1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. shahjahanauh@gmail.com : কক্সবাজার আলো : কক্সবাজার আলো
  3. syedalamtek@gmail.com : syedalam :

রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কে ইজারাদারের অতিরিক্ত টোল আদায়

  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫
  • ২৩ দেখা হয়েছে

কৃষি পণ্য ক্রয় ও পরিবহণ ধর্মঘটে বিপাকে কৃষকরা
সোয়েব সাঈদ, রামু :
রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কে বান্দরবান জেলা পরিষদের আওতাধিন ইজারাদার কর্তৃক অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদে ব্যবসায়ি, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ব্যতিক্রমী কর্মসূচি শুরু করেছে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বৃহষ্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রামুর গর্জনিয়া বাজার এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নাইক্ষ্যংছড়ি বাজার ও চাকঢালা বাজারে কোন পাইকারি ব্যবসায়ি পণ্য ক্রয় করেননি। এতে দুই উপজেলার ব্যবসায়িরা প্রায় ৩০ লাখ টাকার সবজি সহ কৃষি পণ্য বিক্রি করতে পারেনি।
আর ব্যবসায়িদের সাথে একাত্মতা জানিয়ে পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা সকল প্রকার যানবাহনে এসব এসব এলাকায় উৎপাদিত কৃষি পণ্য পরিবহণ করেনি। এরফলে দুই উপজেলার হাজার হাজার কৃষক নিজেদের উৎপাদিত ফসল বাজারে এনেও বিক্রি করতে পারেনি। আবার অনেকে ক্রেতা না পেয়ে নিজেদের উৎপাদিত সবজি পানির দরে বিক্রি করেছেন।
কৃষিপণ্যের বেচাকেনায় অভিনব এ ধর্মঘট চলাকালে রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কে শত শত ব্যবসায়ি এবং পরিবহণ শ্রমিক ইজারাদারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারিরা ২৪ ঘন্টার মধ্যে অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধ এবং ব্যবসায়ি ও পরিবহণ শ্রমিকদের মারধর, হুমকি সহ অসৌজন্যমূলক ব্যবহার বন্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
রামুর সবজি ব্যবসায়ি মোস্তাক আহমদ, আবদুল মালেক ও বেলাল আহমদ জানান, তারা নিয়মিত রামুর গর্জনিয়া বাজার এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার নাইক্ষ্যংছড়ি ও চাকঢালা বাজার থেকে পাইকারি দামে সবজি কিনে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছেন। কিন্তু কৃষি পণ্য কিনে আসার পথে নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় প্রধান সড়কে জেলা পরিষদ এবং নাইক্ষ্যংছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের নিয়োগকৃত পৃথক ইজারাদাররা ব্যবসায়িদের কাছ থেকে নির্ধারিত পরিমানের ২ থেকে ২০ গুন বেশী টোল আদায় করে আসছেন। এ নিয়ে কোন ব্যবসায়ি বা পরিবহণ শ্রমিক প্রতিবাদ করলেই চলে গালিগালাজ, হুমকি, মারধর সহ নানা প্রকার নির্যাতন।
ব্যবসায়ি নুরুল কাদের জানান, সবচেয়ে বেশী টোল আদায় করছেন বান্দরবান জেলা পরিষদের ইজারাদার আবু তাহের এবং ফরিদুল আলম। সবজি এবং হাঁস, মুরগী, গরু-ছাগল সহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে আসা ব্যবসায়িরা এদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে।

