রমযান টার্গেট রেখে বাজারে হরেক রকম ফলের দাম চড়া

তরমুজের দাম শুনে হতাশ ভোক্তা!

তারেকুর রহমান
শহরের আনাছে কানাছে অবস্থিত দোকানগুলোতে সাজানো ফলের গন্ধে মন ভরে উঠলেও দাম বেশ চড়া। দোকানগুলোতে মৌসুমের ফল রমজানের শুরুতে এসে যায়। এ সুযোগে ফলের দাম কিছুটা বেড়ে গেছে। শহরের প্রধান প্রধান সড়কের মোড়, ফুটপাতে বসেছে ফলের ছোট বড় দোকান। থরে থরে সাজানো হয়েছে দেশি-বিদেশি হরেক রকমের ফল। এসব দোকানে ক্রেতাদের ভিড়ও চোখে পড়ে। তবে দাম নিয়ে ক্রেতারা সন্তুষ্ট নন। তারা বলছেন, গত মাসের চেয়ে দাম বেশি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শহরে হরেক রকমের ফলমূল আমদানি হয়েছে। এসব ফলের মধ্যে রয়েছে মাল্টা, আপেল, খেজুর, আনারস ও নাশপাতি। আমদানির পর বিভিন্ন খরচ যোগ করে ফলের দাম বাড়িয়ে ফেলছে বিক্রেতারা।
বিক্রেতারা জানান, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ফলমূল ক্রয় করে কক্সবাজার শহরে এনে তা বিভিন্ন লটে ভাগ করে বিক্রি করি। তাছাড়া ফলের দাম পাইকারি বাজারে বৃদ্ধি হলে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ে। উৎপাদক বা পাইকারদের নিকট থেকে আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়। এছাড়াও যাতায়ত খরচ ও বিভিন্ন কিছুর খরচ তুলনামূলক বেশি।
গতকাল সোমবার (১৩ মে) শহরের গুন গাছতলা, ফজল মার্কেটের সামনে ফলবাজার, বাজারঘাটা ফলবাজার ঘুরে দেখা যায়, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি আপলের দাম ৫০-৬০ টাকা বেড়ে গেছে। দুই সপ্তাহ আগে রয়েল গলা আপেল বিক্রি হয়েছিল ১৬০ টাকা কিন্তু এখন বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা।
দেখা গেছে, ফলের বাজারে সবচেয়ে বেশি তরমুজের দাম। একটি তরমুজ ৮০০-৯০০ টাকাও বিক্রি হচ্ছে বর্তমান ফলের বাজারে। ৪০০ টাকার নিচে কোন সাইজের তরমুজ মিলছে না।
গুনগাছ তলা এলাকার তরমুজ ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন, আমি চট্টগ্রাম থেকে তরমুজ কিনে এনে এখানে ভোক্তাদের সেবা দিই। ১৫ দিন আগেও ১৫০-২০০ টাকার মধ্যে মনের মতো সুন্দর এবং বড় সাইজের তরমুজ মিললেও এখন তা স্বপ্নের মতো, কারণ তরমুজের মৌসুম শেষের পথে। দেশের সব অঞ্চল থেকে তরমুজের ক্ষেত উঠে গেছে। তাই তরমুজের দাম আগুনের মতো। আমাদেরকে বেশি দামে পাইকার থেকে তরমুজ কিনে এনে বিক্রি করতে হয় বলে বিভিন্ন খরচ যোগ করে বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।
ওই ব্যবসায়ী থেকে তরমুজ কিনতে আসা ক্রেতা শরিফুল হাসান বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগেও ১৫০-২০০ টাকার মধ্যে বড় সাইজের তরমুজ কিনেছি কিন্তু আজ একটা তরমুজও ৪০০ টাকা দিয়ে কিনতে পারছি না। এসেছিলাম ৬০০ দিয়ে ৩/৪ টা তরমুজ কিনবো এখন দেখছি ৬ টাকায় মাঝারী সাইজের একটা পাচ্ছি। এটি আসলে আমাদের মতো ছোট খাটো ব্যবসায়ীদের জন্য কষ্টকর। তরমুজ বেশি প্রয়োজন বলে ৬০০ টাকা দিয়ে তরমুজ কিনলাম অন্যথায় জীবনেও এতো দাম দিয়ে তরমুজ কিনতাম না।

