1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :
শিরোনাম :
ঈদগাঁওতে অবৈধ গ্যাস সিলিন্ডারের গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ : দগ্ধ ২ করোনার অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় প্রস্তুত ১০ জেলা লালদিঘী পাড় মসজিদের শুভ উদ্বোধন ও ২৬ জন মুচিকে স্থায়ী দোকান দিলো কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ইসলামাবাদে হাতির পালের বসতবাড়ী ভাংচুর: চরম আতংকে এলাকাবাসী হিমছড়ি পাহাড়ের সিঁড়ি থেকে পড়ে কিশোরের মৃত্যু প্রথম ধাপে ভাসানচরে পৌঁছেছে ১৬৪২ রোহিঙ্গা একদিনে আরও ২৪ মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২২৫২ কর্ণফুলী নদী হতে রোহিঙ্গা ভর্তি ৭টি জাহাজ ভাসানচরের পথে করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসাদুজ্জামান নূর করোনা ভ্যাকসিনকে ‌‘বিশ্ব জনপণ্য’ বিবেচনার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রাত জেগে সেলাই, দিনে লেখাপড়া!

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০১৫
  • ২১ দেখা হয়েছে

কক্সবাজার আলো ডেস্ক :
‘আইন বিষয়ে লেখাপড়া করার স্বপ্ন আমার। কিন্তু সব সাধ কী পূরণ হয়? এবার হয়তো লেখাপড়ার পাট চুকিয়ে ফেলতে হবে।’ এসব বলে চোখ ছল ছল করে উঠলো শোভা খাতুনের। অদম্য মেধাবী শোভা এবার এইচএসসি পরীক্ষায় নীলফামারীর সৈয়দপুরের লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ হতে মানবিক বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে যাওয়া হয় শোভা খাতুনদের বাসায়। রেলের জমিতে কোন রকমে ঘর তুলে মাথা গোঁজার ঠাঁয় হয়েছে তাদের।
শোভার বাবা মো. ইকবাল হোসেন বাড়ির সাথে একটি পান দোকান দিয়েছেন। ওই দোকানে তিনি ফ্লাক্সে চাও বিক্রি করেন। কারণ তিনি জানেন পান দোকানে পান সিগারেট বিক্রি করে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা আর সংসারের খরচ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
এদিকে বাবার সামান্য আয়ে পড়াশোনার খরচ যোগানো মুশকিল, তাই শোভাকে বেছে নিতে হয় সেলাইয়ের কাজ। সে জানায় আর অন্যরা যখন ঘুমে মগ্ন তখন রাত জেগে সেলাই করেছে। কোন রকম খেয়ে না খেয়ে চোখে ঘুম নিয়ে নিয়মিত কলেজে গিয়েছে। শোভা জানান, তাঁর বাবা আগে ছিলেন অংকন শিল্পী (রাজা আর্ট)। সুন্দর ছবি আঁকতেন তিনি। বাজারে তাঁদের সাইনবোর্ড লেখার দোকান ছিলো। এখন ডিজিটাল সাইনবোর্ড-ব্যানারের যুগ। তাই অংকনে আর কদর নেই। ফলে সামান্য পুঁজি নিয়ে বাবা ছোট্ট একটি পান দোকান দিয়েছেন।
শোভার সঙ্গে তাঁর বড় ভাই মো. রাজাও একই কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁর প্রাপ্ত ফলাফল হচ্ছে জিপিএ-৪.৯২। ওই ফলাফলে সন্তুষ্ট হতে পারেননি রাজা। তাই তিনি ফল মূল্যায়নের জন্য দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে চ্যালেঞ্জ করেছেন। শোভা বললেন, তাঁর ভাই অনেক মেধাবী। বাবার চা-পান দোকানে বসে বেচাকেনার পাশাপাশি পড়াশোনা দোকানেই চালিয়ে গেছেন। তিনি অবশ্যই জিপিএ-৫ পাবেন বলে বিশ্বাস শোভার।
শোভা তাঁর ভালো ফলাফলের জন্য কলেজের সকল শিক্ষকের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, আমার এবং বড়ভাই রাজার কোন প্রাইভেট শিক্ষক ছিলোনা। সেক্ষেত্রে ক্লাসের সকল স্যার আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছেন। তিনি জানান, আমি নিজের লেখাপড়া চালানোর পাশাপাশি রাত জেগে করেছি কাপড় সেলাইয়ের কাজ। আমার স্বপ্ন একজন ভালো আইনজীবী হবো। যেসব গরীব মানুষ আইন সহায়তা পাননা, তাদের জন্য লড়বো। কিন্তু আমি জানি, উচ্চ শিক্ষা নিতে চাইলে আমাকে সেলাইয়ের কাজ ছাড়তে হবে। ওই কাজ ছাড়লে পড়াশোনার খরচ কী জুটবে? তাঁর চেয়ে একমাত্র বড় ভাই ও ছোট বোন হেনা খাতুনকে মানুষের মত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে আমাদের সংসারে সুখ আসবে। বাবা মার মুখে হাসি ফুটবে। বাবা আমাদের ৩ ভাই বোনের জন্য অনেক কষ্ট করছেন। আমি তাঁদেরকে আর কষ্টে রাখতে চাইনা।
এদিকে এইচ এস সিতে জিপিএ-৪.৯২ পাওয়া শোভার বড় ভাই রাজা জানায়, আমি নিশ্চিত ছিলাম এবারের ফলাফলে আমি জিপিএ-৫ অর্জন করবো। কিন্তু তা হয়নি। তবে আমি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করেছি।
রাজা ও শোভা খাতুন প্রসঙ্গে লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ রেয়াজুল আলমের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান দু ভাইবোন অনেক মেধাবী। মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। শোভা সেটা অর্জন করেছেন। তবে ওদের পরিবার হতদরিদ্র তা আমার জানা ছিলোনা। মেধাবী শোভা যেন উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পান এই প্রত্যাশা করছি। এজন্য সমাজের বিত্তবানদের সহায়তা কামনা করছি।
ভরা বর্ষায় নেই বৃষ্টি।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com