1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

মায়ের জাতি অপমানিত লাঞ্ছিত কেন?

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ১৪ দেখা হয়েছে
একটি জাতি কতটুকু সভ্য, নৈতিকভাবে কত উন্নত, কতটুকু মানবিক তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে সে সমাজের নারী ও শিশুদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং আচরণের মাধ্যমে। সে মানদণ্ডে বাংলাদেশের অবস্থান এখন দক্ষিণ আফ্রিকার চেয়ে অনেক নিম্ন পর্যায়ে। কারণ রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি যখন দুর্বল হয়ে পড়ে তখন শাসন করবার সৎ সাহসটুকুও শাসকদের আর থাকে না। ফলে সমাজের সর্বত্র অরাজকতা, অমানবিকতা, হিংস্রতা মাথাছাড়া দিয়ে উঠে। রাষ্ট্র ধীরে ধীরে অপরাধ রোধ করবার শক্তি হারিয়ে ফেলে। বাংলাদেশ এখন সেই ভয়ঙ্কর সময়টি অতিক্রম করছে। মূলত বিগত ৫ জানুয়ারির অনির্বাচিত সরকারের মানুষকে শাসন করবার নৈতিক ভিত্তি এখন আর অবশিষ্ট নেই। সকল ক্ষেত্রেই ‘অ’ অক্ষর যোগ করলেই যেন শাসক গোষ্ঠীর আসল পরিচয় মেলে। এই সরকার অ-গণতান্ত্রিক, অনির্বাচিত, অনৈতিক, অবৈধ। তাই তাদের কর্মকাণ্ডের মাঝেও যেন অপদার্থের নিশানাই বেশি!

নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা দেবার দায়িত্ব সরকারের। এক্ষেত্রে বিরোধী আর সরকারি দলের মধ্যে পার্থক্য করার সুযোগ নেই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায়। কিন্তু গণতন্ত্রের অনুপস্থিতিতে সব ক্ষেত্রেই এখন বৈষম্য বিরাজমান। এ সরকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ। সমাজের সংবেদশীল দু’শ্রেণি, নারী ও শিশুদের উপর সাম্প্রতিক নির্যাতনের ঘটনাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ফলে টনের্ডোর মতোই মুহূর্তের মধ্যে নারী তাঁর ইজ্জত আব্রু সব হারাচ্ছে! অপমান আর লাঞ্ছনার শিকার এই সব নারীরা বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার মতো জঘন্য পথ। এই অপমান কোন নারীর একার নয়। এটা নারী জাতির অপমান! এই অপমান আমাদের মায়ের জাতির! এই অপমান আমাদের সমাজ এবং রাষ্ট্রের। অথচ রাষ্ট্রের সকল গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীদের বাসিয়ে বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নের আজগুবী বয়ান দিচ্ছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রীসহ শাসক দলের অনেকেই। আর সেই সময়ই নারীরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত, অবহেলিত, অপমানিত, লাঞ্ছিত, বঞ্চিত।

সম্প্রতি উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে ধর্ষণের ঘটনা। কর্মক্ষেত্র ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নারীরা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায়ই শোনা যাচ্ছে ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, শ্লীলতাহানি ও ইভটিজিংয়ের শিকারের ঘটনা। গত ৭ মাসে রাজধানীসহ সারাদেশে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে প্রায় ৪ শতাধিক। এসব ঘটনায় আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। থানা পুলিশ ও মানবাধিকার সংগঠন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এসব ঘটনায় মামলা হলেও মামলার তদন্ত ও চূড়ান্ত রায় প্রকাশে ধীর গতি থাকায় অপরাধীরা রয়ে যাচ্ছে বহাল তবিয়তে। নারী অধিকার সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার সংগঠকদের অভিযোগ- আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিস্পৃহতা ও নিষ্ক্রিয়তার সুযোগেই একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটে চলেছে।

