1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
  4. bblythe20172018@mail.ru : traceyhowes586 :

মূলকাজ ও নদী শাসন কাজ উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর – পদ্মাসেতু নির্মাণ কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করলো

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৫
  • ৩৫ দেখা হয়েছে
কক্সবাজার আলো  ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মাসেতুর মূলকাজ ও নদী শাসন কাজের উদ্বোধন করেছেন। এরফলে সকল দ্বিধা, বিভ্রান্তি ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশের উচ্চাভিলাষী ও স্বপ্নের পদ্মা বহুমুখী সেতুর নির্মাণ কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করলো বলে বাসস জানায়।

প্রধানমন্ত্রী সেতুর উত্তর প্রান্তে মুন্সিগঞ্জের মাওয়ায় ৬.১৫ কিলোমিটার সেতুর নির্মাণ কাজের এবং সেতুর দক্ষিণ প্রান্তে শরীয়তপুর জেলার জাজিরার নাওডোবায় এক অনুষ্ঠানে নদী শাসন কাজের উদ্বোধন করেন।
পদ্মাতীরে নাওডোবায় এক সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, বিশ্ব ব্যাংক প্রকল্পে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার প্রদান থেকে সরে যাওয়ার প্রেক্ষিতে দেশী ও বিদেশী নানামুখী ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে নিজস্ব অর্থায়নে মেঘা প্রকল্প বাস্তবায়নে সাহস ও শক্তি জোগানোর জন্য দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক চ্যালেঞ্জ ও ষড়যন্ত্র এমনকি দেশের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির প্ররোচনায় আমাদের বিরুদ্ধে বিশ্ব ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ প্রতিহত করে আমরা শেষ পর্যন্ত সফলভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’
ব্রিজ নির্মাণ সম্পন্ন হলে আর্থ-সামাজিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন আসবে আশা করে যারা তাদের মূল্যবান পৈতৃক জমি এমনকি ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি আশা করেন, আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সকলের সহযোগিতার মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের আগেই পদ্মাসেতু নির্মাণ সম্পন্ন হবে।
সেতুটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে ব্যাপক সুযোগ নিয়ে আসবে, দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি নতুন যুগের সূচনা ঘটাবে, আঞ্চলিক সহযোগিতা, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং দেশে দারিদ্র্য হ্রাসে আমাদের প্রচেষ্টায় ব্যাপক অবদান রাখবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্থানীয় সংসদ সদস্য এম মোজাম্মেল হক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিধায়, নিজস্ব সম্পদে যে কোন চ্যালেঞ্জিং প্রকল্প গ্রহণ করে বিশ্বের কাছে দেশের সক্ষমতা প্রমাণ করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ অন্যের ওপর বেঁচে থাকা বা অন্য কারও দয়া কামনা করে তাদের ওপর নির্ভরশীল থাকার জন্য জন্ম লাভ করেনি। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে যে, বাংলাদেশ নিজস্ব সম্পদে পদ্মা সেতুর মতো যে কোনো মেগা প্রকল্প গ্রহণ করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ এখন নিজস্ব  সম্পদ নিয়ে বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করতে সক্ষম।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বিপুল আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে, বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে টিকে থাকবে এবং আগামী দিনগুলোতে দেশের অগ্রগতি অব্যাহত রাখবে।
সেতু নির্মাণের চ্যালেঞ্জগুলোর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করার পর টোকিও সফরকালে তার অনুরোধে সম্মত হয়ে জাপান সরকার পদ্মা সেতু ও রূপসা সেতু  নির্মাণ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয় এবং তার সরকারের প্রথম মেয়াদকালে তিনি ২০০১ সালের জুন মাসে পদ্মা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।
তিনি আরো বলেন, কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পসহ সেতুর নির্মাণ প্রকল্প বাতিল করে এবং প্রকল্প থেকে জাপান সরকারকে সরে যেতে বাধ্য করে সেতুটি মাওয়া পয়েন্ট থেকে সরিয়ে পাটুরিয়ায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবার ক্ষমতায় আসার পর তার সরকার প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করে এবং বিশ্ব ব্যাংক প্রকল্পে অর্থায়নে সম্মত হয়।
কিন্তু কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ও বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট তার দায়িত্ব পালনের শেষ দিনে দুর্র্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগের কথা বলে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন স্থগিত করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করি এবং আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প অব্যাহত রাখি। তিনি আরো বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের অভিযোগ ইতোমধ্যে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।
