1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

মুনাফায় শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০১৫
  • ২১ দেখা হয়েছে

137487_1 চলতি বছরের শুরুতে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকা- থমকে দাঁড়ায়। কিন্তু মোটামুটিভাবে চলেছে ব্যাংকগুলো। ফলে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) কোনো কোনো ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা সামান্য বেড়েছে। আবার কমেও গেছে কিছু কিছু ব্যাংকের মুনাফা। গতকাল বিভিন্ন ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রতি ষাণ¥াসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ করে প্রভিশন ও করপূর্ববতী এবং প্রভিশন ও করপরবর্তী মুনাফা প্রতিবেদন তৈরি করে ব্যাংকগুলো। এ প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। জানুয়ারি-জুন সময়ে ষাণ¥াসিক ও জানুয়ারি-ডিসেম্বরে বার্ষিক মুনাফা প্রতিবেদন তৈরি করে ব্যাংকগুলো। আইন অনুযায়ী পরিচালন মুনাফা ব্যাংকগুলো প্রকাশ করতে পারে না। কেবল নিট বা প্রকৃত মুনাফা প্রকাশ করতে পারে।

সব ব্যাংক জানুয়ারি-জুন সময়ের আয়-ব্যয়ের চূড়ান্ত হিসাব এখনো শেষ করতে পারেনি। বিভিন্ন শাখা থেকে অনলাইন বা অন্যান্য মাধ্যমে তথ্য প্রধান কার্যালয়ে তথ্য পাঠিয়েছে। অনেক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় পাঠানো তথ্য যাচাই-বাছাই করে যোগ-বিয়োগ করছে। এদের হিসাব-নিকাশ শেষ করতে আরও দুয়েকদিন লেগে যেতে পারে। অনেক বড় বড় ব্যাংকের পরিচালন মুনাফার তথ্য এখনো জানা যায়নি। ওই ব্যাংকগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন হিসাব-নিকাশ করতে আগামীকাল (আজ) পর্যন্ত লেগে যাবে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বেসরকারি ৩৯টি ব্যাংকের মধ্যে ২২টির পরিচালন মুনাফার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮৪০ কোটি টাকা মুনাফা করেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। যদিও আগের বছরের প্রথম ষাণ¥াসিকে ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা হয় ৮৪৮ কোটি টাকা। হিসাব অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় ব্যাংকটির পরিচালন মুনাফা ৮ কোটি টাকা কমেছে।

পরিচালন মুনাফা ব্যাংকের প্রকৃত মুনাফা নয়, পরিচালন মুনাফা বেশি দেখা গেলেও যথাযথভাবে ঋণ শ্রেণিকরণ করলে এবং এর বিপরীতে প্রভিশন কেটে রাখা হলে মুনাফা কমে যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১৪ সালের জুনভিত্তিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বেসরকারি খাতের ৩৯টি ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা হয় ৭ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা। কিন্তু প্রভিশন রাখা এবং কর পরিশোধের পর ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফা দাঁড়ায় মাত্র ২ হাজার ১০৫ কোটি টাকায়।

গতবছরের তুলনায় ইউসিবিএলের পরিচালন মুনাফা ১৮ কোটি টাকা বেড়ে ৪৫০ কোটি টাকা হয়েছে। আইএফআইসি ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে ২২৫ কোটি টাকা। গতবছর এ সময় ব্যাংকটির মুনাফা হয় ১৯১ কোটি টাকা। পূবালী ব্যাংকের মুনাফা ৩৩০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫০ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে মাত্র ৫ কোটি টাকা বেড়ে ১৮০ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা হয়েছে এনসিসি ব্যাংকের। সাউথইস্ট ব্যাংকের মুনাফা ৪০৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪১৩ কোটি টাকা। বড় অঙ্কের মুনাফা বেড়েছে এক্সিম ব্যাংকের। আগের বছরের ১৯৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এ বছর হয়েছে ২৭০ কোটি টাকা।

আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে ৩১৫ কোটি টাকা। গতবছর আলোচ্য সময় ছিল ২৩৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা বেড়ে হয়েছে ১৩৫ কোটি টাকা। গতবছরে প্রথম ছয় মাসে ছিল ১২১ কোটি টাকা। সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের মুনাফা ১৫৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২১০ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির মুনাফা প্রায় ৫২ কোটি টাকা বেড়েছে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের মুনাফা ১০ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে ১৪০ কোটি টাকা। গত বছর ছিল ১৩০ কোটি টাকা।

এদিকে মুনাফা সামান্য কমেছে ন্যাশনাল ব্যাংকের। গত বছর ব্যাংকটির মুনাফা হয় ৪১০ কোটি টাকা। এ বছরের প্রথম ষাণ¥াসিকে ব্যাংকটির মুনাফা হয়েছে ৩৯৫ কোটি টাকা। মন্দা পরিস্থিতির ধাক্কায় স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের মুনাফা কিছুটা কমে হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা। গত বছর মুনাফা ছিল ১৭৩ কোটি টাকা। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মুনাফা ২১ কোটি টাকা কমে হয়েছে ২০০ কোটি টাকা। গত বছরে এই সময়ে ছিল ২২১ কোটি টাকা।

এদিকে নতুন ব্যাংকগুলোর মুনাফা সামান্য করে বেড়েছে। ইউনিয়ন ব্যাংক ৬০ কোটি, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক ২৯ কোটি, এনআরবি কমার্শিয়াল ৩৭ কোটি, মধুমতি ও মিডল্যান্ডের ব্যাংকের মুনাফা হয়েছে ২৮ কোটি টাকা। গতকাল একমাত্র বেসিক ব্যাংকের তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যাংকটির ১৬৯ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে।

একাধিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী জানান, চলতি অর্থবছরের শুরুতে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ছিল। ব্যবসা-বাণিজ্য গতি ছিল না। যার প্রভাব ব্যাংকে পড়েছে। তবে গতি বৃদ্ধি না পেলেও স্বাভাবিক গতিতে ব্যাংকগুলো চালানো সম্ভব হয়। ফলে সামান্য হলেও মুনাফা বেড়েছে। যদিও কয়েকটি ব্যাংকের মুনাফা কমেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার রেশ এখনো কাটেনি। তবে আশার কথা, বিনিয়োগ কিছুটা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

কিছু আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করে তারা বলেছেন, এখনো ব্যাংকগুলোয় উদ্বৃত্ত তারল্য রয়েছে, নন পারফর্মিং লোন বেড়েছে। এ কারণে বেশি প্রভিশন করতে হচ্ছে। আবার বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে স্প্রেড কমানোর তাগিদ রয়েছে। এ অবস্থায় ভালো মুনাফা করার সুযোগও খুব বেশি নেই।

ব্যাংকের নাম ২০১৫ জানুয়ারি-জুন ২০১৪ জানুয়ারি-জুন

ইসলামী ৮৪০ কোটি টাকা ৮৪৮ (নিট ১১২)

ইউসিবিএল ৪৫০ ৪২২ (১৯২)

আইএফআইসি ২২৫ ১৯১ (৬৩)

ন্যাশনাল ৩৯৫ ৪১০ (১১০)

পূবালী ৩৫০ ৩৩০ (১৬১)

এনসিসি ১৮০ ১৭৫ (৩৩)

সাউথইস্ট ৪১৩ ৪০৬ (১৫৮)

এ´িম ২৭০ ১৯৭ (৭৯)

মার্কেন্টাইল ২০০ ২২১ (৪০)

স্ট্যান্ডার্ড ১৫০ ১৭৩ (৬০)

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ১৪০ ১৩০ (৩৬)

আল আরাফাহ ৩১৫ ২৩৪ (৯৯)

শাহজালাল ১৩৫ ১২১ (-৫৯)

সোস্যাল ইসলামী ২১০ ১৫৮ (৬০)

সাউথবাংলা ২৯ ১১ (২)

এনআরবি কমার্শিয়াল ৩৭ ১১ (২)

মেঘনা ২৪ ২ (-১)

মধুমতি ২৮ ২৫ (১৬)

ইউনিয়ন ৬০ ১৯ (১)

উৎসঃ   আমাদের সময়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com