কিছু দিন আগে মানসিকভাবে লাঞ্ছনা ও নির্যাতনের ঘটনার পরিমাণ বেশি লক্ষ্য করা গেলেও সম্প্রতি শারীরিক লাঞ্ছনা ও ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। শুধুমাত্র ঢাকায় নয়, সারাদেশেই এটা অনেকটা সামাজিক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) -এর দেয়া এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী- গত জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত ৭ মাসে সারাদেশে ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ৩৭৮টি। এর মধ্যে সরাসরি ধর্ষণের ঘটনা রয়েছে- ২০৬টি। ৬ বছরের নিচের বয়সী বাচ্চাদের ধর্ষণের ঘটনা ২২টি, ৭ বছর থেকে ১৮ বছরের নিচের বয়সী ৭৮ কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১১১টি। এক্ষেত্রে ৭ বছর থেকে ১৮ বছরের নিচের বয়সী শিশু ও কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ২৪ জন। কারা কিভাবে ধর্ষণ করেছে তা পরবর্তীতে নিশ্চিত হওয়া যায়নি -এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে ৯টি। এসব ঘটনায় শিশু-কিশোরী ও নারীসহ আত্মহত্যা করেছে ২৯ জন। এছাড়া ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ৫২টি। এর মধ্যে ২০টি ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় ১০৯ এবং গণধর্ষণের ঘটনায় ৬৫ মামলা হয়েছে।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতেও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, শ্লীলতাহানি ও ইভটিজিংয়ের ঘটনা। সর্বশেষ গত এক সপ্তাহে রাজধানীতে কমপক্ষে ২০ জন নারী ও কিশোরী ধর্ষণ ও ধর্ষণের চেষ্টার শিকার হয়েছেন। এদের সবাইকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী বলেন, নারী ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা, শ্লীলতাহানি ও ইভটিজিংয়ের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। রাষ্ট্রযন্ত্রের দুর্বলতা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগেই একের পর এক এসব ঘটে চলছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, প্রতিকারহীনতার সংস্কৃতি কিংবা লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বৃদ্ধির কারণে ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার মতো ঘটনা বাড়ছে। আইনি প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। (উৎস :  ২৩ আগস্ট জি.নিউজ)

আওয়ামী লীগের শাসনামলে ভয়াবহ নির্যাতন থেকে বাদ যায়নি ছাত্রী-শিক্ষিকা, অন্তঃসত্ত্বা নারী, গৃহবধূ, মানবাধিকার নেত্রী, গার্মেন্টস শ্রমিক, বিদেশী পর্যটক, আইনজীবী, সাংবাদিক, আদিবাসী এবং নারী পুলিশ। সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার পর্দানশীন নারীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার এবং দলীয় ক্যাডারদের মাধ্যমে নিত্য নতুন পৈশাচিক কায়দায় চালানো নির্যাতনের চিত্রগুলো অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। দেশে নারী ধর্ষণ, ইভটিজিং, ছাত্রী-শিক্ষিকা লাঞ্ছনাসহ নানা অনৈতিক কর্মকা- বেড়ে গেছে বহুগুণে। বিশেষ করে সরকারদলীয় ক্যাডারদের দ্বারা যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের ঘটনায় সর্বত্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ সদর দফতরের অপরাধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আওয়ামী মহাজোটের প্রথম চার বছরে সারা দেশে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৬৭ হাজার ২২৯টি। এর পরের হিসাব বাস্তবে এর থেকে আরো ভয়ঙ্কর! বিশেষ করে জঙ্গি কর্মকা-ের অপপ্রচার চালিয়ে ধর্মপ্রাণ নামাজী, বোরকাপরা ও ভিন্ন রাজনৈতিক মত ও আদর্শের কর্মী সমর্থকদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেশি ভয়ঙ্কর। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছাড়াই নিরীহ পর্দানশীন নারীদের গ্রেফতার ও রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের বহু ঘটনায় দেশ-বিদেশের বিবেকবান মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

গত ১৯ আগস্ট ২০১৫ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষিকা অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমানের উগ্র সাম্প্রদায়িকতার শিকার হয়েছেন বোরকা পরা এক ছাত্রী। কলাভবনে বেলা ১১টা থেকে ১২টায় মনোবিজ্ঞানের তৃতীয় বর্ষের ৩০৪৪ নম্বর কোর্সের ক্লাসে এ ঘটনা ঘটে। ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৪,  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার ও রাজনীতি বিভাগে হিজাব পরায় কয়েকজন ছাত্রীকে গালমন্দ করে ক্লাস থেকে বের করে দিয়েছেন অধ্যাপক খুরশিদা বেগম। আবার শিক্ষার্থীদের তার কাছে মাফ চাইতে বাধ্য করেন। নামাজ আর পর্দা করার অপরাধে ৮ ছাত্রীকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে বের করে দেয়া হয়। ইডেন কলেজের ছাত্রীদের নির্যাতন করে দেয়া হয় পুলিশে। ২ জুলাই, ১২-চট্টগ্রাম নার্সিং কলেজের ছাত্রীরা হিজাব পরতে এবং নামাজ পড়তে বাধা দেয়া হয়েছে। নামাজ কক্ষ তালাবদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। এ সময় শিক্ষিকারা সেখানে রাখা বিভিন্ন ধর্মীয় বই, হিজাব পরা ও নামাজ পড়া নিয়ে কটূক্তি করেন। অঞ্জলী দেবী নামে এক শিক্ষিকা জুতা পরা অবস্থায় নামাজ ঘরে প্রবেশ করে তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘নামাজ ঘরে জুতা নিয়ে ঢুকেছি, কই আল্লাহ আমাকে কী করেছে?’ (আমার দেশ-০৩-১২-১২)

