রাত পোহালেই ভোট : উৎসব ও শঙ্কার দোলাচল

ছৈয়দ আলম, কক্সবাজার আলো :
কিছুটা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও বলছে নানা শঙ্কার কথা শুরু থেকেই। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগেরও অন্ত নেই। এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং কর্মকর্তা। আর মাত্র একটি দিন। রাত পোহালেই কাল রবিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে।
কক্সবাজার ৪ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে অনেকটা রাজনীতিতে উত্তেজনা আছে। বরাবরের মতো সহিংসতার আশঙ্কাও উড়ে দেয়া যায় না। দীর্ঘদিনের নির্বাচনের ‘অভিজ্ঞতায়’ ভোট কারচুপির শঙ্কা করছেন ঐক্যফ্রন্টের ার্থীরা। এতসব শংকা নিয়ে মামলা-হামলা ও এজেন্টদের ভয়ভীতি করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে কক্সবাজার সদর-রামু আসনের ধানের শীষ ার্থী সাবেক এমপি লুৎফুর রহমান কাজল সাংবাদিক সম্মেলন করেছে শনিবার সন্ধ্যায়। তবে আওয়ামী লীগ বলছে, ভোট উৎসব হবে কক্সবাজারে। জনগণ ভোট দিতে উদগ্রীব হয়ে আছে।
বহু কাংখিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮। এরই মধ্যে শেষ হলো প্রচার-প্রচারণা। ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু হবে বলে প্রত্যাশা করছে কক্সবাজার জেলার ভোটাররা।
জেলার চারটি আসনে শেষ দিনে প্রচারণা চালিয়েছে প্রার্থীরা। জেলার বিভিন্ন স্থানে টানটান উত্তেজনায় ভোট টানতে ব্যস্ত দেখা গেছে প্রার্থীদের। প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাশাপাশি অন্যান্য দলের প্রার্থীদেরও নাম সর্বস্ব প্রচারণাও লক্ষ্য করা গেছে। প্রশাসনের কড়াকড়ির কারণে বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদের শেষ প্রচারণা। তবে কক্সবাজার সদর-রামু আসনে ধানের শীষের শেষ পথসভায় আসার পথে শহরের কালুরদোকানে মিছিলে ক্ষমতাসীনদল ও পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছে ১১ নেতাকর্মি। এছাড়া টেকনাফের হ্নীলা রংগীখালীতে ধানের শীষের নেতাকর্মিদের না পেয়ে রাতে অভিযান চালিয়ে অন্তত ৮ জন মহিলাকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেছে টেকনাফ থানা পুলিশ।
রিটার্নিং অফিস সুত্র জানায়-রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ। কোনও বিরতি ছাড়া চলবে ওইদিন ৪টা পর্যন্ত। ওই জনরায়ের ফলে গঠিত হবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য নতুন সরকার।
কক্সবাজার জেলার ৪টি পৌরসভা ও ৭১ ইউনিয়নের ৫১২ ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ২০৪ জন। সেখানে ৭ লাখ ৭ হাজার ৮৩১ জন পুরুষ এবং ৬ লাখ ৫৭ হাজার ৩৭৩ জন মহিলা। ভোট কক্ষের সংখ্যা ২ হাজার ৭৩৮টি।
জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ববি হাজ্জাজের দল এনডিএম ও চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীসহ মোট প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী ২৮ জন।
জনগণের বহু প্রত্যাশিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার জেলার চার আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন আওয়ামী লীগ ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা। এর মধ্যে তিন আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এবং একটি আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে জামায়াত মুখোমুখি প্রতিদ্বন্ধীতায় রয়েছে। এছাড়াও আরো কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশ নিলেও তারা কেউই মাঠে নেই বললে চলে। যদি অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে জেলার চার আসনেই প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
কক্সবাজার-১ আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদের স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য হাসিনা আহমদ এবং চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, নির্বাচনের আগে পদত্যাগ করা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলম।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে প্রতিদ্বন্ধীতায় রয়েছেন তিন প্রার্থী। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, ২০ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী কারাবন্দী জামায়াত নেতা এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ ও ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ।
কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমল ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। তবে, কক্সবাজার সদর আসনটিতে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মফিজুর রহমানও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণায় তৎপর ছিলেন।
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনেও প্রতিদ্বন্ধীতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী। বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির স্ত্রী শাহীন আকতার ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী মূল প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী।
জেলার চারটি আসনে ভোটের পরিসংখ্যান:
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) :
চকরিয়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন এবং পেকুয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়েই কক্সবাজার-১ আসনটি গঠিত। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯০ হাজার ৬৮১ জন। ভোট কেন্দ্র সংখ্যা ১৩৯টি।
চকরিয়া উপজেলায় ১৮টি ইউনিয়নের ৯৯টি ভোট কেন্দ্রের বিপরীতে এক লাখ ৪৮ হাজার ৮০৫ জন পুরুষ ও এক লাখ ৩৫ হাজার ৬০৬ জন নারী মিলিয়ে ভোটার রয়েছে দুই লাখ ৮৪ হাজার ৪১১ জন।
পেকুয়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৪০ ভোট কেন্দ্রের বিপরীতে ৫৫ হাজার ৬২০ জন পুরুষ ও ৫০ হাজার ৬৫০ নারীসহ ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৬ হাজার ২৭০ জন।
কক্সবাজার-২ (কুতুবদিয়া-মহেশখালী) :
কুতুবদিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন এবং মহেশখালী উপজেলার একটি পৌরসভার ৮টি ইউনিয়ন নিয়েই কক্সবাজার-২ আসনটি গঠিত। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯৬ হাজার ৮১ জন। ভোট কেন্দ্র সংখ্যা ১০৫টি।
কুতুবদিয়া উপজেলায় ৬ ইউনিয়নের ৩৭টি ভোট কেন্দ্রের বিপরীতে ৪৪ হাজার ২৩ জন পুরুষ ও ৪০ হাজার ৪৪২ জন নারী মিলিয়ে ভোটার রয়েছে ৮৪ হাজার ৪৬৫ জন।
মহেশখালী উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নে ৬৮ ভোট কেন্দ্রের বিপরীতে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৯ জন পুরুষ ও ১ লাখ ১ হাজার ৬৬৭ নারীসহ ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ১১ হাজার ৬১৬ জন।
কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) :
কক্সবাজার সদর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন এবং রামু উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়েই কক্সবাজার-৩ আসনটি গঠিত। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৪ হাজার ৩৬ জন। ভোটকেন্দ্র সংখ্যা ১৬৮টি।
সদর উপজেলায় ১০৮টি ভোট কেন্দ্রের বিপরীতে এক লাখ ৩৫ হাজার ১৪ জন পুরুষ ও এক লাখ ২১ হাজার ৪ জন নারী মিলিয়ে ভোটার রয়েছে দুই লাখ ৫৬ হাজার ১৮ জন।
রামু উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ৬১ ভোট কেন্দ্রের বিপরীতে ৮১ হাজার ৪১০ জন পুরুষ ও ৭৬ হাজার ৬০৮ নারীসহ ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৫৮ হাজার ১৮ জন।
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) :
উখিয়া উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন এবং টেকনাফ উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন নিয়েই কক্সবাজার-৪ আসনটি গঠিত। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৪ হাজার ৪০৬ জন। ভোট কেন্দ্র সংখ্যা ১০০টি।
উখিয়া উপজেলায় ৪৫টি ভোট কেন্দ্রের বিপরীতে ৬০ হাজার ৪৮৮ জন পুরুষ ও ৫৮ হাজার ২৯৭ জন নারী মিলিয়ে ভোটার রয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৫ জন।
টেকনাফ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়নে ৫৫ ভোট কেন্দ্রের বিপরীতে ৭২ হাজার ৫২২ জন পুরুষ ও ৭৩ হাজার ৯৯ নারীসহ ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৪৫ হাজার ৬২১ জন।

উপদেষ্টা সম্পাদক : হাসানুর রশীদ
সম্পাদক ও প্রকাশক : মুহাম্মদ শাহজাহান

নির্বাহী সম্পাদক : ছৈয়দ আলম

যোগাযোগ : ইয়াছির ভিলা, ২য় তলা শহিদ সরণী, কক্সবাজার। মোবাইল নং : ০১৮১৯-০৩৬৪৬০

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Email:coxsbazaralo@gmail.com