ব্যাংক তাদের বিবৃতির সমর্থনে কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল আমাদের বা কানাডার কাছে পেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকার ব্যাংকের কাছে কাগজপত্র চাওয়ার পর ব্যাংক যে দুটি নথিপত্র পেশ করেছিল সেগুলো ছিল বিএনপি’র সময়ে গ্রহণ করা দুটি প্রকল্পের। শেখ হাসিনা আরো বলেন, তাছাড়া দুর্নীতির অভিযোগ ছিল ভিত্তিহীন, কেননা বিশ্ব ব্যাংক প্রকল্পের জন্য কোন অর্থই প্রদান করেনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি ক্ষুদ্র ঋণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ কুক্ষিগত রাখতে ব্যর্থ হয়ে সরকারের প্রতি ক্ষুব্ধ হওয়ার পর একজন বিশ্বখ্যাত ব্যক্তির দ্বারা প্রেষণার ভিত্তিতে বিশ্ব ব্যাংক এ অভিযোগ করেছিল। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের অনুরোধকারী ব্যক্তির পাঠানো অনেক ই-মেইল উইকিলিক প্রকাশ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ার পর বাংলাদেশের জনগণ নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নে তাকে অনুপ্রেরণা ও সাহস যুগিয়েছে।
তিনি বলেন, আমার সিদ্ধান্তে জনগণের অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে এবং সেতু নির্মাণের জন্য সহযোগিতা দিতে তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে সরকারকে অর্থ সরবরাহ করেছে কারণ আমরা এগুলো পুঁজি করিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে এখন বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের পরিমাণ প্রায় ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্য থেকে সেতু নির্মাণের জন্য ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা বাংলাদেশের জন্য কঠিন নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি পিতৃ-মাতৃহীন হয়ে দেশে ফিরেছেন জনগণের কল্যাণে কাজ করার জন্য, নিজের ভাগ্য গড়ার জন্য নয়। তিনি অথবা তার পরিবারের কারোই দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ জমানোর আকাক্সক্ষা নেই। সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা এবং দেশের জনগণই আমার মূল শক্তি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে এবং তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বঙ্গবন্ধু গোটা জীবন সংগ্রাম করেছেন। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করা ছাড়া আমার কোন কর্মভার নেই।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ কারো কাছে মাথা নত করে না, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের জনগণের অদম্য প্রতীক হয়ে থাকবে। এই সেতু দেশে সম্ভাবনাময় দক্ষিণাঞ্চল ও মংলা বন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রেলরুটসহ ডাবল-ডেকার পদ্মা সেতুর ডিজাইন অনন্য এবং বিশ্বের এই অংশে এটি হবে জাঁকজমকপূর্ণ অবকাঠামো। এই সেতু পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করবে। এই সেতু আমাদের কঠোর পরিশ্রম, রুচি ও উৎকর্ষের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু ছাড়াও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার পর জাজিরায় একটি শহর গড়ে উঠবে।
তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের জন্য সরকারের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তুলনামূলক উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলো মংলা বন্দর ব্যবহার করবে। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে বাংলাদেশ ট্রান্স এশিয়া রেলওয়ে এবং ট্রান্স এশিয়া হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে।
শেখ হাসিনা অন্যের সহযোগিতা ছাড়া দেশকে আত্মনির্ভরশীল হিসাবে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে হবে। তিনি আয় বৃদ্ধি এবং আর্থ-সামাজিক সুবিধা গ্রহণের জন্য প্রতি ইঞ্চি জমি উৎপাদনশীল করে তুলতে এবং সরকারের দেয়া সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নের একটি রোল মডেল এবং অন্যান্য দেশের তুলনায় এদেশ শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ। তিনি ইসলামের নামে যে কোন জঙ্গি কার্যক্রম সম্পর্কে সজাগ থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার দেশকে ২০২১ সাল নাগাদ মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশে পরিণত করার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
শরীয়তপুরের জাজিরা নাওডোবা পয়েন্টে পদ্মা সেতুর নদী শাসন  কাজের  উদ্ধোধী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, শিল্প মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, নৌ পরিবহন মন্ত্রী  শাজাহান খান, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাসিম এমপি, কর্ণেল (অব.) শওকত আলী, সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক, সংসদ সদস্য নুরে আলম লিটন চৌধুরী, পংকজ দেবনাথ, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট নাভানা আক্তার, সেনা বাহীনির প্রধান জেঃ আবু বেলাল মোঃ শহিদুল হক, আই জি পি একেএম শহীদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইকবাল সোবহান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য একেএম এনামুল হক শামীম, জেলা প্রশাসক রাম চন্দ্র দাস, পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন, পদ্মাসেতু বাস্তবায়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোকা সিকদার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আঃ রব মুন্সি, সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, প্রধান মন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী ও  হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com