একই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে তল্লাশি করে বিভিন্ন বিভাগের নয় মেধাবী ছাত্রীকে আটক করেছে ছাত্রলীগ ও প্রশাসন। ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি ২১ নারীকে আটকের ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে ও তাদের মুক্তি দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘নারী অধিকার আন্দোলন’ নামের একটি সংগঠন গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করলে সেখানেও হানা দেয় পুলিশ। ওই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ শেষে বের হওয়ার সময় ভাষা সৈনিক অধ্যাপিকা চেমন আরা, কলেজ শিক্ষিকা ও ছাত্রীসহ ১৩ নারীকে আটক করে পুলিশ ও র‌্যাব। রাতে চেমন আরাসহ ৬ জনকে ছেড়ে দিলেও বাকিদেরকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখানো হয়। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর তারা একে একে জামিনে মুক্তি পান। ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজার এলাকা থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২০ শিক্ষার্থীসহ ২১  জনকে পুলিশ আটক করেছে। এর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার স্ত্রীও ছিল। এ সময় “বিপুল পরিমাণ ইসলামিক বই, কুরআন শরীফ পেয়েছে পুলিশ”। ২০১০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে তল্লাশির নামে পর্দানশীল ও নামাজী ছাত্রীদের হয়রানির ঘটনা ঘটে। ছাত্রীদের রুম থেকে ইসলামী বই-পুস্তককে জেহাদী বই বলে তা জব্দ করে নিয়ে যায় পুলিশ। প্রশাসনের সহায়তায় এ ধরনের কর্মকা-ে সারাদেশে বোরকাধারী ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

২০১০ সালের ৩ এপ্রিল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. একেএম শফিউল ইসলাম তার ক্লাসে ছাত্রীদের বোরকা পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। তিনি বলেন, ক্লাসে ‘মধ্যযুগীয় পোশাক বোরকা’ পরা যাবে না। ২০০৯ সালের ২৩ এপ্রিল বরিশালের নিউ সার্কুলার রোডের এক বাড়িতে র‌্যাব হানা দিয়ে বোরকা পরে ধর্মীয় শিক্ষার জন্য জড়ো হওয়ার অপরাধে ২১ নারীকে গ্রেফতার করে। দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জঙ্গি সংশিষ্টতার কোনো তথ্য না পেয়ে ২১ পরহেজগার নারীকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে আদালতে চালান দেয়া হয়। ঘটনার দীর্ঘ ২ মাস পর ২৩ জুন আদালত তাদের বেকসুর খালাস দেন।

নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পায়নি অন্ত:সত্ত্বা নারী, দুগ্ধপান করা শিশু, পরীক্ষার্থী কেউই। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে মাসের পর কারাগারে আটকিয়ে রেখেছে। মেডিক্যাল, বুয়েট, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদরাসায় পড়য়া মেয়েগুলোর প্রত্যেকেই ডিপার্টমেন্টে ভালো রেজাল্টের অধিকারী। এই সরকার নিজ দলের ফাঁসির দ-প্রাপ্তদের খালাস দেয়, আর আটকিয়ে রাখে এই সব পর্দানশীন দ্বীনদার নারীদের। হায়রে আইনের শাসন! হায়রে বিচারের নামে প্রহসন!। কত অমানবিক! কত জঘন্য আর কত ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে এই সরকার!! কুরআন শরীফ, ইসলামিক বই রাখা আর বোরকা পরার অপরাধে পুলিশ এই নিরীহ, নিরপরাধ, পরহেজগার মেধাবী ছাত্রীদের এ জাতির জন্য কলঙ্কের, বেদনার ও লজ্জার। ৯০% মুসলমানের দেশেও আজ নামাজ পড়া, ইসলামী অনুশাসন মেনে চলা আর বোরকা পরা-ই কি একমাত্র অপরাধ? তবে এক্ষেত্রে সরকার ও তাদের মদদপুষ্ট মানবাধিকার এবং নারী সংগঠনগুলো একেবারে নির্বিকার।

