্তারা আরো বলেন, মানবপাচার আইনের ১৬ ধারা অনুযায়ী, মানবপাচার মামলা অজামিনযোগ্য ও আপসযোগ্য নয়। অথচ আসামীরা জামিন পেয়ে আবারও একই অপরাধের সাথে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। আবার মানবপাচার আইনের ২৪ ধারা মোতাবেক ৯০ দিনের মধ্যে অভিযোগ গঠন ও ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার কথা রয়েছে। কিন্তু একটি মামলার ক্ষেত্রেও সেটি হচ্ছেনা। ফলে মানবপাচার প্রতিরোধের জন্য প্রণীত আইনের কোন সুফল প্রকৃত ভিকটিমরা পাচ্ছেন না। এবং পাচার প্রতিরোধে কোন কার্যকর পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন-উইনরক ইন্টারন্যাশনাল এর বিসি/টিআইপি প্রোগ্রামের চীফ অব পার্টি লিজবেথ জোনেভেল্ড।
বৈঠকে অংশগ্রহন করেন, কক্সবাজার বার কাউন্সিল প্রতিনিধি, নারী ও শিশু আদালতের পি পি ও এপিপি, প্রেসক্লাব প্রতিনিধি, ইউএন এজেন্সীর প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় এবং স্থানীয় বেসরকারী সংস্থার প্রতিনিধি, ডেমো প্রতিনিধি, চিকিৎসক প্রতিনিধি।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন-টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার মহিলা প্রতিনিধি, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি ও শিক্ষকসহ বিভিন্ন প্রতিনিধিরা। অনুষ্টান চা বিরতীর পর বিষয়ভিত্তিক একটি উপস্থাপনা প্রদান করেন, উইনরক ইন্টারন্যাশনাল এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার কেএম মহসিনুজ্জামান, এরপর অংশগ্রহনকারীদের বক্তব্যের শেষে পাচার বিরোধী একটি ভিডিও ডকুমেন্টারী “সোল্ড” প্রদর্শন করেন উইনরক ইন্টারন্যাশনাল এর ম্যানেজার প্রসিকিউসন এডভোকেট মোজাহেদুল ইসলাম। এড. মোজাহেদুল ইসলামের পরিচালনায় উক্ত অনুষ্টানের উন্মুক্ত আলোচনায় অধিকাংশ অংশগ্রহনকারী উপরোক্ত বিষয়ে অত্যান্ত মূল্যবান আলোচনা, মতামত ও পরামর্শ দেন। পালস কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন-মানবপাচার শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের জন্যই সমস্যা। সবাই মিলে কাজ করলে রাতারাতি না হলেও যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। কক্সবাজারে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। ২০১২ সালে মানব পাচার আইন হওয়ার পর থেকে মামলা হলেও নিষ্পত্তির ঘটনা খুবই নগণ্য। এতে আরো হতাশা বেড়ে যাচ্ছে। আশা করি জেলা ভিত্তিক ট্রাইব্যুনালে আলাদা বিচারক নিয়োগ দিয়ে মামলা পরিচালনা করে সর্বোচ্চ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করলে অনেকটা কমে আসবে।
বৈঠকে বক্তব্য রাখেন, র‌্যাব-১৫ এর সিও আজিম আহমেদ, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: শাহিন আবদুর রহমান চৌধুরী, কক্সবাজার প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান কর্মকর্তা নুরুল আবছার, টেকনাফ মডেল থানার ওসি তদন্ত এবিএম দোহা, ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মানস বড়–য়া, সদর থানার আরিফ উল্লাহ, হেলপ কক্সবাজারের নির্বাহী পরিচালক আবুল কাশেম ও এডভোকেট সাকী এ কাউসার প্রমূখ।

Leave a Response