1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

মুখ থুবড়ে পড়েছে রস্ক প্রকল্প, বন্ধ হয়েছে ৫৮১টি স্কুল

  • আপডেটের সময় : সোমবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
  • ৭ দেখা হয়েছে

দেশে শিক্ষার হার শতভাগ নিশ্চিত করতে নানা সময়ে নানা উদ্যোগ হাতে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অধীনে ‘রিচিং আউট অব স্কুল চিলড্রেন (রস্ক)’ প্রকল্পে সারাদেশে পরিচালিত হচ্ছে ‘আনন্দ স্কুল’। কিন্তু দুর্নীতি ও অনিয়মে ইতোমধ্যে ১ হাজার ১শ ১৬২টি স্কুলের মধ্যে বন্ধ হয়েছে ৫৮১টি স্কুল।

পাঁচ বছর মেয়াদের এই প্রকল্পটিতে সাড়ে তিন বছরে খরচ হয়েছে মাত্র ৩৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ টাকা। এই হিসেবে অব্যয়িত সাড়ে সাড়ে ৫শ কোটি টাকা টাকা খরচের জায়গা পাচ্ছেন না প্রকল্প কর্মকর্তারা।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৪৮ জেলার ১২৫টি উপজেলায় ১১ হাজার ১৬২টি স্কুল স্থাপন করা হয়। খরচ বাবদ প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংক ও জিওবি তহবিল থেকে মোট অর্থ সহায়তা পায়  ১ হাজার ১শ ৪০ কোটি ২৫ লাখ টাকা। কিন্তু নানা অনিয়মে একের পর এক ৫৮১টি স্কুল বন্ধ হওয়ায় টাকা খরচ করার জায়গাও বন্ধ হয়ে যায় প্রকল্পটির। বর্তমানে এই অব্যয়িত টাকা খরচ করার জায়গা না পাওয়ায় কর্মকর্তারা রীতিমতো দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। প্রকল্পের মেয়াদও পড়ে রয়েছে এখনও প্রায় দেড় বছর।

রস্ক প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ঝরেপড়া, নদীভাঙন ও চরাঞ্চলের বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনতে ২০১৩ সালে রস্ক-২য় পর্যায় প্রকল্পটি চালু করা হয়, যা ‘আনন্দ স্কুল’ নামে পরিচিত। আনন্দ স্কুলে শুধু ৮ থেকে ১৪ বছরের শিশুরা ভর্তি হতে পারবে; যারা কখনও স্কুলে যায়নি বা প্রাথমিকেই ঝরে পড়েছে। একটি স্কুলে কমপক্ষে ২৫ থেকে সর্বোচ্চ ৩৫ জন পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে। তবে কেউ সরকারি প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি থাকা অবস্থায় আনন্দ স্কুলে ভর্তি হতে পারবে না।

কিন্তু স্কুলের শিক্ষক থেকে প্রকল্পের উপর মহল পর্যন্ত কেউই এসব নিয়মের তোয়াক্কা করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রকল্পের শুরুতেই শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। কোনও রকম স্কুল দাঁড় করিয়ে প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগও রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে। এ কারণে আনন্দ স্কুল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। ফলে, এখন শিক্ষার্থী না থাকায় বেহাল দশা এসব স্কুলের। দুর্নীতি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, জালিয়াতির কারণে প্রকল্পের স্কুলগুলোয় মুখ থুবড়ে পড়েছে। নানা অনিয়মের কারণে শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতেও পারছে না এ স্কুলগুলো।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের সাড়ে তিন বছরে খরচ হয়েছে মাত্র ৪শ ২০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ ৩৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এ হিসেবে বাকি দেড় বছরে খরচ হওয়ার কথা আরও প্রায় দেড়শ কোটি টাকা। কিন্তু এ হিসেবে প্রকল্প শেষে থেকে যাচ্ছে প্রায় সাড়ে ৫শ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি না হওয়ার কারণে বাকি অর্থ দাতাকে ফেরত দিতে হবে। সে কারণে তড়িঘড়ি করে প্রকল্পের ধরন সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র আরও জানায়, প্রকল্পের মেয়াদে অর্থ খরচ করতে না পারলে দাতাগোষ্ঠীর মধ্যে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হবে। সে কারণে প্রকল্পের সব অর্থ ব্যয় করার জন্য ১১টি সিটি কর্পোরেশনের ৫০ হাজার বস্তির শিশুদের প্রকল্পের আওয়তায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এসব শিশুদের প্রকল্পের আওতায় আনা হলেও দেড় বছর পরে তারা কোথায় পড়াশুনা করবে, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া রস্ক গ্রাজুয়েট অর্থাৎ যারা আনন্দ স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পাস করে মূল ধারার শিক্ষাগ্রহণ করছে না, তাদের কারিগরি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এরই মধ্যে ৩০টি উপজেলার ১ হাজার ৫শ শিশুর জন্য ৬ মাসের ৩৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে ৬ মাসের প্রশিক্ষণ তিন মাসেই শেষ করা হয়েছে। প্রকল্প সংশোধন করে আরও ৯০টি উপজেলার ২৫ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব করেছে বিশ্বব্যাংকের কাছে। প্রকল্পের অর্থ খরচ করার জন্যই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে প্রকল্পের পরিচালকের দাবি, শিশুদের কর্মমুখী শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রকল্পের ধরন পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া নানা অনিয়মের কারণে ৫৮১টি স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেসব স্কুল চালু রয়েছে, তার মান নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. এম মিজানুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আসলে আমাদের এই প্রকল্পটির ডিজাইনে কিছুটা ভুল ছিল। ফলে, পরে প্রকল্পের ধরন পরিবর্তন করে টাকা ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে’।

কীভাবে ডিজাইন পরিবর্তন করা হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঝরে পড়া শিশুদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মমুখী করার জন্য বাংলাদেশ টেকনিক্যাল এডুকেশন বোর্ড (বিটিইবি) অনুমোদিত ৬ মাসের ৩৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ১১টি সিটি কর্পোরেশনের ৫০ হাজার শিশুকে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। বিশ্বব্যাংক এতে সম্মতি দিয়েছে।’

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com