এ বছর পয়লা বৈশাখ উদযাপন অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হাতে লাঞ্ছিত হয় অর্ধশতাধিক ছাত্রী। এর আগে ইডেন কলেজে ছাত্রলীগ নেতাদের মাধ্যমে ছাত্রীদের দিয়ে অনৈতিক কাজে বাধ্য করার খবরে সর্বমহলে ঘৃণার সৃষ্টি হয়েছে। একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানেও তাদের হাতে লাঞ্ছিত হয় বেশ কয়েকজন ছাত্রী ও অভিভাবক। এছাড়া অনৈতিক কাজে রাজি না হওয়ায় রাজশাহী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের লাঞ্ছিত করে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের বোরকা ও হিজাব নিষিদ্ধ করা হয়। মূলত এই সরকারের শাসনামলে নারী নির্যাতনের কয়েকটি ঘটনা গোটা জাতির মাথাকে নিচু করে দিয়েছে। কারণ তা শাসক দলের ছাত্রসংগঠনের প্রত্যক্ষ মদদে সংঘটিত হয়েছে।

মানব জাতির অর্ধেক ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নারী। তাদেরকে অবহেলা ও উপেক্ষা করে মানব সভ্যতার উন্নতি ও অগ্রগতি সম্ভব নয়। আজ আমরা যেন আবার প্রাগৈসলামী যুগের দিকে ফিরে যাচ্ছি? সে সমাজে নারীদের কোন মূল্যায়ন করা হয়নি। কন্যা সন্তানরা ছিল অসম্মান, অমর্যাদা, পাপ পঙ্গিলতার প্রতীক। কন্যা জন্মগ্রহণ করলে তারা নিষ্ঠুর পৈশাচিক পদ্ধতিতে হত্যা করতো। পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করলে সবার মন আনন্দের জোয়ার বয়ে যেত আর কন্যা সন্তান- সেতো ঘৃণা অসম্মান  তাই তাকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো।

কন্যা সন্তান জীবিত থাকলে হয়তো তার সামনে নরপশুদের ভোগের সামগ্রী হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এই ভয় তাদেরকে জীবন্ত অবস্থায় মেরে ফেলার জন্য কুমন্ত্রণা দিত। এছাড়া যারা জীবিত থাকতো তাদের উপর নির্যাতন চলতো নিয়মিত। বিয়ের পর স্বামী মারা গেলে মেয়েটির অভিভাবকরাই ভোগের সামগ্রীতে পরিণত করতো। পুনরায় বিয়ে না দিয়ে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত অমানুষিক নির্যাতন চালানো হতো মেয়েটির ওপর।

পৃথিবীতে ইসলাম নারীকে সবচেয়ে বেশি অধিকার ও মর্যাদা দিয়েছে। নবী করিম (সা.) বলেছেন প্রথমে কন্যা সন্তান প্রসব করায় মায়ের সৌভাগ্য নিহিত আছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, এক ব্যক্তি নবী করীম (সা.) এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূূল আমার কাছ থেকে সুন্দর আচরণের সবচেয়ে বেশি হকদার কে? তিনি বললেন, তোমার মা। আগন্তুক জিজ্ঞেস করলেন, এরপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। পুনরায় উক্ত ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, এরপর কে? তিনি বললেন, তোমার মা। লোকটি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, এরপর কে? নবী করীম (সা.) বললেন, তোমার পিতা। (বুখারী)

হাদিস হলো, ‘যদি কোন ব্যক্তি তার দুই কন্যাকে সাবালক হওয়া পর্যন্ত প্রতিপালন করেন তাহলে সেই ব্যক্তি ও আমি কিয়ামতে এমনভাবে একত্রে আগমন করব যেমন আমার দুটি আঙ্গুল একত্রে আছে। (মুসলিম)। পৃথিবীতে বস্তু সমুদয়ের মধ্যে নারী ও সুগন্ধি আমার নিকট প্রিয়। (নাসায়ী)