একই এলাকার আনারস ব্যবসায়ী সুজন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে আনারসের ব্যবসায় জড়িত। রাঙামাটি থেকে আমি আনারস কিনে এনে এখানে বিক্রি করি। রোজার আগে জোড়া আনারস বিক্রি করতাম ৪০ টাকা দিয়ে কিন্তু এখন জোড়া ৭০-৮০ টাকা। পুরাতন ব্যবসায়ী বলে এতো দামে বিক্রয় করতে মন না চাইলেও করার কিছু নাই। কারণ আমাকে আগের তুলনায় বেশি দাম দিয়ে আনারস গুলো কিনতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি তিনি ভাঙ্গি কিনে কুমিল্লা থেকে। ভাঙ্গির দাম আগের দর থেকে তুলনামূলক সামান্য বাড়া। আগে একটা ১৫০-২৫০ টাকায় একটি ভাঙ্গি পাওয়া গেলেও এখন ১৬০-২৭০ টাকার মধ্যে সমান সাইজের ভাঙ্গি কেনা যায়।

গুরা মিয়া সওদাগর শহরের কস্তুরাঘাট এলাকা থেকে কিনে গুনগাছ তলায় বিক্রি করেন। সে জোড়া ৫৪ টাকা দিয়ে কিনে ৭০ টাকায় বিক্রি করে।
এখন খুচরা বাজারে ফৌজি আপেল প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি শ’ লিচু ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে ১০০ লিচু ২৫০ টাকায়ও বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও মাল্টা আগে প্রতি কেজি ১৮০ টাকায় পাওয়া গেলেও তা এখন কিনতে হচ্ছে ২৪০ টাকায়। ১ কেজির পাকা পেঁপে ৮০ থেকে ১৩০, তবে অস্ট্রেলিয়ান আঙুরের দাম কমেছে আগে প্রতি কেজি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন ৪২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে এ জাতের আঙুর। মনক্কা আঙুর আগে ছিল কেজি ২৫০ টাকা এখন ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ইন্ডিয়ান আঙুরের দাম অপরিবর্তিত আগের মতো এখনও প্রতি কেজি ৩০০ টাকা।
রমজানের সময় আমের ভরা মৌসুম। কিন্তু আমের দাম এখনও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বাজারে হিমসাগর আম ব্যবসায়ীরা ১৮০ টাকায় কিনে ২০০ টাকায় বিক্রয় করছে।

ফল ব্যবসায়ী তুষার বাবু জানান, রমজানের সাথে সাথে আমেরও আগমন ঘটছে নতুন হিসেবে প্রথম প্রথম দাম একটু বেশি হলেও আস্তে আস্তে কমে যাবে।

ফলমূলের দাম বাড়ার কারণ প্রসঙ্গে কক্সবাজার ফল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন এই শহরে ফল আসে। তবে কোনো সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ ফল না এলে দাম বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেশি দামে কিনে আনতে হয় বলে তারা বেশি দামে বিক্রি করে ফলে সমিতির পক্ষ থেকে তাদের চাপ দিতে পারিনা আমরা। কারণ আমরা সভাপতি- সাধারণ সম্পাদক নিজেরাও বেশি দামে ফল কিনে এনে ব্যবসা করছি। সুতরাং তা আমরা বুঝছি। আমি দীর্ঘদিন ধরে ফল ব্যবসা করে আসছি। এবারের মতো দাম বৃদ্ধি কখনো দেখেনি, বিশেষ করে তরমুজের দাম। নিজেও একজন তরমুজের দক্ষ ব্যবসায়ী আমি। কিন্তু তরমুজের দাম বৃদ্ধির কারণে আমি এ ব্যবসা এখন বন্ধ রেখে লিচু ব্যবসা করছি। রাঙামাটি থেকে লিচু একশ ১৭০ টাকা করে কিনে এনে ২০০ টাকায় বিক্রি করছি।

রমজান উপলক্ষে ফলমূলের দাম বেশি বলে মনে করছেন বিক্রেতা সবাই। তবে অন্যান্য সময় থেকে এবারের ফলমূলের দাম অতিরিক্ত বলে দাবী তাদের। বেশি দামে কিনে এনে বেশি দামেই বিক্রি না করলে তারা ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্থ হবেন বলে জানান। পাইকারী ভাবে সস্তা পেলে এখানেও সস্তা বিক্রি করতে পারতেন বলে জানান খুচরা ব্যবসায়ীরা।

উপদেষ্টা সম্পাদক : হাসানুর রশীদ
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ শাহজাহান

নির্বাহী সম্পাদক : ছৈয়দ আলম

যোগাযোগ : ইয়াছির ভিলা, ২য় তলা শহিদ সরণী, কক্সবাজার। মোবাইল নং : ০১৮১৯-০৩৬৪৬০

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Email:coxsbazaralo@gmail.com