ব্যবসায়ি তাহের ও বেলাল আহমদ জানান, জেলা পরিষদ নিয়োজিত ইজারাদার ব্যবসায়িদের জন্য বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি ছোট বস্তা ১০ টাকার পরিবর্তে ৬০ টাকা, লেবুল ঝূড়ি ৫০ টাকার পরিবর্তে ১৫০-২০০ টাকা, ছোট শুকনো লাকড়ির বান্ডিল ২ টাকার পরিবর্তে ৭ টাকা, প্রতিটি মুরগী ৫০ পয়সার পরিবর্তে ৫ টাকা করে নিচ্ছে এখানকার ইজারাদার।
রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের সবজি ব্যবসায়ি আবু তাহের জানান, ১ সপ্তাহ আগে তিনি সবজি নিয়ে ফেরার পথে জেলা পরিষদের ইজারাদারদের সাথে তার টোল আদায় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ইজারাদাররা তাকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে আহত করে।
রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৈয়ব উল্লাহ চৌধুরী জানিয়েছেন, গর্জনিয়া বাজারের সাপ্তাহিক হাট বসে রোববার ও বৃহষ্পতিবার। এখানে কক্সবাজার এবং জেলার বাইরের পাইকারি ব্যবসায়িরা এসে কৃষকের উৎপাদিত সবজি এবং হাঁস, মুরগী, গরু-ছাগল সহ বিভিন্ন পণ্য ক্রয় করে। কিন্তু অতিরিক্ত টোল আদায়ের কারনে গতকাল বৃহষ্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পাইকারি ব্যবসায়িরা বাজারে আসেনি। ফলে কৃষকরা পণ্য বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারেনি। অনেক কৃষক তাদের পন্য পানির দামে বিক্রি করতে হয়েছে। আবার কেই বিক্রি করতে না পেরে নদীতে ফেলে দিয়েছেন। তিনি একদিনে গর্জনিয়া এবং কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের কৃষকদের দশ লাখ টাকার বেশী ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন।
রামু উপজেলা পরিবহণ মোটর শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি আহসান উল্লাহ জানান, ব্যবসায়িদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল নেয়ার পাশাপাশি জেলা পরিষদ ও নাইক্ষ্যংছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ইজারাদাররা পরিবহণ শ্রমিকদের গালি-গালাজ এবং মারধর করে। তাই রামুর সব পরিবহণ ব্যবসায়িদের সাথে সহমত জানিয়ে গতকাল থেকে এসব এলাকার পণ্য পরিবহন করছে না। ২৪ ঘন্টার মধ্যে ব্যবসায়ি এবং পরিবহণ শ্রমিকদের দাবি না মানলে আরো বৃহৎ কর্মসূচি ঘোষনা করা হবে।
রামুর আম চাষি মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমদ জানান, এবার রামুর কৃষকরা চাল বিক্রি করতে না পেরে বড় ধরনের লোকসান দিয়েছে। এবার ইজারাদারের অতিরিক্ত টোল আদায়ের কারনে ব্যবসায়িরা বিমুখ হওয়ায় কৃষকরা উৎপাদিত সবজি ও কৃষি মালামাল বিক্রি করতে পারছেনা। গতকালের ধর্মঘটে রামু-নাইক্ষ্যংছড়ির কৃষকদের ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শীঘ্রই এ অবস্থার নিরসন না হলে কৃষকরা নিঃস্ব হয়ে যাবে। এখন ঈদের মৌসুম তাই কৃষকদের কথা ভেবে অতিরিক্ত টোল আদায় ও ব্যবসায়ি, পরিবহণ শ্রমিকদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে সবজি ও কৃষিপণ্য ক্রয়ে ধর্মঘটের ডাক দেয়া ব্যবসায়ি ও পরিবহণ শ্রমিকরা যৌথ সভার আয়োজন করেছে। সভায় এ ব্যাপারে বান্দরবান জেলা প্রশাসক সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বান্দরবান জেলা পরিষদের আওতাধিন টোল আদায়কারি (ইজারাদার) আবু তাহের জানান, অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ্য মিথ্যে। ব্যবসায়িদের কাছে যতটুকু মালামালের টোল নিচ্ছেন তার রশিদ দিচ্ছেন। তবে তার কয়েকজন কর্মচারি টোল আদায় নিয়ে ব্যবসায়ি এবং পরিবহণ শ্রমিকদের সাথে দূর্ব্যবহার করেছেন বলে শুনেছেন। বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না। জানলে সময়োপযোগি ব্যবস্থা নিতেন। এ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

এই বিভাগের আরও খবর
  • © ২০১৪ - ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | কক্সবাজার আলো .কম
Site Customized By NewsTech.Com