কুরআনে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে- ‘আর যখন জীবিত পুতে ফেলা মেয়েকে জিজ্ঞেস করা হবে কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছে?’ কুরআনের বক্তব্য হলো, ‘যখন এদের কাউকে কন্যা সন্তান জন্মের সুসংবাদ দেয়া হয় তখন তার চেহারা কালো হয়ে যায় এবং সে ভেতরে ভেতরে গুমরে মরতে থাকে। লোকদের থেকে লুকিয়ে ফিরতে থাকে। কারণ এই দুঃসংবাদের পর সে লোকদেরকে মুখ দেখাবে কেমন করে ভাবতে থাকে। অবমাননার সাথে মেয়েকে রেখে দেবে নাকি তাকে মাটিতে পুতে ফেলবে? দেখ, কেমন খারাপ কথা যা এরা আল্লাহর উপরে আরোপ করে।’ (আন নাহল : ৫৮-৫৯)

পৃথিবীতে এমন কোনো আমল নেই, যে আমল করলে আল্লাহর সন্তুষ্টি অত্যন্ত দ্রুত অর্জন করা যায়। কিন্তু একমাত্র মায়ের সাথে সদ্ব্যবহার এবং প্রাণভরে তার খেদমত করলে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি দ্রুত অর্জন করা যায়। সেই মায়ের জাতিকে সবচেয়ে অপমান, অপদস্থ করছে আওয়ামী লীগ। পশ্চিমা বিশ্বের মতোই ইসলামকে প্রতিপক্ষ মনে করে আওয়ামী লীগ। বিশেষ কিছু লোকের প্ররোচনায় নারীনীতির নামে একশ্রেণির এনজিওদের মাধ্যমে মুসলমানদের, পরিবারপ্রথা, বিয়ে প্রথা, মুসলিম নারীকে পর্দার আড়াল থেকে বের করে মুসলিম সভ্যতা, সংস্কৃতি ধ্বংস করতে চায় তারা।

ইসলাম একটি শ্বাশত জীবন বিধান। হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানব জাতিকে দিয়ে গেছেন মানুষের যাবতীয় কার্যক্রমের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম দিক-নির্দেশনা। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার সংরক্ষণ করেছে ইসলাম। ইসলাম গ্রহণের মধ্য দিয়ে ব্যক্তির মধ্যে সূচিত হয়েছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।  ইসলাম পূর্ব যুগে যে উমরের সাথে সাক্ষাত হলে কোনো ইজ্জত অটুট থাকবে কিনা তার সংশয় থাকত, ইসলাম গ্রহণের পর সেই উমরই হলেন নারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের অগ্রগামী সেনা। নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি যে দৃঢ়চেতা অনুভূতির প্রকাশ করেছিলেন আল কুরআনে সে আলোকেই হিজাবের আয়াত নাজিল হয়েছে।

তখন নারীরাও তাদের প্রয়োজন মতো ঘর থেকে বাইরে বের হতো। কোন নারীর ইজ্জতহানী, মর্যাদাহানীর কোন আশঙ্কা ছিলনা। বিভিন্ন জিহাদে নারীদের সেবা শুশ্রষার কাজে সুযোগ দেয়ার ফলে ইসলাম প্রতিষ্ঠার সরাসরি সুযোগও তারা পেয়েছেন। মসজিদে আঁধার রাতেও তারা নিরাপদে জামাতে নামাজ আদায় করতে পারতেন। হজরত উমর (রা.)-এর খেলাফতকালে তিনি হযরত শিফা (রা.) নামক একজন মহিলা সাহাবীর প্রতি বাজার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। (বুখারী, আবু দাউদ, ইবনে হিশাম)। হজরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) এর বোন হযরত খাওলা (রা.) যুদ্ধের ময়দানে বিশাল রোমক বাহিনীর বিরুদ্ধে বীর বিক্রমে যুদ্ধ করেছেন। এ দৃষ্টান্ত সামনে আনলে বোঝা যায়, সে যুগে নারীর এত স্বাধীন, মর্যাদা থাকার কারণ হলো তখন ইসলামের বিধান প্রতিষ্ঠিত ছিল।

