রক্তাক্ত ১৫ আগস্ট

ইউছুফ আরমান :
“যতদিন রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান,
ততদিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মজিবুর রহমান”
রক্তাক্ত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। বাংলার আকাশ বাতাস নিসর্গ প্রকৃতি ও অশ্রুসিক্ত হওয়ার দিন। কেননা ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দ এই দিনে আগস্ট আর শ্রাবণ মিলেমিশে একাকার হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর রক্ত আর আকাশের মর্মছেঁড়া অশ্রুর প্লাবনে। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট যখন পূর্বের আকাশে সূর্যের লালিমা ছড়াচ্ছে তখন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে নিজ বাসভবনে স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে বুলেটের বৃষ্টিতে ঘাতকরা ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল, তখন যে বৃষ্টি ঝরছিল, তা যেন ছিল আকাশেরই অশ্রুপাত। রক্তভেজা বাতাস বয়ে কেঁদেছে সমগ্র বাংলায়। ঘাতকদের উদ্যত সঙ্গিনের সামনে ভীতসন্ত্রস্ত বাংলাদেশ বিহ্বল হয়ে পড়েছিল শোকে আর অভাবিত ঘটনার আকস্মিকতায়। অনির্বাণ সেই শোক এখনও বাংলার নদীর স্রোতের মতো চির বহমান। কাল থেকে কালান্তরে জ্বলবে এ শোকের আগুন। ১৯৭১-এর পঁচিশে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নৃশংস গণহত্যা ঘটনার সঙ্গে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট মধ্যরাতের এই বর্বর হত্যাকান্ডই তুলনীয় হতে পারে যেখানে নারী-শিশুসহ নির্বিচারে একটি বর্বর গণহত্যা চালানো হলো। একাত্তরে গণহত্যা করল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আর পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে গণহত্যা চালাল পাক হানাদারদেরই এদেশীয় দোসর সমর্থক কিছু বিশ্বাসঘাতক। মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনায় আস্থাহীন দেশীয় কিছু রাজনীতিকের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বঙ্গবন্ধু নৃশংসভাবে শহীদ হন সেই কালোরাতে। হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মুজিবের স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব (উপরের তলায় হত্যা করা হয়), মুজিবের ছোট ভাই শেখ নাসের, দুইজন চাকর (শৌচাগারে হত্যা করা হয়); শেখ জামাল, ১০ বছর বয়সী শেখ রাসেল এবং মুজিবের দুই পুত্রবধুকে হত্যা করা হয়। সে সময় শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে ছিলেন। তাঁরা ভারত সরকারের কাছে আশ্রয় গ্রহণ করে ভারতে চলে আসেন। তারা নির্বাসিত অবস্থায় দিল্লীতে বসবাস করতে থাকেন। বাঙালী জাতীর জনক হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাঙালী জাতীর অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৪৭, ৫২, ৬৯, ৭০ সহ বিভিন্ন সময়ে মৃত্যুর দ্বার হতে বার বার ফিরে এসেছিলেন। ৭১-এ পাকিস্তানী হায়েনারা যা করতে পারে নাই, সেই কাজটিই অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ও পূর্বপরিকল্পিতভাবে সম্পাদন করে পাপিষ্ঠ ঘাতকরা। ওরা মানুষ নামের হায়েনার দল, ওরা শয়তানের প্রেতাত্মা, ওরা জঘন্য, ওরা বিপদগামী হিংস্র জানোয়ারের দল।
দীর্ঘ ২৪ বছর শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার যে ডাক দিয়েছিলেন তা অবিস্মরণীয়। সেদিন তাঁর বজ্রকণ্ঠে উচ্চারিত
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম
এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’
এই অমর আহ্বানেই স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল নিপীড়িত কোটি বাঙালি। সেই মন্ত্রপূত ঘোষণায় বাঙালি হয়ে উঠেছিল লড়াকু এক বীরের জাতি।
বিশ্ব ও মানবসভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সেদিন তারা কেবল বঙ্গবন্ধুকেই নয়, তার সঙ্গে বাঙালির হাজার বছরের প্রত্যাশার অর্জন স্বাধীনতার মহত্তম আদর্শগুলোকেও হত্যা করতে চেয়েছিল। মুছে ফেলতে অপপ্রয়াস চালিয়েছিল বাঙালির বীরত্বগাথা ইতিহাসের অধ্যায়।
বঙ্গবন্ধুকে দৈহিকভাবে হত্যা করা হলেও তার মৃত্যু নেই। কেননা একটি জাতি রাষ্ট্রের স্বপ্নদ্রষ্টা এবং স্থপতি তিনিই।
এ রাষ্ট্র থাকবে যতদিন,
অমর বঙ্গবন্ধু ততদিন।
বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রতি জাতি আজ গভীর শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করে।

লেখক পরিচিতি
ইউছুফ আরমান
শিক্ষানবিশ আইনজীবি
ফাজিল, কামিল
বি.এ অনার্স, এম.এ, এলএল.বি
দক্ষিণ সাহিত্যিকাপল্লী
বিজিবি স্কুল সংলগ্ন রোড়
৬নং ওয়ার্ড, পৌরসভা, কক্সবাজার
০১৮১৫৮০৪৩৮৮/ ০১৬১৫৮০৪৩৮৮

উপদেষ্টা সম্পাদক : হাসানুর রশীদ
চেয়ারম্যান : মুহাম্মদ শাহজাহান

নির্বাহী সম্পাদক : ছৈয়দ আলম

যোগাযোগ : ইয়াছির ভিলা, ২য় তলা শহিদ সরণী, কক্সবাজার। মোবাইল নং : ০১৮১৯-০৩৬৪৬০

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Email:coxsbazaralo@gmail.com

© 2016 allrights reserved to Sarabela24.Com | Desing & Development BY PopularITLtd.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com