ইসলামের অগ্রযাত্রা ঠেকানোর জন্য নানা ধরনের প্রচার মাধ্যমে ইসলাম-বিদ্বেষী প্রচারণা জোরদার করেছে ইসলামের শত্রুরা। গল্প, সাহিত্য, চলচ্চিত্র, এমনকি কম্পিউটার গেমসকেও তারা অপব্যবহার করছে এই হীন উদ্দেশ্যে। কিন্তু তা সত্ত্বেও পাশ্চাত্যে প্রতিদিনই ইসলামের ছায়াতলে আশ্রয় নিচ্ছেন অনেক সত্য-পিয়াসী নরনারী। এমনই একজন সৌভাগ্যবতী মার্কিন নও-মুসলিম নারী কারিমা রাজি। ইসলাম নিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে গবেষণা ও অনুসন্ধানের পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন কারিমা রাজি। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন: ইসলাম গ্রহণ কয়েক বছর আগেও আমার কাছে ছিল একটি অবিশ্বাস্য বিষয়।

কখনও কখনও এটা অনুভব করতাম যে, নিজেকে হারিয়ে ফেলছি, আবার কখনও এমনও মনে হত যে, এই পথ আমার জন্য আগেই ঠিক করা হয়েছে। তাই এ পথকে আমি স্বাগত জানাতাম। সেই কয়েক বছরে ইসলামের কোনো কোনো দিক আমাকে খুব আকৃষ্ট করেছিল। পড়াশুনা ও গবেষণা ধীরে ধীরে আমাকে সেই দিনটির দিকে নিয়ে গেল যেদিন আমি পাঠ করলাম শাহাদাতাইন তথা ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (সা.) হলেন তাঁর প্রেরিত পুরুষ বা রাসূল’। ইসলামের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগেই জীবনে আধ্যাত্মিক পরিতৃপ্তির সন্ধান করতাম।

আরো ভালোভাবে বলতে গেলে বলতে হয় আমি ছিলাম একজন সেক্যুলার বা ধর্ম-নিরপেক্ষ ব্যক্তি। আমি নৈতিকতার ওপর জোর দিতাম, কিন্তু কখনও সেগুলোকে আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত করতাম না। জীবনের কোনো লক্ষ্য আছে কিনা তাও জানতাম না।

রাজি এ প্রসঙ্গে বলেছেন : ‘আমি ভাবতাম যে ইসলাম নারীর অধিকারকে পদদলিত করে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শুনেছিলাম যে মুসলিম নারীদের ঘরের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয় না এবং তাদেরকে মাথায় ওড়না পরতে বাধ্য করা হয়। আমার কাছে এটাও মনে হত যে, পর্দা বা হিজাবের অজুহাতে পুরুষরা নারীর অধিকার লঙ্ঘন করছে। অথচ বাস্তবতা হলো, হিজাব নারীর বিনম্রতা ও ব্যক্তিত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যম।

পড়াশুনার মাধ্যমে আমি সবিস্ময়ে এটা জানলাম যে, ইসলাম নারীর অধিকারকে তো ধ্বংস করেই না, বরং বাস্তবে তাদেরকে পাশ্চাত্যের চেয়েও বেশি স্বাধীনতা দিয়েছে। ইসলাম সেই খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকেই নারীকে এমন অধিকার দিয়েছে যে, আমরা কেবল বর্তমান শতকে তা অর্জন করেছি। যেমন, নারীর সম্পদ ও মালিকানার অধিকার, ভোট দেয়ার অধিকার, তালাক বা বিয়ে বিচ্ছেদের অধিকার, বিয়ের ক্ষেত্রে নারীর অনুমতি বা নিজের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার ইত্যাদি। অবশ্য পশ্চিমা সূত্রগুলো ইসলামকে অত্যন্ত কঠোর ও বাস্তবতা-বিবর্জিত ধর্ম বলে প্রচার করে আসছে।

মার্কিন নও-মুসলিম নারী কারিমা রাজি ইসলামের অন্য কিছু আকর্ষণীয় দিক প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘নারী অধিকারের প্রতি ইসলামের বিস্ময়কর উদারতা ও সম্মানের বিষয়টি আবিষ্কারের পর ইসলামের নবী ও কুরআন সম্পর্কে পড়াশুনা শুরু করি। আমার প্রশ্ন ছিল এটা যে, মুহাম্মাদ (সা.) কি কেবল একজন ব্যতিক্রমধর্মী নেতাই ছিলেন? নবী হওয়ার আগেই তিনি ছিলেন দয়ালু। নিজের ও ভবিষ্যৎ যুগ সম্পর্কে তাঁর স্পষ্ট দিক-নির্দেশনা আমার পূর্ব-ধারণাগুলো পাল্টে দেয়। শত্রুকে মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে তাঁর ধৈর্য ও দৃঢ়তা এবং বিজয়ের সময় বিনম্রতা তাঁকে পরিণত করেছে এক অতুলনীয় মহামানবে।

তিনি চূড়ান্ত বিজয়ের সময়ও যখন দুনিয়ার সম্পদকে পরিপূর্ণভাবে ভোগ করতে পারতেন তখনও তা করতেন না এবং নিজ অনুসারীদের মধ্যে যে ছিল সবচেয়ে দরিদ্র তার চেয়েও কম ছিল মুহাম্মাদ (সা.)’র সম্পদ। এরপর পবিত্র কুরআন সম্পর্কেও আরো গভীর জ্ঞান অর্জন করলাম। নিজেকে তখন প্রশ্ন করেছিলাম, সাধারণ কোনো মানুষ কি এমন উচ্চ পর্যায়ের বইকে বুঝতে সক্ষম? প্রকৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তি সম্পর্কে কুরআনের বর্ণনাগুলো আমাকে আকৃষ্ট করেছিল। বিশ্বনবী (সা.)’র বিস্ময়কর জীবন সম্পর্কেও অনেক কিছু জানতে পারলাম। এও স্পষ্ট হলো যে, ইসলামের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও এ ধর্ম তাদের অধিকারকে সমান বলে মনে করে।’

মার্কিন নও-মুসলিম নারী কারিমা রাজি আরো বলেছেন: ইসলাম কেবল নারী-পুরুষের সাম্যেই নয়, সব জাতি ও সমাজের সব শ্রেণির মধ্যেই সমান অধিকারে বিশ্বাসী। ইসলামের দৃষ্টিতে খোদাভীতি বা তাকওয়ার দিকটি ছাড়া মানুষের মধ্যে কেউ কারো চেয়ে বড় নয়। এভাবে নিজের প্রতি ও নিজের সিদ্ধান্তগুলোর প্রতি আস্থাশীল বা আত্মবিশ্বাসী হলাম।

বৈপ্লবিক ধর্ম ইসলাম ও এর বৈপ্লবিক বিধানগুলো অজ্ঞতার নিন্দা জানায় এবং ঈমান ও নৈতিকতাকে ছড়িয়ে দেয়। ইসলামের শিক্ষাগুলো মানুষের নানা চাহিদা মেটায় ও সেগুলো মানুষের প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়ায় এ ধর্ম কালোত্তীর্ণ ও সার্বজনীন হয়েছে। চির-সজীব ও প্রাণবন্ত এই ধর্ম সম্পর্কে পড়াশুনার পর এ ধর্মকে পরিপূর্ণ এবং সার্বজনীন দেখতে পেয়ে কারিমা রাজি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

‘আমার জীবনের দিনগুলো খুব দ্রুত কেটে যাচ্ছিল। তাই ভাবলাম আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক বিশ্বাস না নিয়ে মৃত্যুবরণ করা উচিত নয়। আমার বুদ্ধিবৃত্তি বা বিবেক এটা বলে যে, ইসলামে সত্যতার নিদর্শন রয়েছে পবিত্র কুরআনে ও বিশ্বনবী (সা.)’র জীবনে। আর এইসব নিদর্শন বা প্রমাণ এত শক্তিশালী যে তা উপেক্ষা করা যায় না। এভাবে তখনই ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য মনে মনে পুরোপুরি প্রস্তুতি নেই এবং কয়েক দিন পর শাহাদাতাইন পড়ে মুসলমান হয়ে যাই। আমি আমাদের ম্যাগাজিনে এটা লিখি যে, অবশেষে আমি ইসলামের মধ্যে আধ্যাত্মিক আস্থা ও বিশ্বাসের মূল্য খুঁজে পেয়েছি। মহান আল্লাহকে ধন্যবাদ দিলাম এ জন্য যে তিনি আধ্যাত্মিকতা ও চিন্তার স্বাধীনতার মাধ্যমে আমাকে ইসলামকে বেছে নেয়ার সুযোগ দিয়েছেন’। (সূত্র : আইআরআইবি)

ইসলামই কেবল নারীর মর্যাদা, সম্মান, অধিকার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম। তাই প্রতিটি নারী-পুরুষকে সেই বাস্তব সত্যটি উপলব্ধি করে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলে আমাদের মায়ের জাতি ফিরে পাবে তাদের কাক্সিক্ষত মর্যাদা ও অধিকার। নিশ্চিত ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুুক্তি।

ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com